somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেরে বাংলা কি নজরুলের পাওনা শোধ করতে পারবেন !

২৪ শে মে, ২০১৮ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় কাজী নজরুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কমনা করছি । আপনি অমর মনে পড়ে করি আপনাকে জীবনের পরতে পরতে ..


ইতিহাস কেউ কে ছেড়ে কথা বলে না কোন দিন ।
এমন একটা শিরোনামে হয়তো মনোক্ষুন্ন হয়েছেন ।আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । আমি শুধুমাত্র কিছু ঐতিহাসিক তথ্য দিয়ে লিখছি আর কথা বলছে চিরচায়িত ইতিহাস । সেখানে আমি নিতান্তই মূখ্য কেউ নই ।

অাচ্ছা আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের তথা বাঙালির শ্রেষ্ঠ কয়েকজন প্রবাদ পুরুষের নাম বলেন ? উত্তর টা খুব সহজ ।আপনি অর্নগল বলে ফেলবেন ভাসানী কাজী নজরুল ইসলাম ,মুজিব ও জিয়া প্রমুখ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব । আজ বিষয়টা শেয়ার করতে করতে যাচ্ছি ,সেটা নিশ্চয় আপনাকে অবাক করবে ।


আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন টা কত টুকু দুঃখ-কষ্টে অতিবাহিত হয়েছে, কম বেশি সকলেই জানি । জীবনের এত রং কোন দিন দেখি নি । এই মানুষ সারা টা জীবন পেয়ে গেছেন অবজ্ঞা ,হেলা -অবহেলা । নজরুল শব্দের অর্থ হওয়া উচিত দুঃখ-কষ্ট,ব্যথা-বেদনা । যাই হোক সে প্রসঙ্গ নিয়ে কথা না বলি ।
নজরুল ইসলাম তার এক চিঠিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে লিখেন

‘‘আমার স্ত্রী আজ প্রায় সাত বছর পঙ্গু হয়ে শয্যাগত হয়ে পড়ে আছে ।ওকে অনেক কষ্টে এখানে এনেছি । ওর অসুখের জন্য সাত হাজার টাকা ঝৃণ আছে । ”
(তথ্যসূত্র-নজরুলের পত্রাবলি ,পৃষ্ঠা নং ১৫)

এ থেকে বোধগম্য হয় যে ,কবি তখন কতটা অর্থনৈতিক সংকটে ছিলেন । এছাড়া কবির শরীর ও ভাল যাচ্ছিল না । পরিকল্পনা মোতাবেক কাজী নজরুল ইসলাম এই টাকা শোধ করার জন্য একটি ফিল্মের মিউজিক হিসাবে সাত হাজার টাকার কনট্রাক্ট পান । যার বর্তমান মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ১৭-১৮ লক্ষ্য টাকার ও অধিক । নজরুলের বক্তব্য অনুযারি ফজলুল সাহেব ‘নবযুগ’ এর সম্পাদক হলে কবি কে এই টাকা দিবেন । ফজলুল হক সাহেব প্রতিশ্রুতি ও দেন টাকা দিবেন বলে কিন্তু তিনি এই টাকা টা দেন নি । জাতীয় কবি তাঁর বর্তমান অবস্হান জানিয়ে অনুরোদ করেন প্রতিউত্তরে বাংলার বাঘ খ্যাত ফজলুলর হক সাহেব বলেন
‘‘কিসের টাকা” বাকরুদ্ধ,স্তব্দ,অভিমানী ও অতি আত্মর্মযাদা সম্পন্ন নজরুল , আর কোন বাক্য বিনিময় না করে , সোজা চলে আসেন ।
(তথ্যসূত্র-নজরুলের পত্রাবলি ,পৃষ্ঠা নং ১৫)

অথচ এই নজরুল ই শেরে বাংলা সাহেব কে নানান ভাবে সাহায্য করেছেন । যখন তাকে শহরের ছেলেরা তাঁকে জনসভা করতে দেয় নি । তখন নজরুল কান্ডারি হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন,থামিয়ে ছিলেন সেই সব উগ্র নেতাকর্মী
দের কাছ থেকে ।
আর তার প্রতিদান !!

এই দুই জন ব্যক্তি মধ্যে এমন ঘটনা সত্যিই মর্মাহত করেছে । ভাবা যায় !! আজ যদি তা সাধারণ কোন মানুষের সাথে হত একটা কথা ছিল । আর এমন সময়ে এটা হয়েছে যখন তিনি অর্থ মন্ত্রী । ফজলুল হক সাহেব চাইলেও যে কোন ভাবে সাহয্যে করার ক্ষমতা রাখেন । এভাবে ন্যাক্কার জনক অপমান করা কতটুকু যুক্তিগত হয়েছে আমি জানি না । আর সেই সময়কার শ্রদ্ধেয় কাজী নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠত ,সুনাম ,খ্যাতি সবই অর্জিত হয়েছে । সেই হিসাবে বলতে গেলে শেরে বাংলা উঠতি রাজনীতিবিদ ।

এ ঘটনার আরও জোরালো হয় কাজী নজরুল ইসলামের শ্যামাপ্রসাধের কাছে চিঠির মাধ্যমে ।
সুফি জুলফিকারকে সেই অভিমান -ক্ষুব্ধ কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন-

“হক সাহেবের কাছে গিয়ে ভিখারির মত ৬ মাস ধরে দৈনিক ৫/৬ ঘণ্টা বসে থেকে ফিরে এসেছি ”
(নজরুল পত্রাবলি ,বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত )

আহ!!
একজন কবি কতটুকু সমস্যায় থাকলে ,এতটা সময় টাকার জন্য বসে থাকতে পারে বলতে পারেন! সেই টাকা তো তাঁর প্রাপ্য ছিল । এমন তো না ধার !!
তাহলে কেন এমন ব্যবহার পেতে হলো কবিকে ?

এ সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো ইতিহাস দিতে পারবে না । শেষ জীবনে এসে চারদিকে পাওনাধারের টাকার চাপ ,শরীরের অবনতি ,স্ত্রীর চিকিৎসা , ফজিলতের অবজ্ঞা-অবহেলা ,সবশেষ হক সাহেবের এ ব্যবহারে কবি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন খুবই । অর্থনৈতিক সমস্যা টা মিটে যেত যদি হক সাহেব তার কথা টা রাখতেন । এর পর কবির nerves shattered হয়ে যায় । অনেকে ধারনা করেন ফজলুল হক সাহেবের এমন কান্ডে তিনি শেষ ভাল থাকার আশা ঘুরে বালি হয়ে যায় । ইতিহাস বলে মানসিক চেতনা হারানো ,বাকরুদ্ধ হওয়ার পেছনে প্রধান কারন ছিল হক সাহেবের এই অবহেলা ।


এইসবের সত্যতা পাওয়া যায় সূফি জুলফিকার হায়দার রচিত ‘‘নজরুল জীবনের শেষ অধ্যায়’’ নামক বইয়েও ।

এমন বিখ্যাত মানুষের কাছে যদি বিদ্রোহী কবি কি এ সব প্রত্যাশা করেন ? তাই কষ্ট টা বেশি হওয়ার কথা । প্রিয় শ্রদ্ধেয় নজরুল -ফজলুল ভাল থাকবেন আপনারা । আপনাদের অবদান ভুলার নয় ।
আমার ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোদ করছি ..ভুলগুলো বা করণীয় দিকগুলো ধরিয়ে দিবেন আর আমি শিখবো এবং শুধরাবো

নজরুল বিষয়ক আমার লেখা

যখন চিত্রনাট্যকার নজরুল; পরিচালক ও অভিনেতার ভূমিকায় শেখ সাহেব । :-B
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৫৫
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালোবাসিতে লজ্জা পেতে নাই ...

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

অপেক্ষা— সেতো নিষ্ঠুরতম এক উপখ্যান
যদি না হয় সাক্ষাৎ চিরো কাঙ্ক্ষিত
সেই ক্ষণের —প্রেমের বৃন্দাবনের
এ সবই মিছে অথবা ভ্রম;
ক্ষণিকের অহমিকা শেষ হয়ে যায়
মিশে যায় হাওয়ায়—... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ স্বৈরাচারিণী

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬



সঙ্গদোষে নাকি লোহাও ভাসে! চরমতম এই সত্যটা আর কেউ না হোক ফাহিবের বাবা মা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন। তা না হলে, যেই ছেলে বুয়েট থেকে এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মহান আল্লাহ সব কিছু দেখেন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩



©কাজী ফাতেমা ছবি

সিসি ক্যামেরা দেখলেই নড়ে চড়ে উঠো
হয়ে যাও সাবধানী,
পাপগুলো দূরে ঠেলে হেঁটে যাও আপন গন্তব্যে,
ভয় পাও, তোমরা সিসি ক্যামেরা ভয় পাও
তাই না?

কিছু লুকোচুরি খেলা যখন খেলো বা খেলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টারভিউ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯



শাহেদ জামাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
সে বাকি জীবনে কোনো কাজকর্ম করবে না। জীবনের অর্ধেক সে পার করে ফেলেছে। তার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। আগামী পঁয়ত্রিশ বছর কি সে বাঁচবে? সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন ভালো করা কিছু খবর

লিখেছেন মা.হাসান, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

তাহাজজুদ পড়িস ব্যাটা?



ও ছার, ঝাড়ুদার পদে লিয়োগ পাইতে কত দিতে হবে?



আবার মারধোরের কি দরকার ছিল



আপনারা মন মতো মন্তব্য বসাইয়া নিন, আমি গলায় ফুলের মালা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×