
যে নর -নারীর সুদৃঢ় সবল হাতে
তিলে তিলে গড়ে উঠেছে এ সভ্যতা দিনে রাতে
বিনম্র শ্রদ্ধা হে পরিশ্রমী
শত প্রণাম তোমায় তোমার তুলনা শুধুই তুমি।
শ্রমিক দিবসের কর্মসূচি -
অকৃত্রিম আবেগ যা এখন কৃত্রিমতায় আবৃত।
হাতুড়ির প্রতিঘাতে- কাস্তের খাঁজ কাটা অবতলের গল্পগাঁথায়
যে সভ্যতার তিল তিল এগিয়ে চলা
ভুলেছি আমরা তা আধুনিকতায়।
সত্যি কি পেরেছি,
মে দিবসের সঠিক তাৎপর্য অনুধাবণ করতে?
তাহলে-উপলব্ধিতে ঘাটতি কোথায়?
বুঝতে কি চেষ্টা করেছি কখনও?
ওই রোদে জলে ঘামা শ্রমিকের কষ্টের জীবনগাঁথা -
বৈষম্যহীন সমাজ!
সে-তো কথার ফুলঝুরি।
পুঁজিবাদী আর স্বার্থবাদী এ সমাজ শুধু নিতেই জানে।
দিতে তো নয়।
শ্রমতপ্ত ঘ্রাণ রোদ্রালোকিত প্রান্তরে নিস্ফল স্বপ্ন দেখে।
কোথাও আবার
শ্রম দগ্ধ মধ্যাহ্নে শ্রমিকের অশ্রু আর ঘাম মিলেমিশে বিমূর্ত ছবি আঁকে।
শৈল্পিকতায় কি আর উদরপূর্তি ঘটে?
আশাহত বেদনার রং ছবি- শোষকের দেয়াল শোভামণ্ডিত করে
আজও অনাহারে অর্ধাহারে মরে শ্রমিক -পরিবার পরিজন।
কে রাখে খোঁজ?
কে রেখেছে?
বিনা নোটিশে ছাঁটাই।
আনলিমিটেড কর্মঘণ্টার চক্করে।
এখনও প্রতিনিয়ত কত স্বপ্ন অকালমৃত।
হে মার্কেটের আন্দোলনরত শ্রমিকের আত্মারা আজ অতৃপ্ত।
মৃত্যুদণ্ড আজও লেখা হচ্ছে নিরবে নিভৃতে।
কে রাখে খোঁজ!
কে রেখেছে?
অন্যায় অনাচার দূর্নীতি অত্যাচার ফিরে আসে নতুন মোড়কে।
তারপর নতুন নতুন আইন হয়।
সহায়তার নামে নাটক হয়।
সুরাহা হয় না কোন।
আসলে দুঃস্থ মেহনতী মানুষের কেউ নেই।
জন্মই তাদের আজন্ম পাপ।
ওরা লড়বে
ওরা গড়বে
ধুকে ধুকে ওরা মরবে।
এই হলো নিয়তি।
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি
নিরাপদ কর্মপরিবেশ
সবই কার্যত ফাঁকা বুলি।
স্বার্থাবদ্ধ সমাজ নিপাত যাক।
সকল শ্রমিক ন্যা্য্য মজুরি পাক।
সকল শ্রমিক শোষণ থেকে সুরক্ষা পাক।
নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা হোক।
নিরাপদ কর্ম পরিবেশ -মানবিক ব্যবহার কার্যকর করতে হবে -করা হোক।
ঘাম শুকানোর আগে সকল শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পাক।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করো-করতে হবে।
আট ঘন্টা কাজ আট ঘন্টা বিশ্রাম আট ঘন্টা বিনোদন -দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক-করতে হবে।
আঁধার পেরিয়ে আসুক সোনালী প্রভাত
ঘর্মাক্ত শ্রমজীবীর জয় হোক -কাটুক তিমির রাত।
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



