
প্রথমে সবাইকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা।
শুভ হোক সকল সময়।
আজ বাংলা নববর্ষ ১৪২৯।আবার এলো আরেকটি নতুন বছর। নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন নতুন আশা। নিজের ভুল ভ্রান্তি শুধরিয়ে নব উদ্যোগে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেবার প্রস্তুতি।
এটি আমাদের বাঙালির জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রধান উৎসব।আমাদের জাতিস্বত্বার উৎসব।আমরা কি আমরা কেন আমাদের শেকড় আমাদের ঐতিহ্যের উৎসব।
এ যেন প্রাণের সাথে প্রাণের মিলন।সকল ভেদাভেদ ভুলে হাসিখেলার মেলা।
এইদিনটা আমার কাছে সবসময় একটু অন্য রকম অন্য মাত্রার।
বাঙালির উৎসব আর তাতে খাওয়া দাওয়া নেই তাই কি কখনও হয়?
ছোটবেলায় নববর্ষের দিনে আমার মা সকাল থেকে ব্যস্ত থাকতেন। একটু বাড়তি রান্না হতো।এই যেমন মুরগির ঝাল মাংস। খিচুড়ি আর নানা পদের ভাজি ভর্তা। তখন পান্তা-ইলিশ হতো কিনা মনে নেই তবে ইলিশ মাছের দো-পেঁয়াজা হতো খিচুড়ির সাথে খাওয়ার জন্য আর হতো আলু ভর্তা আর আচার। সাথে আবার দু এক রকম পিঠাও থাকতো।আমার মা অবশ্য ভালো পিঠা বানাতে পারতেন না। তেলে ভাজা অর্থাৎ আমাদের এখানে আমরা এই পিঠাকে "পাকান" পিঠা বলি তো সেই পিঠা আর ছিটা রুটি বানাতেন।মুরগীর ঝাল মাংসের সাথে ছিটা রুটি আমার সব সময় প্রিয় ।ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে আমরা নতুন জামা পরতাম।সব কাজ শেষে দুপুরের পরে আম্মা সাজতে বসতেন।রোদ কমে এলে বিকালে আম্মার হাত ধরে যেতাম মেলায়। বৈশাখী মেলা থেকে বায়না করে দুহাত ভরে জিনিস কিনতাম যেমন বাঁশি, গ্যাসবেলুন, মাটির তৈরি ঘোড়া,ভটভটি গাড়ি,খেলনা পিস্তল চরকি গাড়ি ও অন্যান্য। সেগুলো দু'হাতে ধরে রাখতে কষ্ট হতো তবুও কারো কাছে দিতাম না পাছে হারিয়ে ফেলে যদি।সেই সব জিনিসগুলো কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে হারিয়ে গেছে সেই সব দিনও।
এরপর অনেক পথ পরিক্রমার ধারাবাহিকতায় ঢাকা থেকে চলে আসি যশোরে।প্রথমে গ্রামে ছিলাম মাটি ও মানুষের টানে।তারপর চলে আসি মুল শহরে আছি অনেক বছর।শান্ত নিরিবিলি শহর যশোর।
করোনার কারণে গত দুবছর যশোরে তেমন কোন অনুষ্ঠান হয়নি।বহুদিন বাদে এ বছর আবার অনুষ্ঠানের আয়োজন হল যশোর জেলা প্রশাসন ও নববর্ষ উদযাপন পরিষদ যশোর এর যৌথ উদ্যোগে।সম্ভবত সকাল সাড়ে ছয়টা থেকেই যশোর টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছিল তাই পৌঁছাতে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গেল। পুলিশ চেকপোস্ট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখি মহাসমারোহে অনুষ্ঠান চলছে।অনেকক্ষণ ধরে অনুষ্ঠান উপভোগ করলাম। কিছু ছবি তুলে মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধনের পর পরই বাসায় ফিরে এলাম ততক্ষণে রোদ ভীষণ চড়ে গেছে।









সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০২২ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


