
আমরা দরিদ্র/অসহায়/ভিক্ষুকদেরকে দান করে থাকি যা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অংশ। এসব সহায়তা ও দান/সাদাকার উপযুক্ত প্রতিদান আল্লাহ আমাদের দিবেন এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।
গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা মহানগরীর কয়েকজন ভিক্ষুকের সাথে আমার আলাপ হয়। তারা দাবী করছেন ভিক্ষার মতো মনে হলেও, এটাকে তারা ভিক্ষা বলতে রাজী নয়- পরিশ্রম করেই উপার্জন করছে তারা। দিন চলার মতো পয়সা উপার্জন করতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়, ঘাম ঝরাতে হয়, দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। উল্টো আমার কাছেই তাদের কয়েকজনের প্রশ্ন ছিল, একজন সাধারণ শ্রমিক তাদের চাইতে কম সময়ে কম পরিশ্রমে আরো বেশি ইনকাম করে, তাহলে এটাকে ঠিক ভিক্ষা বলা যাবে নাকি পরিশ্রমের উপার্জনই বলতে হবে ?
আমরা জানি যে, ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহের এবং পরিশ্রম সম্মান ও সৌভাগ্যের। এ বিষয়ে হাদীসের মর্মাথ এরূপ, ‘নবীর শিক্ষা করো না ভিক্ষা মেহনত করো সবে। তারা তো মেহনত করেই উপার্জন করছেন, তাহলে সেটাকে ভিক্ষা বলে তাদের আত্মমর্যাদায় আঘাত করা উচিত কিনা!
আবার আমাদের দান সেখানে গিয়ে যদি পরিশ্রমের উপার্জনে রূপান্তরিত হয় তাহলে গরমিলটা কোথায় ? আমরা একটু বিশ্লেষণ করলে একটা উত্তর বেরিয়েও আসতে পারে। ধরুন, একজন পঙ্গু ভিক্ষুক দিনে ৬০০ টাকা ইনকাম করল। প্রত্যেক দাতা যদি গড়ে তাকে ২ টাকা করে দিয়ে থাকে তাহলে এই টাকা আয় করতে তার ৩০০জন লোকের কাছে হাত পাততে হয়েছে। প্রতি ২ মিনিটে যদি একজন করে তাকে ভিক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে ঐ ভিক্ষুকের বিরতিহীন ১০ ঘণ্টা লেগেছে এই ৬০০ টাকা আয় করতে। এ পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের দানের পরিমাণ যদি ১০০ টাকা করে হতো তাহলে ৬/৭ জনের কাছ থেকেই উক্ত পরিমাণ আয় উঠে আসত যেটাতে তার সময় লাগত হয়ত সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা(মিনিটে মিনিটে ২ টাকা করে দানকারী পাওয়া গেলেও ১০০ টাকা করে দানে সমর্থ ও ইচ্ছুক দাতা নাও মিলতে পারে)। এমতাবস্থায় ঐ পঙ্গু ভিক্ষুক বাকী সময়টা বিশ্রামে কাটাতে পারত। তাহলে দেখা গেল, দানের পরিমাণ বড় হওয়ার সাথে অসহায়ের রোজগারের পাশাপাশি তাকে কিছুটা আরামেরও ব্যবস্থা জড়িত।
দান/সাদাকা/যাকাত প্রদানে শরীআহর স্পিরিট হলো বেশি বেশি দান করা যাতে সঙ্গতিহীন/অসহায় ভিক্ষুক কিছুটা আরামের পাশাপাশি স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখতে পারে। আসুন আমরা অসহায়ের পাশে দাঁড়াই এবং বেশি বেশি করে দানের মহড়া ও শিক্ষায় অংশ নিই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





