somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

দানবের পেটে দু'দশক (মূল গ্রন্থ- IN THE BELLY OF THE BEAST) পর্ব-৩

০৩ রা নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেবার ১৯৯৭ সালে আমি যখন ভারতে ঘুরছিলাম, তখন কলকাতার এক বিজেপি-পন্থী সাংবাদিক আরএসএস-এর বাংলা সাপ্তাহিক ‘স্বস্তিকা’ পত্রিকার এক সভায় আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন। ওখানে তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্ব যে এখন নেহরু-পন্থী জাতীয়তাবাদকে আঁকড়ে ধরছে এবং কাশী মথুরার মন্দিরের বিষয়গুলিকে সরিয়ে রাখছে সেটা ভন্ডামি, আর এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল কেন্দ্রে ক্ষমতা দখল।
[এই বাংলা বইটি প্রকাশিত হবার সময়ে বিজেপি ও আরএসএস আবার অযোধ্যা রামমন্দির নিয়ে অতি-ব্যস্ত, কারণ তাদের অর্থনৈতিক জালিয়াতি মানুষের চোখে ধরা পড়ে গেছে। তাদের আবার এখন ধর্মের রাস্তা দরকার। মুসলমান বিদ্বেষ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিদ্বেষ এবং রামমন্দির—এগুলোই এখন সঙ্ঘ পরিবারের নতুন খেলার কৌশল।]
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরএসএস তার সামরিক ধরনের কাজের মধ্যে দিয়ে অজ্ঞ ও প্রশ্নহীন অনুগত সদস্যদের এক বাহিনী গড়ে তুলেছে, যারা সঙ্ঘের আসল চরিত্র জানেও না, জানতে চায়ও না। এই প্রশ্নহীন আনুগত্য আরএসএস-এর নানা স্তরের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী চিন্তাভাবনা জাগিয়ে তোলা ও তাদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধেজনক হয়েছে। এই হিন্দুত্ববাদী চিন্তাভাবনাগুলি কী রকম এবং সেগুলি কীভাবে এই গোষ্ঠীর মধ্যে বা বাইরে কোন প্রকৃত বিরোধিতার সম্মুখীন হয়নি বললেই চলে, সেটা আমি এই বই-এ ব্যাখ্যা করব। এই অত্যন্ত সংগঠিত ধর্মীয় দক্ষিণপন্থার আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারতের প্রগতিশীলরা বড়জোর দু-একটা অসংগঠিত প্রচেষ্টা করেছেন। আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে এমন আশ্চর্য মিল—ঠিক আমেরিকার মতোই ভারতেও দক্ষিণপন্থীরা যতদূর সম্ভব দক্ষিণে যেতে পারে, চরমপন্থী হতে পারে, কিন্তু মূল ধারার মধ্যপন্থীরা (যেমন কংগ্রেস পার্টি) তাদের মধ্যপন্থা প্রমাণ করতে এবং সমাজতান্ত্রিক গণআন্দোলন থেকে দূরত্ব রক্ষা করতে ব্যস্ত। কংগ্রেসের মধ্যে কোনো শক্তিশালী জাতীয় নেতৃত্ব আজ আর তেমন নেই।
আরএসএস-এর ভেতরে যেটুকু বিরোধীতা হয়েছে সেটা আবার এসেছে তাদের মধ্যে অতি দক্ষিণপন্থী অংশ থেকে। অযোধ্যায় রামমন্দিরের বিষয়টিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখার কৌশলের বিরোধীতা করেছেন স্বাধ্বী ঋতাম্বরা’র মতো নেতারা। নির্বাচনের আগে তাদের এই বিরোধীতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, কিন্তু ভিএইচপি ও আরএসএস মন্দিরের ইস্যুটিকে আবার সামনে নিয়ে আসছে। (বরং তাত্ত্বিক নেতা ও আরএসএস প্রচারক গোবিন্দাচার্য’র মতো দু’একজন ব্যতিক্রমী নেতা বিজেপি’র দরিদ্র-বিরোধী, জনবিরোধী কাজের সোচ্চার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এখন বিজেপি লাগামছাড়া। সৎ তাত্ত্বিক নেতাদের তারা আর গ্রাহ্য করে না। তাদের মিডিয়াগুলোতে মোদী, শাহ জাতীয় নেতা ছাড়া আর কারোর মুখ দেখানো হয় না।)
অদূর ভবিষ্যতে ভারতের সামাজিক কাঠামো অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাবে। এই বদল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। এক সময়ের নানা রঙের বাগানটি হয়ে উঠবে ধূসর, বিবর্ণ, পুষ্পপত্রহীন এক জঙ্গল—বাচ্চারা যেখানে খেলা করতে যায় না, যুবক-যুবতীরা প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে যায় না, প্রেম করতে যায় না। ওই জঙ্গলে যে কুৎসিত জীবটি বাস করে তাকে দেখলে সবাই ভয় পাবে। সে এখন ওখানকার দানব রাজা। ঔজ্জ্বল্যের প্রতি, সামাজিক প্রগতির প্রতি, ভালবাসা, স্বাধীনতা ও জীবনের প্রতি সে দানব নিষ্ঠুর।
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আমি আরএসএস এবং তার সন্তান যেমন বিজেপি, এবিভিপি ও ভিএইচপি আসলে কী এবং এই আরএসএস পরিবারকে, সঙ্ঘ পরিবারকে রুখতে গেলে আমাদের কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করব।
১। পবিত্র কুমার ঘোষ, বর্তমান, ১৯ জুন, ১৯৯৭। ওই সভাতে আরএসএস-এর তাত্ত্বিক এইচ.ভি.শেষাদ্রি জোর দিয়ে বলেন, যে ঊনবিংশ শতকের “বাংলার রেনেসাঁস” ছিল একটি হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন। হাস্যকর প্রস্তাব, কারণ আসলে তা ছিল হিন্দুধর্মের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক প্রবল আন্দোলন। (ক্রমশঃ)

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৩৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×