অনেকদিন বন্ধ থাকার পর মাত্র ২৭০০ টাকায় বিমান ভ্রমনের স্লোগান নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরুর দিনই ‘তেপান্তরের মাঠে’ আটকা পড়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের নতুন কেনা উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খি’। যাত্রীবোঝাই বিমানটি রানওয়েতে যাওয়া মাত্র এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়! ভাগ্য ভালো উড্ডয়নের পর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়নি! ২৭০০টাকা না, ৩৫০০ টাকা করেও যদি মাঝারি সেবা দিয়ে [ভালোর দরকার নেই!] বিমান যাত্রী বহন করে তাহলে বেসরকারী খাতে চলা বিমান গুলোতে প্রায় দ্বিগুন ভাড়ায় চলা যাত্রীরা সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই বিমান অচল হয়ে যায় নাকি কিছু স্বার্থান্বেষি গোষ্টি বিমানকে সচল হতে দেয় না, এই চিন্তা মাথায় আসেই।
আরেকটা ঘটনা বলি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। বাজারে দেশী ফোন ‘টেলিটক’ আসলো। ব্যাপক দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ঠিক করলাম আর সব অপারেটর বাদ। এখন থেকে ‘দেশের টাকা দেশেই রাখবো’। বাজারে আসার কিছুদিন পর সিমের দাম বেশ কমে গেল। এক দোকানে গিয়ে টেলিটকের সিম চাইতে বের করে দিল।
বললাম ‘রেজিষ্ট্রেশনের কাগজ পত্র দেন’।
দোকানদার বললো ‘টেলিটকের সিম রেজিষ্ট্রেশন হয় না!’ সীমের সাথে নাকি কোন কাগজপত্রই দেয়নি!
জানতে চাইলাম, এই নাম্বারটা ব্যবহার করবো। কোন কারনে সিম হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কি করবো?’
সাফ জবাব ‘আরেকটা কিনে নেবেন। দামতো বেশি না ফ্রি টক টাইম হিসাব করলে আর ৫০ টাকার মত দাম পড়ে।”
‘আমি যদি এই নাম্বারটাই নিতে চাই?’
‘ভাই আমাদের কাছে কাগজপত্র নেই। আপনি কাস্টমার কেয়ারে চলে যান।’
পরের দিন চলে গেলাম কাস্টমার কেয়ারে। এবং ঢুকেই প্রথম ধাক্কা! ততদিন অন্যান্য অপারেটর ব্যবহারের কারনে কাস্টমার কেয়ার সম্পর্কে একটা ধারনা জন্মেছিল। এখানে এসে তেমন কিছু পেলাম না। কিছু চেয়ার টেবিল আছে। কয়েকজন নিজের মনে কিছু একটা করছে। কয়েকজন গল্প করছে। আমিই একমাত্র ‘কাষ্টমার’, ‘কেয়ার’ নিতে গেছি। আমার সাথে কথা বলার কারো সময় নেই।
কিছুক্ষন হ্যালো,হ্যালো করার পর এক ভদ্রলোক আসলেন। তাকে সমস্যার কথা বলার পর তিনি জানালেন তার কিছু করার নেই। জানতে চাইলাম সিম হারালে কি করবো? উত্তর একই, ‘আরেকটা কিনে নেবেন।’ কিছুটা রেগেই জিজ্ঞাস করলাম ‘তাহলে কাস্টমার কেয়ারের কাজ কি?’ তিনি আরো রেগে উত্তর দিলেন, ‘আপনারা টেলিটক ব্যবহার করেন কেন? অন্য অপারেটর ব্যবহার করতে পারেন না? আপনারা আসেন বলেই আমাদের কাজ করা লাগে। না হলেতো আমরা এমনি এমনিই বেতন পাই। যত্তসব!’
তারপরও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলাম, দেশপ্রেম বলে কথা! আমাদের বাড়ি ছিল মুল শহর থেকে বেশ দুরে। ফোনে পুরো নেটওয়ার্ক দেখাতো কিন্তু কথা শুরুর ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই কল কেটে যেত। সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টার পর বাদ দিয়েছিলাম, আর কখনো ব্যবহারের চেষ্টা করিনি। আরো পরে দেশের আরেক প্রান্তের এক বন্ধুর সাথে কথায় কথায় জানতে পারি সেও একটি ‘সেবা’ নিতে যেয়ে একি উত্তরই পেয়েছিল। এখন শুনেছি টেলিটকের সেবা অনেক ভাল। কিন্তু আর সাহস হয়নি।
আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে এখন নিশ্চই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মান বেড়েছে। আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী শব্দ যুগল কতটা দায়িত্বকে নির্দেশ করে সেটা বোঝার শক্তিও আমাদের হয়েছে। ‘ময়ূরপঙ্খি’ কোন এক রাজপুত্রের হাত ধরে নতুন দিনের উদ্দ্যেশে পাখা মেলুক।
তোমার পতাকা যারে দিয়েছ,
বহন করিবার শক্তি না দাও,
বহন করিবার ইচ্ছাটা অন্তত দাও!”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




