somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমুর প্রত্যাবর্তন

১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[হুমায়ুন আহমেদ মারা গেছেন, হিমু তো মরে নি! কেমন আছে হিমু, কি করছে? হিমু কি এখনো সেই হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে খালি পায়ে নিশুতি রাতে হেটে বেড়ায়?]

১

পাখির কিচির মিচির শব্দ হচ্ছে অনেক্ষন যাবত। কিছুক্ষন থামছে আবার শুরু হচ্ছে। শুনতে খারাপ লাগছেনা মোটেও। শুনতে শুনতে হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমি ঘুমিয়ে আছি। ঠিক ঘুমিয়ে আছি বলা যাবেনা, ঘুম ভাঙি ভাঙি করেও ভাঙছে না এমন একটা অবস্থায় আছি। এই অবস্থায়ই থাকতে ভাল লাগছে। মাথার ভেতর বেশ কিছু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। আমি এখন কোথায়? গতরাতে কি কোথাও গিয়েছিলাম? না হলে ঢাকা শহরে পাখির ডাক আসবে কোথা থেকে? ভাবতে ভাল লাগছে, আমি কোন এক শান্ত সবুজ গ্রামের গোলপাতার ঘরে ঘুমিয়ে আছি। বাইরে পাখি ডাকছে।

সুখ স্বপ্ন বেশিক্ষন স্থায়ী হল না। ঘুম ভেঙে গেল। এবং আমি বুঝতে পারলাম, আমি নিজের ঘরেই আছি। সেই পুরান মেছ। না লাগানো দরজা। আর পাশে পড়ে থাকা ক্ষুদ্র যন্ত্রটা থেকে পাখির ডাক ভেসে আসছে। এই এক নতুন যন্ত্রনা হয়েছে। সময় নেই অসময় নেই যখন তখন বেজে ওঠে।
এই যন্ত্র অথবা আরো ভালভাবে বললে যন্ত্রনাটা মাজেদা খালার দেয়া।

ঠিক তিন দিন আগে সকাল বেলা দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙে। সেখানে এক ঘাঘু টাইপের ভদ্রলোক চোখে ১০০ পাওয়ারের সন্দেহ বাল্ব জ্বালিয়ে দাড়িয়ে আছেন।

আমাকে চোখ খুলতে দেখে জিজ্ঞাস করলেন, ‘আপনি হিমু?’

‘ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ছিলাম। এখন ঠিক বলতে পারছি না’।

‘আসতে পারি’

‘দরজা যেহেতু খোলা, আসতে পারেন। আবার চাইলে নাও আসতে পারেন। আবার চাইলে এসে ফেরত যেতে পারেন, আপনার যেমন ইচ্ছা। শুধু আমি ঘুমাচ্ছি আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না।’

ঘুম জড়ানো গলায় উত্তর দিয়ে পাশ ফিরে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।

‘এখন ঘুমালে হবে না। আপনার আমার সঙ্গে যেতে হবে’।

‘কেন আপনি কি ডিবির লোক? নাকি ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গায়েব করে ফেলবেন? আচ্ছা আমাকে কি করবেন? স্রেফ গায়েব করে ফেলবেন নাকি গোপন কোথাও নিয়ে গিয়ে কষে ছ্যাচা দিয়ে দুই-চারটা মামলার আসামী বানিয়ে দিবেন? যা খুশি করেন, এখন ঘুমাবো। ঘুম থেকে ওঠার পর যেখানে খুশি নিয়ে যাবেন। তবে যদি একেবারে হাপিশ করে দিতে চান লাশটা কোন একটা নদীতে ফেলবেন। নদী জিনিসটা আমার বেশ পছন্দ’।

নদীর কথা বলতে বলতেই ঘুমে চোখ ভেঙ্গে আস লো। লোকটা কিছু একটা বলছিল। কিন্তু শোনার আগেই ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্ন দেখলাম আমি ময়ুরাক্ষীর তীরে পা ডুবিয়ে বসে আছি। কুলকুল শব্দে জল ছুটে যাচ্ছে। পেছন থেকে মিষ্টি গলায় একটি নারী কন্ঠস্বর আমাকে ডাকছে। স্বপ্নের ভেতরেই নিজেকে বোঝালাম, আমি একজন হিমু। একজন হিমুর স্বপ্নে কখনো কোন নারী আসতে পারে না। তার গলার স্বরও না।

লোকটার ধৈর্য্য খুব বেশি না। ঘন্টা খানেকের ভেতরেই তিনি আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। ‘উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হোন, আমি আর বসতে পারছি না। আমি ডিবির লোক না। আমাকে আপনার মাজেদা খালা পাঠিয়েছেন। আমি উনার ম্যানেজার, বিশ্বাস না হলে আমি ফোন দিচ্ছি কথা বলেন।’।

আমি উঠে বসলাম। মাজেদা খালার সাথে যোগাযোগ নেই প্রায় দু’বছর।

‘আমি ফোনে কথা বলিনা। ভদ্র মহিলা কেমন আছেন’?

‘কোন ভদ্র মহিলা’?

‘যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন। মাজেদা খালা।’

‘ও, আমি ভাবলাম আর কারো কথা জানতে চাইছেন? ভদ্র মহিলা বললেন তো তাই।’

‘কেন উনি কি ভদ্র মহিলা নন? খালাকে বলতে হবেতো!’

ম্যানেজার সাহেব ঘাবড়ে গেলেন। ‘না না, কি বলেন, উনি অবশ্যই ভদ্র মহিলা। খালা না বলে ভদ্র মহিলা বললেন তাই বুঝতে পারছিলাম না। কিছু মনে করবেন না। এটা ওনাকে জানানোর দরকার নেই। আপনার ঘুমাতে ইচ্ছা করলে আরো কিছুক্ষন ঘুমান। আমি বসছি।’

‘না, ঠিক আছে। চলুন উঠি। আর ভয় পাওয়ার কিছুনেই। এখনি খালা কে বলবো না আপনি তাকে অভদ্র বলেছেন। আপনাকে যখন ফাদে ফেলার দরকার হবে তখন বলবো।’

ম্যানেজার সাহেব ফেসে গেছেন। তিনি ঘামতে ঘামতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন।

[নাও চলতে পারে]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×