somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্প. এক চিলতে মিষ্টি হাসি

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ছোটগল্প.. এক চিলতে মিষ্টি হাসি

প্রথম দেখায় দেখেছিলাম স্কুল ড্রেসে.. না ভুল হলো.. কলেজ ড্রেসে.. সেই রাস্তায়..। আমার মেসের সামনের পিচঢালা মাঝারি প্রশস্ত পথ.. ছোট কিংবা হালকা যান চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক। স্কুল, কলেজ কিংবা মূল শহর থেকে ফেরার জন্য প্রতিনিয়ত শত যানবাহন, অটোরিকশা ব্যবহার ছাড়াও দুপাশে সবুজ পাতার গাছের সারি আর স্থির জলাশয়ের স্বচ্ছ পানিতে একঝাক হাঁসের ভেসে চলা মনোরম দৃশ্য অবলোকন করতে করতে পথ হেটে গন্তব্যে পেীছায় অনেকে..।
সারাদিনের অবসাদ, ক্লান্তি দূর করতে প্রায়ই বন্ধুসহ এই পথ দিয়ে যাই প্রিয় ক্যাম্পাসে এক সতেজ মনোমুগ্ধকর সবুজ শান্ত স্নিগ্ধ অনুভূতির জন্য। যাহোক প্রায়ই যেমন এই পথের যাত্রী হতে হয় তেমনি মাঝে মধ্যে দর্শন মেলে ঐ শত পথচারির মাঝে মন কেড়ে নেওয়া একটি মেয়ের...। জানি না.. চিনি না.. তবে চেনা চেনা লাগে। দেখা মাত্রই এক চিলতে মিষ্টি মুচকি হাসি দিত আর পাশ কেটে চলে যেত মেয়েটি। দেখা পেতাম প্রায় একই সময়ে বিকাল ৪.৪৫ থেকে ৫টা কিংবা তার কিছু আগে পরে। এইতো সেদিন দুই বন্ধু ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দুর থেকে আমার চোখ আটকে গেল..
এই তো সেই.. সুন্দর ভঙ্গিমায় হেটে চলা.. হুম আজ হিজাব পরিহিত.. একটু কাছে আসতেই সেই এক চিলতে মিষ্টি মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নত করে নম্রভাবে পাশ কেটে গেল..। এরকম কোন হাসি আগে কারো দেখেছি .. নাহ! মনের অ্যালবামে পাই না। ও পাশ কেটে গেল কিন্তু কিছু নিয়ে গেল..। বন্ধুকে বললাম নাম পরিচয় চাই.. কি করি , শেষমেশ বুঝি মিষ্টি হাসির ফাদে পড়ি।
দিন যায় .. মাঝে মধ্যে মিষ্টি হাসির আঘাতে মচকানো হৃদয় মোচড় দিয়ে ওঠে। কি করি কখনো কোন মেয়ের সাথে সেভাবে কথা বলিনি.. তাও আবার অচেনা.. মরছি..। তবুও আমার তার মিষ্টি হাসি চাই। বন্ধু বলল অপেক্ষা কর। পরবর্তী দিনে অবশ্যই কথা বলব চিন্তা করিস না। হুম! সেই অপেক্ষায...।
এরপর নির্দিষ্ট সময়ে মেসের গেটের বাইরে অপেক্ষা । আসবেই তো। কিন্তু না .. এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল.. আমার ভাবনাও বেড়ে গেল.. পাবো তো দেখা.. আর একটি বারের মতো। শেষ দেখা অন্তত..। পাবোই তো দেখা। তবে কিভাবে শুরু করব প্রথমে.. নাম শুনতে চাইব.. না.. আমার পরিচয় আগে দিব.. এই মেয়ে শেনো তোমার নাম কি? নাহ.. প্রথমে হ্যালো.. শুনছেন..। ধুর... এসব চিন্তা করতে করতে রাতে ঘুম যেতে দেরি করি .. যার ফল সকালে উঠতে দেরি। আর ক্লাস মিস। বন্ধু বলল.. তোর খবর কি? এত পানচুয়াল ছেলে অথচ ইদানিং সবকিছুতেই লেট। এরকম হলে চলবে। দোস্ত তুই দেখ না কি করা যায়? ক্যান বিকালে বের হবো দেখা হলেই কথা বলব। তা তো যাবি.. আমার যে তর সইছে না।
এত আকুল হলে তো হবে না.. হয়তো গতকাল আসেনি কারণ শনি-সোম-বুধ এর যাত্রীও হতে পারে। অর্থ্যাৎ প্রাইভেট অথবা কোচিং এ সপ্তাহে তিনদিন পড়তে পারে সেজন্য গতকাল আসেনি হয়তো। আজ বুধবার দেখা হলেও হতে পারে। ও তাই তো.. দোস্ত রেডি থাকিস আর সময় হলে আমায় বলিস।
...সময় ৫.৪৫ মিনিট। দ্রুত বের হলাম দেখি বন্ধু রুমে নাই। ওহ.. তাহলে একা যেতে হবে! তবু যাবো.. চললাম ক্যাম্পাস অভিমুখে দেখা হলেও হতে পারে। কিন্তু এত সাহস তো নেই একা কথা বলার.. তবুও কেন জানি খুব কনফিডেন্ট পাচ্ছি। ক্যাম্পাসে প্রবেশ দ্বারে ঢুকতে না ঢুকতেই... এইতো মিষ্টি মুচকি হাসির সেই মেয়ে। ওহ.. যা খুশি লাগছে.. কিন্তু প্রথম দেখার মতো আমার হৃদস্পন্দন বাড়ছে না ! এগিয়ে সামনে দাড়ালাম অমনি বলা শুরু করলাম.. খুব ভালো লাগে .. মানে তোমার হাসিটা.. আর চলাটাও.. না মানে হেটে চলা..। সে তাৎক্ষনিক আমায় থ্যাংক ইউ ভাইয়া বলে পাশে থাকা অটোরিকশায় উঠলো আর বললো আমার পরীক্ষা চলছে.. বাসায় যাবো দেরি হচ্ছে। আমি তড়িৎগতিতে বললাম তোমার ফোনটা.. আরে না.. মোবাইল নম্বরটা..। না থাক.. আচ্ছা না.. আমারটা দিচ্ছি। পারলে ফোন দিও। ও তাই.. তবে দেন ভাইয়া তারাতারি..।
ওহ! মোবাইল নম্বর নিতে চাওয়ায় আমার উত্তেজনা বেড়ে গেল। কোথায় কাগজ.. না নেই.. তাহলে টাকায় লিখে দেই। নাও..। ভাইয়া একি ! ক্যান কি হইছে? আরে নাম্বার তো ৯টা ডিজিট দিয়েছেন। আর ২টা?.. কী? দাও তো দেখি ও তাই তো। আবার লিখলাম কিন্তু ভুল হচ্ছে.. ওহ! কি হচ্ছে এসব ! আমার কি হলো ! ভাইয়া আসি দেখা হবে..। অটোরিকশা ততক্ষনে ছেড়ে দিয়েছে.. আমি জোরে বলছি.. তুমি লিখো আমি বলছি নাম্বারটা... ০৭১.. ধুর..০১৭...
ঔ গাধা.. ওঠ। আরে গাধা ৫টা পার হলো। কখন বের হবি, সেমিনার আছে ওঠ।
হকচকিয়ে উঠলাম.. ঘুম ভেঙ্গে দেখি!!! আমি ক্যাম্পাসে.. না এ তো বেডে.. ওহ শিট!! দুপুরের খাবার পর বিশ্রাম নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তারপর এই..।
সেদিন স্বপ্নেই দেখা পাই বাস্তবে আর দেখা পাই নি.. আজো..। তবে আছি অপেক্ষায়.. সেই মিষ্টি মুচকি হাসির...।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১১:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×