এভাবে আরও অবর্ণনীয় ঘটনার কথা আমি সব জেনেও প্রকাশ করতে চাইছি না, অহিংসা নীতির ওপর আস্থা রেখে । শুধু এটুকুই বলতে পারি, নিদারুণ দুঃসময়ে দ্বীপপুঞ্জ’র মানুষের যখন বাঁচার শেষ চেষ্টা, তখন দেখি সভ্য মানুষের হিংস্র আচরণ । মানবতার দোহাই দেওয়া এমন নির্লজ্জতার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।
‘সুনামি’ সভ্য মানুষের প্রায়শ্চিত্ত’র সুযোগ দিয়েছে, আর ফিরে পেতে চেয়েছে প্রকৃতি তার নিজস্বতাকে । এই ফিরে পাওয়া তার প্রাকৃতিক নিয়মের অধিকার । কিন্তু প্রকৃতির এই সহজবোধ্য নীরব ভাষা অত্যাধুনিক মানবসভ্যতা অনুধাবন করার চেষ্টা করেনি । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য—গুজরাতে প্রবল ভূমিকম্প ও ধংসাত্মক লীলা দর্শনের পরেও মানুষ যেভাবে ধর্ম হানাহানিতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল, এই দ্বীপপুঞ্জ ঠিক তার বিপরীত । জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দ্বীপপুঞ্জ’র অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত সাধারণ মানুষ একে অপরের সহায়তার কাজে এগিয়ে এসেছে । নিজের প্রাণ-সংশয় জেনেও অপরের প্রাণরক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে । একসাথে পাহাড়ে-জঙ্গলে অনাহারে অনিদ্রায়, ধ্বংসস্তুপের মাঝে, ত্রাণশিবিরে সর্বত্র সকলের সহাবস্থান দেখার মতো ঘটনা ।
‘সুনামি’ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়—শুভক্ষণ; সত্যিকারের মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার এ এক প্রাকৃতিক সৌভাগ্য । ‘সুনামি’র উপহার সকলের সাধারণ বোধগম্যতায় না এলেও , পোর্টব্লয়ার শহরের অনতিদূর ব্রুক্সাবাদে প্রবল ভূমিকম্প’র ফলে মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া ‘মিষ্টি জলের ঝর্ণা’ যে আরব-ভূমির মক্কা হজ-যাত্রীদেরও করুণাসিন্ধুবারি আব্-এ জম্ জম্-এর চেয়ে কিছু কম নয়—এ কথা হতবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গও স্বীকার করেন ।
‘সুনামি’র স্রোতে ‘কাছাল’ দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ হারিয়ে গেলেও প্রথম সূর্য-রশ্মি আজও তেমন বিচ্ছুরিত হয় । নতুন দিনের নতুন সূর্যালোকে এই দ্বীপ আবার সবুজ হয়ে উঠেছে ! নারকেল সুপারির সবুজ পাতারা এখনও খিলখিলিয়ে হাসে ! এই নির্মল হাসির মধ্যে আমি আমার মেয়ে পাখি’র হাসিমুখ দেখতে পাই !
‘স্মৃতির পথ ধ’রে আন্দামানে’ নিবন্ধে আমি বলতে চেয়েছি, সকল দ্বন্দ্ব’র অবসান হোক ! সুন্দর পৃথিবী হয়ে উঠুক আরও সুন্দর ! বাঙলার পূব থেকে পশ্চিম, আমার—আমাদের সকলের ; এই সত্য আরও সত্য হয়ে উঠুক ! পদ্মা-গঙ্গা, সারি-বাউল, রমণা-পলাশি, বরকত-রামেশ্বর, লালন-কবীর, রবীন্দ্র-নজরুল, ওপার-এপার সব আমার, সব আমাদের !!












সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





