‘ভাত দে হারামজাদা, নয়তো মানচিত্র চিবিয়ে খাবো’ এই ডায়লগটি যখন শুনেছিলাম বা পড়েছিলাম তখন কিছুই বুঝি নি। গত বছর বিজয় দিবসে বাড়ির পাশের মাঠে বিজয় দিবস উপলক্ষে খেলাধূলার আয়োজন করা হয়েছিলো এবং সেখানে সারারাত গান বেজেছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই শুনি আমাদের অতিপ্রিয় একটি হিন্দি গান সেখানে বাজছে। ঐ অনুষ্ঠানে যতগুলো গান বেজেছিলো তার কমপক্ষে ৭০%ই হিন্দি ছিলো। হাইহক, মূল প্রসঙ্গে আসি। হঠাৎ আজ মথায় এই (ভাত দে হারামজাদা, নয়তো মানচিত্র চিবিয়ে খাবো) লাইনটি আসলো এবং ঐ লাইনটি কেন সৃষ্টি হয়েছিলো তা নিয়ে ভাবতে লাগলাম।
সম্ভবত কোন অনাহারে থাকা ব্যক্তি ক্ষুধার তারণায় এই কথা বলেছিলো। ভাত না পেলে সে মানচিত্র অর্থাৎ এই দেশটাকেই চিবিয়ে খেতে বাধ্য হবে এই আশাই ব্যক্ত করেছিলো। এর বর্তমান বাস্তব উদাহরণ হলো, রাজনিতিবিদ ও সরকারী কর্মকর্তারা। তারা ভাতের অভাবে এই দেশটাকেই চিবিয়ে খাচ্ছে। অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আমরা তাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে যেমন ঘুস ইত্যাদি। তাদের দোষ দিয়ে লাভ কি, তাদের অনেক অভাব সুতরাং তারা খাবেই। খেতে খেতে যখন দেশটাই শেষ হয়ে যাবে তখন কি হবে কে জানে।
এদের বিবেক এদেরকে বাধা দেয় কিনা কে যানে। ‘লাল সালু’ উপন্যাসের ধর্ম ব্যবসাধী মজিদ মিথ্যে ফতোয়াদিয়ে, মাজার চালিয়ে, ইচ্ছামত হাদিস বানিয়ে তার ধর্ম ব্যবসা চালিয়ে যেত। সে নিজেও জানতো যে সে মিথ্যে বলছে এবং তার পাপ হচ্ছে। তাই সে মনে মনে অনুতপ্ত হতো এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা পার্থনা করতো। কিন্তু উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা অনুতপ্ত হয় কিনা আল্লাহই জানে।
আরো অনেক কিছুই লিখার ছিলো কিন্তু লিখে কি লাভ। অদূর ভবিষৎতে সুযোগ পেলে হয়তো বা বিবেকের গলাটিপে আমিও এই ধরণের কাজ করবো বা করতে বাধ্য হবো। সবাই করছে, আমি করলে দোষ কোথায়। আমরা স্বাধীন। স্বাধীন ভাবে সব কিছু করার জন্যই আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম.....
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




