মালয়েশিয়া অফিসে এক ফ্রেঞ্চ ভদ্রলোকের সাথে দেখা। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের অপারেশন ম্যানেজার। আমি বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি শুনে হঠাৎ খুব আনন্দিত হয়ে জানালেন, তিনি বছর পচিশেক আগে খুব অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন তিনি বাংলাদেশের একটি খাবার খেয়েছিলেন। সেই খাবারটি এত টেস্টি ছিল যে তিনি এখনও সেই খাবারের গল্প করেন! তার ভাস্যমতে তিনি পৃথীবির নানা দেশে নানা রকমের খাবার খেয়েছেন, কিন্তু এত সুস্বাদু খাবার তিনি খুব কমই খেয়েছেন। জানতে চাইলাম, নাম মনে আছে কিনা। তিনি জানালেন ‘বিরানি’!!
কাজের সুত্রে বিভিন্নদেশি লোকজনের সাথে কথা হয়। মাস ছয়েক আগের কথা, এক সার্ভিয়ান ভদ্রলোকের সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশিদিন না। জানতে চাইলাম কেমন লাগছে? তিনি জানালেন, আশার আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি যতদুর জানতে পেরেছিলেন সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকা খুব গরীব একটা দেশ। এখানে জঙ্গিরা বোমা-বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মানুষ জন পড়ালেখা জানেনা, খেতে পায় না, বলার মত কোন রাস্তাঘাট নেই! কিন্তু তিনি বাংলাদেশে এসে খুবই অবাক হয়েছেন। তার সবথেকে অবাক লেগেছে বড়বড় দালান কোঠা, রাস্তায় অসংখ্য গাড়ি, মানুষ ইংরেজী জানে এবং মেয়েরা বড়বড় ডিগ্রি নিয়ে অফিসে কাজ করছে দেখে! তিনি যা জেনে এসেছিলেন তার কিছুই মেলেনি। বিমান ল্যান্ড করার সময় উপর থেকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন কোন সমস্যার কারনে পাশের আরেক দেশে বিমান ল্যান্ড করছে!! সে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, “তোমরাতো অনেক ভালো করছো, বাইরের দুনিয়া তোমাদের সম্পর্কে এতভুল জানে কেন?”।
আমাদের দেশকে পজিটিভ ব্রান্ডিং করার মত অনেক কিছু ছিল। আমরা পারিনি। সেটা খারাপ, কিন্তু তার থেকেও বেশি খারাপ, আমরা দেশের একটা নেগেটিভ ইমেজ তৈরী করে ফেলেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


