somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হে বাংলার গর্জে উঠা বাঘেরা ;তোমাদের অভিনন্দন ।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১৬ মাস পর দলে ফিরেছেন মালিঙ্কা । বলে সে কি উত্তাপ যেন সেই চিরচেনা মালিঙ্কা ফিরে পেল ভরা যৌবন ।লাকমালের ওভারে তামিম ইনজুরি হয়ে ফিরে গেল সাজ ঘরে । তারপর ,পরপর লিটন,সাকিব ব্যাভিলনে । মাঠে তখন নবীন মিঠুন ও পরিক্ষীত সৈনিক মুশি । সেখান থেকেই টাইগারের প্রতিরোধের গল্পটা শুরু । ডট,সিংগেল ,হঠাৎ মুশির আলোর ঝলসানিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে । একটা সময় প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে ৩০০ স্কোর করার । হারিয়েছিলাম মাত্র ২ উইকেট,ওভারও অনেক বাকি । আমাদের স্বপ্নে লংকাকান্ড করে দেয় শ্রীলংকান বোলার । টপাটপ রিয়াদ ,সৈকত কে হারিয়ে আমরা ভাসছিলাম তীরহীন নদীতে । মিরাজ কিছু টা আশার সঞ্চার করে নিভে যায়,তারপর কাপ্তান আসে আলোক জ্বালাতে । চেষ্টা করেও শেষ করতে পারেনি ।একটি খেলায় তামিম,লিটন,রিয়াদ,সৈকত ও সাকিব একদম খেলতে পারেনি । সে খেলাটাতে ২০০ আশা করাটাও বোকামি ।ইতিমধ্যে তামিম কে দেখাচ্ছিলো ড্রেসিং রুমে হাতে ব্যান্ডেজ ,হাত গলায় বাঁধা । যুদ্ধার অসহায় চোখগুলো অনেক কিছু বলছিলো । শেষে ফিজ আলোক দেখিয়েছে কিন্তু অপরাজিত ওয়ান ম্যান আর্মি ঠিক দাঁড়িয়ে ক্রিজে । প্রতিপক্ষের একের পর হামলা একাই সব কিছুর জবাব দিচ্ছিলেন । তখন বাংলাদেশের ঘরে ২০০+ ,মুশির ১০০্ ।৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চার ঘণ্টা ব্যাটিং
তারপর ১৪৪ রান করেছে ।


একটু ভাবুন তো ১৩৫ প্লাস গতিতে বল আসছে । আর্ন্তাজাতিক মানের ম্যাচ । এক হাতে ব্যাট করা কত টা কঠিন । তার উপর প্রচন্ড মানসিক প্রেসার ।
একটি ভুলে রান আউট হয়ে ফিজ ফিরে যাচ্ছে । মুশি ভাবছে ,হলো না ,পারলাম না ,একটি সম্মান জনক স্কোর দিতে পারলাম বলে । নিজেকেই বকা দিচ্ছিলো । লংকানরা মাঠ ছাড়ার প্রস্তুুতি নিচ্ছে । কোটি কোটি সমর্থকরা আক্ষেপ ছুঁড়ে দিচ্ছিলো । আহ! তামিম ! অাজ তামিম যদি খেলতে পারতো ! এর আগেই নিশ্চিত হয়েছিলো তিনি খেলতে পারবেন না । বিশ্ব ক্রিকেটের মন জয় করে তখনই মাঠে মানলেন অতৃপ্ত বীর সৈনিক। বললেন মুশি চালাও তোমার কামান,ধসে দাও প্রতিপক্ষের সকল প্রতিরোধ । আমি শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তোমার সাথে যুদ্ধে সঙ্গ দিচ্ছি । মুশি যেন বহুল প্রতিক্ষার পর চাতক পাখির জল দিয়ে পিপাসা মেটালো । অারও দুর্বার হয়ে উঠলো । আঁছরে পড়লো চার ছক্কা একের পর এক ।


তারও আগে ..
যখন তামিম দেখলো যে কোনো সময় মোস্তাফিজ আউট হতে পারে । তাই হাতের ব্যান্ডেজ টা কেটে নেয় ,যাতে করে একটু সহজে এক হাতে ব্যাট ধরা যায় । কাটার সময় অবাক হয়ে ম্যাশ জিজ্ঞাসা করছিলো কি করছিস


তামিম উত্তর দেয়নি । কোচিং স্টাফ নিষ্পলক চোখে দেখছিলো তামিম কে । জলে টলমল করছে ম্যাশের চোখ ..।ফেরায় নি তামিম কে । যেই মাঠে নামলো বাংলাদেশ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো । তামিম একটি বল মোকাবেলা করেছে তখন মাঠে নেমে দলের রান আসছে ৩২ ,মুশির ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ।


স্পোটস্ ম্যানশিপের জয় হয়েছে । জয় পেয়েছে বাংলাদেশ । হৃদয় নিঙরানো ভালবাসা তোমাদের । বিশ্ব ক্রিকেট দেখেছে মুশির বীরত্ব,বিশ্ববাসি দেখেছে তামিমের মহা কাব্যিক আগমন । মনে রাখবে বাংলাদেশের মানুষ তোমাদের । বিশ্ব মনে রাখবে । তোমাদের জানাই হাজারো সালাম । তোমাদের খারাপ বা ভাল সব সময় পাশে ছিলাম । আছি, থাকবো ।
আপডেট
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশী সমর্থকদের গ্যালারি পরিষ্কার করার এক অনুকরণীয় দৃশ্য ।


লংকান অধিনায়কের তামিম কে সম্মান জানাই এভাবেই ।




নাজমুলের হাত খালি নাগিন ড্যান্স মারতে চাই B-)


তামিম আহত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ।


মুশির প্রশান্তির নিশ্বাস;বাংলাদেশের স্বপ্নের কারিগর ।


উল্লাসে বাংলাদেশ


হুরো গেলি ,দৌঁড়া


হাস্যেউজ্জল টাইগাররা


এ ম্যাচের বাইরে একটি ছবি ;নিজ দায়িত্বে ক্রাসিত হইতে পারেন । =p~


এশিয়া কাপ-২০১৮
বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা
বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী ।
যা বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি রানের জয় ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৯.৩ ওভারে ২৬১ (তামিম ২*, লিটন ০, সাকিব ০, মুশফিক ১৪৪, মিঠুন ৬৩, মাহমুদউল্লাহ ১, মোসাদ্দেক ১, মিরাজ ১৫, মাশরাফি ১১, রুবেল ২, মুস্তাফিজ ১০; মালিঙ্গা ৪/২৩, লাকমল ১/৪৬, আপন্সো ১/৫৫, থিসারা ১/৫১, দিলরুয়ান ০/২৫, ধনাঞ্জয়া ২/৩৮, শানাকা ০/১৯)

শ্রীলঙ্কা: ৩৫.২ ওভারে ১২৪ (থারাঙ্গা ২৭, মেন্ডিস ০, কুসল পেরেরা ১১, ধনাঞ্জয়া ০, ম্যাথিউস ১৬, শানাকা ৭, থিসারা ৬, দিলরুয়ান ২৯, লাকমল ২০, আপন্সো ৪, মালিঙ্গা ৩*; মাশরাফি ২/২৫, মুস্তাফিজ ২/২০, মিরাজ ২/২১, সাকিব ১/৩১, রুবেল ১/১৮, মোসাদ্দেক ১/৮)

ফল: বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম

পোস্ট উৎসর্গ করলাম টিম টাইগারস কে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৪
৪৩টি মন্তব্য ৪৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×