somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রদীপ্ত আলোর মশাল "শায়খুল আযহার" এর জীবনাবসান।।

১১ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ইউনিভার্সিটি , প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মনিত গ্রান্ড শাইখ, সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ আলেমের শিক্ষক, সাড়া জাগানো তাফসীর গ্রন্হ "তাফসীরে ওয়াসীত'র লেখক ,বিশিশ্ট ইসলামী গবেষক, মিশরের সাবেক গ্রান্ড মুফতি, ছয় লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর বর্তমান অভিভাবক আল্লামা শাইখ ত্বানত্বায়ী(৮২) সৌদি আরবের রিয়াদের এক হসপিটালে হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ সকালে ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তিনি কয়েকদিন আগে সৌদি সরকারের আমন্ত্রনে একটি অনুষ্টানে যোগ দিতে সেখানে যান। আজ (১০/০৩/২০১০) সকালে মিশর ফেরার উদ্দেশে বিমান বন্দরে আসার পথে হঠাৎ অসুস্হ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষনা করেন। আজ বাদ এশা মসজিদে নববীতে জানাজা নামাযের পর জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে আল আযহার ইউনিভার্সিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।এই পদের অধিষ্টিত ব্যাক্তির উপাধি হলো "শায়খুল আযহার"।এবং তিনি ছিলেন মিশরের প্রধানমন্ত্রী সমপর্যায়ের ক্ষমতাধর। মিষ্টভাষী সদা হাস্ব্যোজ্জল "শায়খুল আযহার" প্রতি জুমাবার আমাদের (ইসলামিক ফরেন স্টুডেন্ট সিটি) হোষ্টেলের মসজিদে আমাদের সাথে জুমার নামাজ আদায় করতেন। কোন কারণে জুমাবার আসতে না পারলে শনিবার আসতেন। প্রতি জুমাবার তিনি আল কুরআনের ধারাবাহিক তাফসীর করতেন। যা মিশরের একটি টিভি চ্যানেল সরাসরি সম্প্রপ্রচার করতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই ধারাবাহিক তাফসীর সূরা ফাতিহা থেকে অনেক অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২৫তম পারার সূরা যূখরোফের মাঝামাঝিতে এসে তাঁর জীবনের অবসান ঘটার মাধ্যমে তাঁর তাফসীরের অবসান ঘটে।।আজ সবচেয়ে বেশী মনে পড়ে সেদিনের কথা , যেদিন প্রথম তাঁর সাথে অফিসে সাক্ষাত করি। আমি প্রথম মিশরে এসে হোষ্টেলের বাইরে ছিলাম। চিন্তা করছিলাম কিভাবে হোষ্টেলে ঢুকা যায়, যেখানে বাস করে বিশ্বের ১০৬ টি দেশের ছাত্র।এক জনের পরামর্শে শায়খুল আযহারের অফিসে গেলাম তাঁর সাথে দেখা করতে। বিশাল অফিস। মনে মনে ভাবছিলাম শায়খুল আযহার আমাকে সাক্ষাত দিবেতো ! আশংকা করছিলাম এই জন্য যে,উনার সাথে সাক্ষাত করাটা ছিলো টাফ ব্যাপার। অনেক আগে সিরিয়াল নিয়ে দেশ-বিদেশী বিশিষ্ট মেহমানদের জন্যও তাঁর সাথে দেখা করা ছিলো কষ্টসাধ্য । সেখানে আমি কি ছাই। কে একজন এসে আমাকে নিয়ে গেলো তাঁর নয়ানাভিরাম অফিস কক্ষে। হঠাৎ আমার সামনে আবিষ্কার করলাম শায়খুল আযহারকে। অবাক নেত্রে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন। ঊনার কন্ঠের আওয়াজে বাস্তবে ফিরে এলাম। আমাকে হাতের ঈশারায় কাছে ডেকে পাশে বসালেন। পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো-বাবা তোমার জন্য কি করতে পারি? আমি বললাম-হোস্টেলে উঠতে চাই। তিনি আমাকে বললেন-কোন চিন্তা করোনা। এর কয়েকদিন পর হোস্টেলে উঠলাম। প্রতি জুমাবার উনার সাথে দেখা হতো। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের উপর শতাধিক বই লিখেছেন। তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষনারত ছাত্রদের দশ বছর পরিচালক ছিলেন। ১৯৯৬ সনে তিনি আল আযহারের ৩৫তম "শায়খুল আযহার" পদে অধিষ্টিত হন। পাশাপাশি মিশরের তিনটি মন্ত্রলায়ের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি মিশরে "ফাদীলাতুল ইমামুল আকবার শায়খুল আযহার" উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর মৃর্তুতে মুসলিম বিশ্ব,ছয় লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ও মিশরবাসী অত্যাধিক শোকাহত। আমরা আমাদের পিতৃ সমতুল্য অভিভাবককে হারিয়ে আমরাই যেনো অতলান্ত শুন্যতার মহা সমুদ্রে হারিয়ে গেছি। আল্লাহ তুমি তাঁর সব গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নাও। আমিন, ছুম্মা আমিন।।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×