
প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া লাগার সাথে সাথে গাছ থেকে দলে দলে পাতা ঝরে পড়তে শুরু করেছে। একটু আলতো বাতাসের দোলা লাগলেই গাছ থেকে ঝুর ঝুর করে পাতার দল হেলে দুলে নিচে পড়তে থাকে। পথচারীর মাথার উপরেও কখনো কখনো তারা জায়গা করে নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে আর কয়েকদিনের মধ্যেই বৃক্ষরাজির পত্র-পল্লবের বিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সারি সারি গাছের নিচে রাস্তায় এখন পরতে পরতে ঝরা পাতা জমে যাচ্ছে। গ্রামে এ পাতা কুড়িয়ে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হয় বলে সেখানকার পাতা বিশেষ মর্যাদা পায়। কিন্তু শহরে এ ঝরা পাতা অধিকাংশ পথচারীর বিরক্তির কারণে পরিণত হয়ে চরম অবমাননার শিকার হয়। দু’ পায়ে মাড়িয়ে যাওয়ার সময় পাতার কোন আকুতিই পথিক যেন শুনতে চায়না। ক’দিন আগেও যে পাতা পথচারীকে ছায়াবীথির স্পর্শ শীতলতা উপহার দিয়েছে সময়ের বিবর্তনে আজ সেই পাতাই পথিকের কাছে পদদলিত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বাসা থেকে বেরুলেই স্তরে স্তরে শুকনো ঝরাপাতার গালিচার সাক্ষাৎ পাই। তার ওপর দিয়ে হাটতে আমার ভালোই লাগে, মনে পড়ে যায় সেই গানের কথা, “শুকনো পাতার মর্মরে বাজে কত সুর বেদনায়”। তবে অনেককে দেখলাম এটাকে জঞ্জাল মনে করে পুড়িয়েও দিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে একটি চিন্তা আমার পিছু নিয়েছে, আমরা যারা পৃথিবীকে যৎসামান্য দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি সময় শেষ হলে আমাদেরও কি ঐ একই পরিণতি হবে ? পৃথিবী কি তখন আমাদেরকে অপ্রয়োজনীয় জ্ঞান করে পায়ে মাড়ানোর মতো অবমাননা করবে ?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




