somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

সোনার বাংলা

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোনার বাংলা
‘পশ্চিম বাংলা’ নাকি এবার ‘সোনার বাংলা’ হবে। কিছু কিছু রাজনেতাদের কন্ঠে এমনই শোনা যাচ্ছে। স্বপ্ন দেখা ভাল, কিন্তু স্বপ্ন দেখানো কত ভাল সে-শিক্ষা আমরা ইতিহাস থেকে পাই । ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগ হ’ল, ইংরেজ সরকার শাসন-ব্যবস্থার সুবিধের জন্য তারা এ-কাজটা করেছিল। বাংলার মানুষ এসব মানবে কেন? বাংলার সঙ্গে যে আমাদের প্রাণের সম্পর্ক, হৃদয়ের সম্পর্ক! প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠল সারা বাংলার মানুষ। মেনে নিতে পারলেন না, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও। তাই তাঁর কন্ঠে বেজে উঠল বেদনার সুর—‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল—পুণ্য হউক, পুণ্য হউক,পুণ্য হউক হে ভগবান’!........
১৯১১ সালে আবার অখন্ড ‘সোনার বাংলা’ আমরা ফিরে পেলাম।
‘গঙ্গার স্রোতে ভেসে আসা মাঝি পদ্মার বুকে এসে—
প্রাণভরে গায় সেই সারিগান বাংলাকে ভালবেসে’।
কিন্তু ব্রিটিশ শাসকের উদ্ধত অহঙ্কার,অত্যাচার বিষিয়ে তুলেছিল বাংলার আকাশ-বাতাস । অখন্ড ভারত জুড়ে নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন-দ্বীপান্তর-কারাযন্ত্রণা-ফাঁসির মঞ্চে প্রিয়জন হারানোর মর্মান্তিক ইতিহাস ভুলে যাওয়ার নয় ।
প্রয়োজন ছিল ব্রিটিশ-মুক্ত অখন্ড ভারত, অখন্ড বাংলা, সোনার বাংলা । রবি ঠাকুর শুধু বাংলার বুকে নয়, সারা দেশের দুর্যোগের ঘনঘটা দেখতে পেয়েছিলেন। তাই বীর সুভাষের উদ্দেশে ছিল তাঁর এই শেষ গান—‘তোমার আসন শূন্য আজি, হে বীর পূর্ণ করো’।......
‘রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ এই ছিল বীর সুভাষের দৃপ্ত কন্ঠ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা । স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের প্রয়োজন, আন্দোলন কখনও স্বাধীনতা আনতে পারে না—এ-কথা তিনি বিশ্বাস করতেন বলেই ‘আজাদ হিন্দ্ ফৌজ’ গঠন করতে পেরেছিলেন । ‘কদম কদম বাঢ়ায়ে জা, খুশী কে গীত গায়ে জা’ দেশবাসীর মনে আজও শিহরণ জাগায় !
'১৯৪৩-এর ২১ অক্টোবর ‘স্বাধীন’ ভারতীয় সরকার: ‘Provisional Government of Free India’৷ গঠিত হয় পূর্ণ মন্ত্রিসভা৷
রাত বারোটার পর সিঙ্গাপুর রেডিও মারফত প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইঙ্গ-মার্কিন শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
নেতাজিই ছিলেন প্রথম ভারতীয়, যিনি দু'শো বছরের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির দ্বার খুলে দিয়েছিলেন । ব্রিটিশের দখলে থাকা ভারতের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে প্রথম স্বাধীন বলে ঘোষণা করে, জাতীয় পতাকা তোলেন ১৯৪৩ সালে ৩০শে ডিসেম্বরে ।যে কারণে ভারতের আন্দামানই প্রথম ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল ।
কিন্তু স্বদেশী স্বার্থান্বেষী রাজনেতা ইংরেজের সহযোগিতায় অনাকাঙ্খিত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার আগুন লাগিয়ে দেশকে খন্ড-বিখন্ড করে দিল । এমনকি আমাদের ‘সোনার বাংলা’ তা’ থেকে রেহাই পেল না । আবার দ্বিখন্ডিত হ’ল ‘সোনার বাংলা’।এ এক কলঙ্কিত ইতিহাস । স্বাধীনতার নামে ক্ষমতা হস্তান্তরের খেলায় জয় হ’ল বিশ্বাস-ঘাতকদের, যার রেশ আজও চলছে এই উপমহাদেশ জুড়ে ।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:১২
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একালের আওয়ামী লীগের সাথে সে কালের বিএনপির পার্থক্য কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



সে কালের বিএনপি বিভিন্ন সময় আন্দোলনের গল্প শুনাতো। একালের আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় আপা আসার গল্প শুনায়। এর মধ্যে দু’বছর পার হয়েছে আপা আসেননি। সামনে ডিসেম্বরের মহাক্ষণে আপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামারুহ মির্জারাও সত্য মেনে নেয় যখন/ যদিও এর কোনো প্রয়োজনিয়তা আমাদের নেই॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


বিএনপি ঘরানার মুখ থেকেও যখন সত্য বেরিয়ে আসে, তখন তা ইতিহাস হয়ে থাকে!

বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জার একটি সত্য স্বীকারোক্তি......
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ছাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কান্নার প্রতিধ্বনি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


এই গল্পটি একটি ফিকশন ক্রাইম স্টোরী, বাস্তবের একটি ঘটনার ছায়াবলম্বনে লেখা হয়েছে।

১০ মে, ২০১৮। টেকনাফ।

কাউন্সিলর শামসুল আলমের (৪৮) দোতলা বাড়িটি আজ বেশ আলো ঝলমলে।

বসার ঘরে ছোট মেয়ে সুমাইয়া (১২) গণিতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×