somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার পতাকা যারে দিয়েছ, বহন করিবার ইচ্ছাটা অন্তত দাও!

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন বন্ধ থাকার পর মাত্র ২৭০০ টাকায় বিমান ভ্রমনের স্লোগান নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরুর দিনই ‘তেপান্তরের মাঠে’ আটকা পড়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের নতুন কেনা উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খি’। যাত্রীবোঝাই বিমানটি রানওয়েতে যাওয়া মাত্র এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়! ভাগ্য ভালো উড্ডয়নের পর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়নি! ২৭০০টাকা না, ৩৫০০ টাকা করেও যদি মাঝারি সেবা দিয়ে [ভালোর দরকার নেই!] বিমান যাত্রী বহন করে তাহলে বেসরকারী খাতে চলা বিমান গুলোতে প্রায় দ্বিগুন ভাড়ায় চলা যাত্রীরা সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই বিমান অচল হয়ে যায় নাকি কিছু স্বার্থান্বেষি গোষ্টি বিমানকে সচল হতে দেয় না, এই চিন্তা মাথায় আসেই।

আরেকটা ঘটনা বলি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। বাজারে দেশী ফোন ‘টেলিটক’ আসলো। ব্যাপক দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ঠিক করলাম আর সব অপারেটর বাদ। এখন থেকে ‘দেশের টাকা দেশেই রাখবো’। বাজারে আসার কিছুদিন পর সিমের দাম বেশ কমে গেল। এক দোকানে গিয়ে টেলিটকের সিম চাইতে বের করে দিল।

বললাম ‘রেজিষ্ট্রেশনের কাগজ পত্র দেন’।

দোকানদার বললো ‘টেলিটকের সিম রেজিষ্ট্রেশন হয় না!’ সীমের সাথে নাকি কোন কাগজপত্রই দেয়নি!

জানতে চাইলাম, এই নাম্বারটা ব্যবহার করবো। কোন কারনে সিম হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কি করবো?’

সাফ জবাব ‘আরেকটা কিনে নেবেন। দামতো বেশি না ফ্রি টক টাইম হিসাব করলে আর ৫০ টাকার মত দাম পড়ে।”

‘আমি যদি এই নাম্বারটাই নিতে চাই?’

‘ভাই আমাদের কাছে কাগজপত্র নেই। আপনি কাস্টমার কেয়ারে চলে যান।’

পরের দিন চলে গেলাম কাস্টমার কেয়ারে। এবং ঢুকেই প্রথম ধাক্কা! ততদিন অন্যান্য অপারেটর ব্যবহারের কারনে কাস্টমার কেয়ার সম্পর্কে একটা ধারনা জন্মেছিল। এখানে এসে তেমন কিছু পেলাম না। কিছু চেয়ার টেবিল আছে। কয়েকজন নিজের মনে কিছু একটা করছে। কয়েকজন গল্প করছে। আমিই একমাত্র ‘কাষ্টমার’, ‘কেয়ার’ নিতে গেছি। আমার সাথে কথা বলার কারো সময় নেই।

কিছুক্ষন হ্যালো,হ্যালো করার পর এক ভদ্রলোক আসলেন। তাকে সমস্যার কথা বলার পর তিনি জানালেন তার কিছু করার নেই। জানতে চাইলাম সিম হারালে কি করবো? উত্তর একই, ‘আরেকটা কিনে নেবেন।’ কিছুটা রেগেই জিজ্ঞাস করলাম ‘তাহলে কাস্টমার কেয়ারের কাজ কি?’ তিনি আরো রেগে উত্তর দিলেন, ‘আপনারা টেলিটক ব্যবহার করেন কেন? অন্য অপারেটর ব্যবহার করতে পারেন না? আপনারা আসেন বলেই আমাদের কাজ করা লাগে। না হলেতো আমরা এমনি এমনিই বেতন পাই। যত্তসব!’

তারপরও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলাম, দেশপ্রেম বলে কথা! আমাদের বাড়ি ছিল মুল শহর থেকে বেশ দুরে। ফোনে পুরো নেটওয়ার্ক দেখাতো কিন্তু কথা শুরুর ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই কল কেটে যেত। সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টার পর বাদ দিয়েছিলাম, আর কখনো ব্যবহারের চেষ্টা করিনি। আরো পরে দেশের আরেক প্রান্তের এক বন্ধুর সাথে কথায় কথায় জানতে পারি সেও একটি ‘সেবা’ নিতে যেয়ে একি উত্তরই পেয়েছিল। এখন শুনেছি টেলিটকের সেবা অনেক ভাল। কিন্তু আর সাহস হয়নি।

আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে এখন নিশ্চই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মান বেড়েছে। আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী শব্দ যুগল কতটা দায়িত্বকে নির্দেশ করে সেটা বোঝার শক্তিও আমাদের হয়েছে। ‘ময়ূরপঙ্খি’ কোন এক রাজপুত্রের হাত ধরে নতুন দিনের উদ্দ্যেশে পাখা মেলুক।

তোমার পতাকা যারে দিয়েছ,
বহন করিবার শক্তি না দাও,
বহন করিবার ইচ্ছাটা অন্তত দাও!”
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×