somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জোছনার গল্প

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এই পৃথিবীটা খুব সুন্দর ।চারিদিকের মানুষগুলো খারাপ না কিন্তু এই পৃথিবীরই কিছু কিছু মানুষের জন্য হঠাৎ করে এই সুন্দর পৃখিবীটা কুৎসিত রূপ ধারণ করে।তখন আর পৃথিবীটাকে আর সুন্দর মনে হয়না । অসহ্য লাগে , দম বন্ধ হয়ে আসে। নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছা করে না ।কষ্ট হয় ।মরে যেতে ইচ্ছা করে । জোছনার আজ মরে যেতে ইচ্ছা করছিলো।কতবার ভেবেছে হারপিক খাবে আবার ভেবেছে চারতলার এই বাসা থেকে ঝাঁপ দেবে। কিন্তু একমাত্র ছোট্ট ভাইটার মুখ বার বার ভেসে ওঠায় সেটা সে কার্যকর করতে পারেনি ।

জোছনা আজ সারাদিন একমনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে । দেখলে মনে হবে সে বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছে হয়তো । আসলেই কি সে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করছে ? না ,সে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছে না ।সেই অবস্থা বা মনমানসিকতা তার বর্তমানে নেই । সে বসে আছে উদাস ব্যথিত ভাঙা মন নিয়ে ।তার মুখে এক রাশ কষ্টের ছাপ ।চোখ ছলছল।

বুকে রয়েছে অচেনা চিনচিনে এক ধরনের সুক্ষ ব্যাথা । অতি প্রিয় কিছু হঠাৎ করে হারিয়ে ফেলার জ্বালা ।কিন্তু সে কথা সে কা্উকে না পারছে বলতে ,না পারছে সহ্য করতে। কাল থেকে কত বার মনে হয়েছে মৃত্যুই তার একমাত্র পরিণতি মৃত্যুই তার একমাত্র আশ্রয় স্থল কিন্তু না সে হেরে য়াওয়া মেয়ে নয় সে হেরে যাবে না সে পৃথিবীকে দেখিয়ে দেবে সে পারে সে পারবে।ছোট্ট বাবা মা হারা মেয়েকে কেউ হারাতে পারবেনা ।কিন্তু আবার যখনই অতীত স্মৃতি ফিরে আসে মনে তখন তার বুক বেয়ে একরাশ দুঃখ উথলে উঠছে ।কান্না গুলো গলার কাছে দলা হয়ে পাকিয়ে যাচ্ছে ।…….

জাহিদ সদ্য ইঞ্জিননিয়ারিং পাশ করেছে। জোছনা এই জাহিদ নামের ছেলেটাকে অসম্ভব ভালোবাসতো এখনও সে ভালোবাসে।এই ভালোবাসাবাসি প্রায় আট বছর ধরে । কত প্রমে কত খোঁজ খবর ।কতনা উপহার উপঢৌকন। জাহিদের মতো এতটা কেয়ারিং ছেলে খুব একটা দেখা যায় না ।বন্ধুদরে মধ্যে জোছনাকে নিয়ে একটা সুক্ষ হিংসা কাজ করতো বরাবর । জোছনাও এটা উপভোগ করতো ।

কিন্তু পাশ করার পর জাহিদ যেন রাতারাতি বদলে গেল ।আস্তে আস্তে শোনা যেতে লাগরো সে আরো একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছে মেয়েটি তার বাবার একমাত্র মেয়ে এবং বিত্তশালী । জোছনা প্রথম প্রখম বিশ্বাসই করেনি এটা কখনও হয় !সব বানানো বন্ধুদের হিংসা !!

জাহিদও ক্রমশ অস্বীকার করে এসেছে না সে এসব কিছু করছেনা্ এমনকি বিয়ের আগের রাতেও সে আর জাহিদ অনেক রাত জেগে কতনা আলাপ …..জোছনা চোখের জল মুছলো । না সে আর কাঁদবে না সে হেরে যাবেনা । সে মেয়ে হতে পারে কিন্তু অসহায় নয় তার আত্মমর্যাদা আত্মসন্মানবোধ আছে । সে ঠুনকো একটা প্রেমের জন্য এত সহজে নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছিলো।এটা ভাবতেই নিজের উপরই তার নিজের রাগ হচ্ছে এখন।

সে বড় হবে ।অনেক বড় মাপের মানুষ হবে ।মানুষের জন্য তার এই একজীবনে অনেক কিছু করার আছে । জোছনা চোখের জল মুছে ফেলল ।সে দৃপ্ত শপথ নিলো। সে তার এ জীবনটা পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর মানুষের জন্য কিছু একটা করবে ।ছোট ভাইকে মানুষের মত মানুষ করবে ।এই সমাজের মানুষগুলোর মতো অমানুষ বানাবে না ।পৃথিবীতে স্বার্থই সব নয়।....।

আসলে এই পৃথিবীতে ত্যাগের মতো সুখ আর কিছুতে নেই ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার স্বপ্ন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৪




১। সোমাবার রাতের ঘটনা।
রাত ১১ টায় বিছানায় গেলাম। ঠিক করলাম আজ ঘুম না এলেও চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকব। ঘুমের দরকার আছে- সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রামটির নাম ঢাকুয়া

লিখেছেন রমিত, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০২

গ্রামটির নাম ঢাকুয়া
------------------- রমিত আজাদ



ঢাকা থেকে অনেক দূরে, গ্রামটির নাম ঢাকুয়া।
সবুজ ছায়ার মায়ার দেশে প্রাণ ভরেছে আকুয়া।
মশগুল তায় টিয়া পাখী, রঙ ছড়াতে আশমানে,
তেপান্তরের মাঠ ছাপিয়ে ফিঙে নাচে গুলশানে!
ফুলবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসসালামু আলাইকুম। কারও বিরক্তি উদ্রেক করলে ক্ষমা প্রার্থী

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৫



ম্যায় আপনে ঘর মে হী আজনবী হো গয়্যা হু আকর
মুঝে ইয়া দেখকর, মেরি রুহ ডর গয়্যি হ্যায়
সহমকে সব আরজু কোনে মে যা ছুপী হ্যায়
লবে বুঝা দি আপনে চেহেরো কি হসরতোনে
কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাউড অভ তুরিন অথবা যীশুর কাফন (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩



সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে, সেদিন ছিল প্রস্ততির দিন অর্থ্যাৎ সাব্বাথের দিনের আগের দিন। সে জন্য আরিম্যাথিয়া নিবাসী জোসেফ সেখানে এলেন। ইনি ছিলেন ধর্ম সভার একজন সন্মানিত সদস্য। তিনি ঐশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডে- ২০১৯

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৮


"ব্লগ ডে" এ দু'টি শব্দ মনে পড়লে আমার চোখে ভাসে কৌশিকভাইয়ার অসাধারণ কন্ঠে উপস্থাপনার ছবিটি। চোখে ভাসে জানা আপুর ছিপছিপে শাড়ি পরা চেহারাটা। চোখে ভাসে প্রায় তুষার কন্যা টাইপ ধপধপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×