
১৬ মাস পর দলে ফিরেছেন মালিঙ্কা । বলে সে কি উত্তাপ যেন সেই চিরচেনা মালিঙ্কা ফিরে পেল ভরা যৌবন ।লাকমালের ওভারে তামিম ইনজুরি হয়ে ফিরে গেল সাজ ঘরে । তারপর ,পরপর লিটন,সাকিব ব্যাভিলনে । মাঠে তখন নবীন মিঠুন ও পরিক্ষীত সৈনিক মুশি । সেখান থেকেই টাইগারের প্রতিরোধের গল্পটা শুরু । ডট,সিংগেল ,হঠাৎ মুশির আলোর ঝলসানিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে । একটা সময় প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে ৩০০ স্কোর করার । হারিয়েছিলাম মাত্র ২ উইকেট,ওভারও অনেক বাকি । আমাদের স্বপ্নে লংকাকান্ড করে দেয় শ্রীলংকান বোলার । টপাটপ রিয়াদ ,সৈকত কে হারিয়ে আমরা ভাসছিলাম তীরহীন নদীতে । মিরাজ কিছু টা আশার সঞ্চার করে নিভে যায়,তারপর কাপ্তান আসে আলোক জ্বালাতে । চেষ্টা করেও শেষ করতে পারেনি ।একটি খেলায় তামিম,লিটন,রিয়াদ,সৈকত ও সাকিব একদম খেলতে পারেনি । সে খেলাটাতে ২০০ আশা করাটাও বোকামি ।ইতিমধ্যে তামিম কে দেখাচ্ছিলো ড্রেসিং রুমে হাতে ব্যান্ডেজ ,হাত গলায় বাঁধা । যুদ্ধার অসহায় চোখগুলো অনেক কিছু বলছিলো । শেষে ফিজ আলোক দেখিয়েছে কিন্তু অপরাজিত ওয়ান ম্যান আর্মি ঠিক দাঁড়িয়ে ক্রিজে । প্রতিপক্ষের একের পর হামলা একাই সব কিছুর জবাব দিচ্ছিলেন । তখন বাংলাদেশের ঘরে ২০০+ ,মুশির ১০০্ ।৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চার ঘণ্টা ব্যাটিং
তারপর ১৪৪ রান করেছে ।

একটু ভাবুন তো ১৩৫ প্লাস গতিতে বল আসছে । আর্ন্তাজাতিক মানের ম্যাচ । এক হাতে ব্যাট করা কত টা কঠিন । তার উপর প্রচন্ড মানসিক প্রেসার ।
একটি ভুলে রান আউট হয়ে ফিজ ফিরে যাচ্ছে । মুশি ভাবছে ,হলো না ,পারলাম না ,একটি সম্মান জনক স্কোর দিতে পারলাম বলে । নিজেকেই বকা দিচ্ছিলো । লংকানরা মাঠ ছাড়ার প্রস্তুুতি নিচ্ছে । কোটি কোটি সমর্থকরা আক্ষেপ ছুঁড়ে দিচ্ছিলো । আহ! তামিম ! অাজ তামিম যদি খেলতে পারতো ! এর আগেই নিশ্চিত হয়েছিলো তিনি খেলতে পারবেন না । বিশ্ব ক্রিকেটের মন জয় করে তখনই মাঠে মানলেন অতৃপ্ত বীর সৈনিক। বললেন মুশি চালাও তোমার কামান,ধসে দাও প্রতিপক্ষের সকল প্রতিরোধ । আমি শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তোমার সাথে যুদ্ধে সঙ্গ দিচ্ছি । মুশি যেন বহুল প্রতিক্ষার পর চাতক পাখির জল দিয়ে পিপাসা মেটালো । অারও দুর্বার হয়ে উঠলো । আঁছরে পড়লো চার ছক্কা একের পর এক ।

তারও আগে ..
যখন তামিম দেখলো যে কোনো সময় মোস্তাফিজ আউট হতে পারে । তাই হাতের ব্যান্ডেজ টা কেটে নেয় ,যাতে করে একটু সহজে এক হাতে ব্যাট ধরা যায় । কাটার সময় অবাক হয়ে ম্যাশ জিজ্ঞাসা করছিলো কি করছিস

তামিম উত্তর দেয়নি । কোচিং স্টাফ নিষ্পলক চোখে দেখছিলো তামিম কে । জলে টলমল করছে ম্যাশের চোখ ..।ফেরায় নি তামিম কে । যেই মাঠে নামলো বাংলাদেশ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো । তামিম একটি বল মোকাবেলা করেছে তখন মাঠে নেমে দলের রান আসছে ৩২ ,মুশির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ।

স্পোটস্ ম্যানশিপের জয় হয়েছে । জয় পেয়েছে বাংলাদেশ । হৃদয় নিঙরানো ভালবাসা তোমাদের । বিশ্ব ক্রিকেট দেখেছে মুশির বীরত্ব,বিশ্ববাসি দেখেছে তামিমের মহা কাব্যিক আগমন । মনে রাখবে বাংলাদেশের মানুষ তোমাদের । বিশ্ব মনে রাখবে । তোমাদের জানাই হাজারো সালাম । তোমাদের খারাপ বা ভাল সব সময় পাশে ছিলাম । আছি, থাকবো ।
আপডেট
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশী সমর্থকদের গ্যালারি পরিষ্কার করার এক অনুকরণীয় দৃশ্য ।

লংকান অধিনায়কের তামিম কে সম্মান জানাই এভাবেই ।



নাজমুলের হাত খালি নাগিন ড্যান্স মারতে চাই

তামিম আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ।

মুশির প্রশান্তির নিশ্বাস;বাংলাদেশের স্বপ্নের কারিগর ।

উল্লাসে বাংলাদেশ

হুরো গেলি ,দৌঁড়া

হাস্যেউজ্জল টাইগাররা

এ ম্যাচের বাইরে একটি ছবি ;নিজ দায়িত্বে ক্রাসিত হইতে পারেন ।

এশিয়া কাপ-২০১৮
বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা
বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী ।
যা বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি রানের জয় ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪৯.৩ ওভারে ২৬১ (তামিম ২*, লিটন ০, সাকিব ০, মুশফিক ১৪৪, মিঠুন ৬৩, মাহমুদউল্লাহ ১, মোসাদ্দেক ১, মিরাজ ১৫, মাশরাফি ১১, রুবেল ২, মুস্তাফিজ ১০; মালিঙ্গা ৪/২৩, লাকমল ১/৪৬, আপন্সো ১/৫৫, থিসারা ১/৫১, দিলরুয়ান ০/২৫, ধনাঞ্জয়া ২/৩৮, শানাকা ০/১৯)
শ্রীলঙ্কা: ৩৫.২ ওভারে ১২৪ (থারাঙ্গা ২৭, মেন্ডিস ০, কুসল পেরেরা ১১, ধনাঞ্জয়া ০, ম্যাথিউস ১৬, শানাকা ৭, থিসারা ৬, দিলরুয়ান ২৯, লাকমল ২০, আপন্সো ৪, মালিঙ্গা ৩*; মাশরাফি ২/২৫, মুস্তাফিজ ২/২০, মিরাজ ২/২১, সাকিব ১/৩১, রুবেল ১/১৮, মোসাদ্দেক ১/৮)
ফল: বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম
পোস্ট উৎসর্গ করলাম টিম টাইগারস কে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



