সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকার নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। সরকাররি কর্মকর্তাদের শেয়ারবজারে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় জনপ্রসাশন মন্ত্রনালয় এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। বুধবার রাতেই আবার সঠিক বললে ঘণ্ট দুয়েকের মধ্যে সেটা আবার প্রত্যাহার করা হয়।
গত দুই দিন পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের নেয়া বিভন্ন উদ্যোগ দেখে মনে হয় সরকার নিজেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে।
সরকার চালায় কে? আমার মত পুটিমাছ নিশ্চয় নয়। চালায় রাখব বোয়াল। তাহলে এত বড় একটা সিধান্ত এমন অর্বাচীনের মত নেয়া হলো কেন? কেন প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো আর কেনই বা সেটা প্রত্যাহার করা হলো? আইন তো আছেই সেটার প্রয়োগ হলেই তো হতো। কেন সেটা আবার নতুন করে জানান দেয়া হলো। তাহলে এটাই সত্য যে বাজারে বড় ধরনের কারসাজির জন্যই লোক দেখানো এই প্রজ্ঞাপন?
আশুন একটু আলোকপাত করা যাক। গত সোমবার মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে পুঁজিবাজারে সরকারি কর্মকর্তাদের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীল প্রেস সচিব সাংবাদিক;েদর বলেন,“ শেয়ারবাজারে সরকারি কর্মকর্তাদের বিনিয়োগের বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।”
এর প্রেক্ষিতে দরপতনের আশঙ্কায় মঙ্গলবার ডিএসই ও সিএসই তাদের লেনদেন বন্ধ রাখে।
বুধবার সকালে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান,“গত সোমবার কেবিনেট সভায় কোন পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন না এমন কোন সিধান্ত হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত সত্য হলো তাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে কোন বাধা নেই।”
এর পরেই সন্ধ্যায় জনপ্রসাশন মন্ত্রনালয় কর্মকর্তাদের বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আবার রাতেই সেটা প্রত্যাহার করা হয়।
সরকারের এমন দ্বৈত সিধান্তের ফলে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। একই সঙ্গে বিভ্রান্ত হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এখন বাজারের যে প্রধান সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট সেটা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

