somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনু গল্পঃ জীবনের সারসত্য

২৯ শে জুলাই, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই চৈত্র মাসে গুনে গুনে আট বছর হলো, রূপালী বেগম অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন ।রোগাক্রান্ত মানুষের জীবন যে কত কষ্টের তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তিনি।কাছের মানুষগুলো কত সহজে দুরের হয়ে গেল এক নিমেষে। ভাবেন আর চোখের পানি ফেলেন। এছাড়া আর কি বা করার আছে তার মত মানুষের জন্য? কিছু করার নেই।
এক কালে মহা দাপটে যে সংসার তিনি একাই সামলেছেন আজ সেই সংসারে তিনি চূড়ান্ত অবহেলিত ।এক রকম আশ্রিতই বলা যায়।দুবেলা দুটো মুঠো ভাত জোটে কি জোটে না।
হারুন যদি যোগাযোগ বন্ধ না করতো তাহলে তার কদর ঠিকই থাকতো।এটা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।কেন? কি কারনে প্রাণ প্রিয় মেজ ছেলেটি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করেছে, কে জানে?ও কিন্তু কোনদিনই স্বার্থপর ধরনের ছেলে ছিল না,কেন যে এমন করলো,কে বলবে?
বিদেশ যাওয়ার পর নিরবিচ্ছিন্নভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছর সে একাই সংসার টেনে নিয়ে গেছে। তিনটি বোনের ভালো জায়গায় বিয়ে দিয়েছে। অন্য দুই ভাই সেই অবসরে হারুনের টাকায় নিজের ব্যবসা গুছিয়ে নিয়েছে।বেশ বড় অংকের টাকার মালিকও হয়েছে।
হারুনের অন্তর্ধানের পর থেকে সবাই যার যার মত হয়ে গেছে একে একে।এখন রূপালি বেগম আর রুহির দেখাশোনার কেউ নেই। এদিকে ছোট মেয়ে রুহির বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। চিন্তায় ঘুম আসে না রূপালী বেগমের।

চলছিল এমনই কষ্টে সৃষ্টে। হঠাৎ ই এক মধ্য দুপুরে জোহরের আযানের পর পর রুহি হাঁপাতে হাঁপাতে এসে জানালো
- মা, একটা ভালো খবর আছে।
রূপালি বেগম নির্লিপ্তভাবে জানতে চাইলেন
- কি?
- পিয়ন ভাই তোমারে ডাকে?
- ক্যান?
- ভাইজান চিঠি পাঠাইছে।
- কে ভাইজান?
- মেঝো ভাই।
প্রথমে বিশ্বাস হয় নি তারপর জমা হলো একরাশ অভিমান , কোন রকমে দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রূপালি বেগম তাচ্ছিল্যের সুরে বলল
-ক্যান একটা ফোন দেবার পারে নাই? ঢং কইরা আবার চিঠি দিছে। আজকাল চিঠির চল আছে নি?কই আছিল এত গুলান বছর । কি করছে? ক্যান বে খবর হইছে? কইছে কিছু?
- মা তুমি কি পাগল হইছো?
- আমি তো পাগলই। পাগলই।
- মা!
- ক'গিয়া আমার পায়ে বেদনা,মাজায় বিষ হাটবার পারুম না। তুই গিয়া লইয়া আয়।
একটু সময় পর অভিমান থিতু হতেই জানতে চাইলো কি লিখছে চিঠিত? আমার কথা কিছু লিখছে?

রুহি জোরে জোরে চিঠিটা পড়লো। হারুণ সৌদি আরব থেকে জাহাজে করে ইতালি যাচ্ছে সামনের মাসে।মধ্যে সে বিনা অপরাধে জেলে ছিল তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ রাখতে পারে নি।যেখানে যাচ্ছে সেখানে নাকি টাকা আর টাকা। চিন্তা করার কিছু নেই।পৌছে খবর দেবে অতি শিঘ্রী। সব শেষে জানায় আগামী মাস থেকে কিছু টাকা পাঠানোর চেষ্টা করবে।
রূপালি বেগমের চোখ চক চক করে উঠলো।এবার তার একটা গতি হবে,বাতের ব্যথারও চিকিৎসা হবে। হারুণ যে তাকে চরম ভক্তি করে।আহা ছেলে একখান! লাখে একটা।
এই খবরে হঠাৎ করে রুহির ভাই ভাবিদের ব্যবহার বদলে যায়। সবাই বেশ খাতির করা শুরু করলো রূপালী বেগমের।রুহি ঘরের দরজা বন্ধ করে নতুন করে রুপমকে মেসেজ পাঠায় "প্লান মাফিক সব কাজ ঠিক ঠাক হয়েছে।সবাই তাকে বিশ্বাস করেছে। মা খুব খুশি।"
রুপম ফিরতি মেসেজ পাঠায়
"মায়ের ব্যবস্থা তো হলো এবার বিয়েটা সেরে ফেলা যাক। আর তো কোন সমস্যা নেই"
"চিঠিতে তো লিখলে মাসে মাসে টাকা পাঠাবে।তার কি হবে জনাব?"
"সে তোমায় ভাবতে হবে না। আগে তো কবুল বল।"
"চ্যাটিং এ কবুল বলে ক্যামনে?"
এরপর একের পর এক হাসির ইমো বিনিময় হয় দুজনের মধ্যে।.....

© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

"খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে" ধারাবাহিক গল্পটির পরবর্তী পর্ব খুব শিঘ্রী পোস্ট দেওয়া হবে।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেটে লাথি মারলে, স্লোগান তো উঠবেই !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৬


ভয়ের কিছু নেই। এখনো পরিস্থিতি খারাপ হয়নি । তবে সাধু সাবধান। দেশ জুড়ে স্লোগান দেওয়া শুরু হলে সবকিছু ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না।সরকার এখন ঢাকা সহ দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×