
আটক ইসির কর্মচারী জয়নালসহ তিনজন[ছবি যুগান্তর]
টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ (এনআইডি) দেয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন (৩৪), তার দুই সহযোগী গাড়িচালক বিজয় দাশ (২৮) ও তার বোন সীমা দাশ ওরফে সুমাইয়া জাহান (৩২) অপর দু'জন সাগর (৩৭) ও সত্য সুন্দর দে (৩৮)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিজয় গাড়িচালক এবং সীমা চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে আয়া পদে কর্মরত আছেন। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের ভোটার করান বলে অভিযোগ করা হয়।
চট্টগ্রাম ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসার পল্লবী চাকমা বাদী হয়ে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। মামলার সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে নির্বাচন অফিস থেকে ৫ বছর আগে ২০১৪ সালে গায়েব হওয়া একটি ল্যাপটপ ও ৪টি মোবাইল সেট। জয়নাল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি করে দিতেন।
ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. জয়নাল আবেদিন, গাড়িচালক বিজয় দাশ ও তার বোন সীমা দাশ ওরফে সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নির্বাচন কমিশন আইনে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার ৫ আসামির মধ্যে তিনজন গ্রেফতার আছেন। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয়নাল আবেদীনকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে সাগরের মাধ্যমে তিনি ঢাকা নির্বাচন অফিস থেকে ল্যাপটপ সংগ্রহ করেন। এরপর ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে ৫০-৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সরবরাহ করেন। এ ছাড়াও জয়নাল বাকি আসামিদের সহায়তায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতেন।
চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিস থেকে ডিএসএলআর ক্যামেরা, ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার, সিগনেচার প্যাড গোপনে নিয়ে প্রতি শুক্রবার ও শনিবারসহ বন্ধের দিনগুলোতে নিজ বাসায় বসে অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের যাবতীয় ডাটা ক্রিয়েট সম্পন্ন করে মেইলে ঢাকায় অবস্থানরত সাগরের কাছে পাঠাতেন। সাগর জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে আপলোডসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রিন্ট কপি এসএ পরিবহনের মাধ্যমে জয়নালের কাছে পাঠাতেন
উল্লেখ্য, লাকী নামের এক নারী গত ১৮ আগস্ট স্মার্টকার্ড তুলতে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে তার হাতে পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জেরার মুখে লাকী নিজের প্রকৃত নাম রমজান বিবি এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসার পর টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকার কথা জানায়। ওই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন জাল এনআইডি। অথচ ওই ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে।
এ ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি তদন্তে নেমে নির্বাচন অফিসের কারও যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটছে বলে তথ্য পায়।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে।
তথ্য সূত্র
https://bangla.bdnews24.com
https://www.jugantor.com/
https://www.prothomalo.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


