somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সালেহ মতীন
ভাঙতে নয়, গড়তে চাই। গড়তে চাই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের একটি বিশ্ব সৌধ। আগামী প্রজন্মকে হানাহানিমুক্ত একটি শান্তিময় সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে চাই। সুন্দরকে আরো সুন্দর করে সাজানো এবং পরিশীলিত ব্লগিং চর্চার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনই আমার সাধনা।

১টা কিনলে ১০টা ফ্রি

১৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজধানীর খিলগাঁও জোড় পুকুর খেলার মাঠে মেলা বসেছে। বাসার সন্নিকটে হওয়ায় ছেলের আবদার রক্ষা করতে তার মা সহ গতকাল রাত ৯টার দিকে মেলায় গেলাম। ঢুকেই ২ দোকান পর নজরে এলো ১টা কিনলে ১০টা ফ্রি অফার। ফিরেও দেখলাম না। অতঃপর ছেলেকে নিয়ে খেলনা ট্রেনে ভ্রমণ এবং টুকটাক কিছু কেনা-কাটা শেষে ফেরার পথে আবার সেই দোকানের পাশ দিয়ে আসার সময় কিঞ্চিৎ কৌতূহল আমাকে পেয়ে বসল। ইতোপূর্বে এই একই ধরনের অফার অনেক দেখেছি কিন্তু কোথাও গা মাখায়নি। বাংলাদেশ নামক এই ভূ-খণ্ডে কত কিছুই না ফ্রি পাওয়া যায় !

দোকানে কোন কাস্টমার নেই। আমার কৌতূহলমিশ্রিত দৃষ্টি এবং পাশাপাশি কিছুটা আগ্রহের ঘনঘটা অনুমান করে বিক্রেতা আমাকে আহ্বান জানিয়ে মাত্রারিক্ত সম্মান দেখিয়ে ৩টি চেয়ার এমনভাবে মেলে ধরলেন যা প্রত্যাখ্যান করা আমার পক্ষে সম্ভব হলো না। তিনজনেই আসন গ্রহণ করলাম।

শুরু হলো অফারটির আদ্যোপান্ত বর্ণনা। এসব অফার সাধারণত নারী কাস্টমারদের ঘায়েল করতে ব্যবহৃত হয় বলেই আমার ধারণা। কিন্ত অফারটি আহ্বানকারী সুদর্শন যুবক কেন জানি আমাকে টার্গেট করেই বিবরণ শুরু করল। মূল আইটেম ১টি ইলেক্ট্রিক চূলা যার মূল্য ২২ হাজার টাকা যা কিনা বাংলাদেশের কোন দোকান থেকে এর চাইতে ২২ টাকাও কম মূল্যে কিনতে পারলে আমাকে সেটি ফ্রি দেয়া হবে মর্মে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হলো। সেটি কিনলে সহযাত্রী হিসেবে ফ্রি প্রদত্ত ১০টি আইটেমের মধ্যে রয়েছে ১টি করে ওয়াটার পিওরিফিকেশন মেশিন, রাইস কুকার, ফিরনি সেট, ইলেক্ট্রিক আয়রন, রুটি মেকার, কাটলারি সেট, স্যান্ডউইচ মেকার, টোস্টার, পাথরের জগ-গ্লাস সেট ও ১টি কফি মেকার যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য ২২ হাজার ৫শ টাকারও বেশি। সব আইটেমগুলো এক এক করে সামনে নামিয়ে সাজিয়ে রাখা হলো।

তারপর আমি নাকি আবার সারাদিন ১০টি অফারের মধ্যে সর্বশেষ সৌভাগ্যবান ব্যক্তি ফলে চূলাটি কিনলে ১০টি আইটেমের পাশাপাশি এক্সট্রা সম্মান হিসেবে আমাকে ২২ হাজার ৫শ টাকা মূল্যের ১টি মাইক্রোওভেন গিফ্ট করা হবে। সেটিও নামিয়ে রাখা হলো। মনে মনে ভাবছিলাম মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগে এই খিলগাঁওতেই মুরগি কাটার জন্য দোকানে দোকনে ঘুরে ব্যর্থতার কী অসম্মানই না ভোগ করেছিলাম। অথচ ধারণাই করতে পারছিনা যে তার মাত্র কয়েক গজ দূরে এই অধমের জন্য এত সম্মান অপেক্ষা করছিল ?

আমি মনযোগী শ্রোতা হিসেবে বিনা বাক্য ও বিতর্কে সব শুনছি আর বিনয়ের সাথে জী, হুম- এসব বলছি। লোভনীয় অফার বিবেচনা করে দেখলাম আমার স্ত্রীও কিছুটা পজেটিভ চিন্তা করতে শুরু করেছে- এমনকি পুত্র রাতিব তার মায়ের কাছে অনূচ্চ আওয়াজে আবদার করেই বসল- ‘মা এগুলো নাও।”

এখনই পেমেন্ট দিতে হবে না, বাসায় গিয়ে তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার সবগুলো আইটেম সেট করে ব্যবহার ওকে হলে তবেই পেমেন্ট। ৭ বছরের পূর্ণ হোম সার্ভিস গ্যারান্টি সবগুলো আইটেমের। ৭ বছর পূর্ণ হওয়ার ১দিন আগেও কোন আইটেম নষ্ট হলে ব্র্যান্ড নিউ আরেকটি দ্রব্য রিপলেস করে দেয়া হবে। আইটেমসমূহের মধ্যে কোনটা আমাদের প্রয়োজনীয় মনে না হলে সমমূল্যের অন্য কোন আইটেম বদলিয়ে নেয়ারও সুযোগ রয়েছে।

বিরতিহীন প্রায় ৫/৭ মিনিট ধরে চলল অফার সম্পর্কে লেকচার-এর মধ্যে মাস্টার আইটেম চূলাটি ব্যবহার করেও দেখানো হলো এবং বলা হলো পরিবারের সব রান্না করার পরও মাসে এর বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র ১২০ টাকা। নাতিদীর্ঘ বর্ণনার উপসংহার অংশে বিক্রেতা বললেন, “দিন শেষের মহাসৌভাগ্যবান ক্রেতা হিসেবে স্যার আপনি অফারটি গ্রহণ করতে ইয়েস বললেই আপনার জন্য থাকছে স্পেশাল গিফ্ট হিসাবে আরো ১৪ হাজার টাকার আইটেম। দেখাব স্যার ?”

লেকচার চলাকালীন ডানে-বামে লক্ষ্য করলাম আরো অনেক দর্শণার্থী ভিড় জমিয়েছেন। সবার টার্গেট এখন আমার দিকে- আমি কী জবাব দিই। বিক্রেতার স্বতঃস্ফূর্ততা ও আগ্রহী দর্শণার্থীর চাহনি দেখে অনুমান করা যাচ্ছিল সম্ভবত সারাদিনে এমন অনুগত ক্রেতার দেখা মেলেনি। লেকচার শেষ হওয়ার পূর্বেই ঝটিকা গতিতে আমার ক্যালকুলেশন সম্পন্ন হয়েছে। বাণিজ্যমেলাসহ অন্যান্য মেলায় এ ধরনের যত অফার দেখেছি সবখানেই আপনি সর্বশেষ ব্যক্তি, বেলা ১২টার সময় গেলেও তার আগে ৯জন অফারটি গ্রহণ করেছেন আপনিই ১০ম- এটি রহস্যজনক। ২২ হাজার টাকার চূলা কিনলে আরো প্রায় ৬০ হাজার টাকার অতিরিক্ত গিফ্ট এতো সস্তার পরও দোকানে কাস্টমার নেই কেন ? কোম্পানীর ৮২ হাজার টাকা মূল্যের এই পণ্যগুলোর উৎপাদন খরচ কি ২২ হাজার টাকারও কম ? এতদ্বিষয়ক রহস্যের উত্তর বের করা আমার পক্ষে যেহেতু সম্ভব নয় সেহেতু আমি নিজেকে এ অফারের জন্য উপযুক্ত মনে করলাম না। বিক্রেতার লেকচার শেষে ইয়েস/নট বলার প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই আসরে উপস্থিত স্ত্রীর মতামত গ্রহণেরও তোয়াক্কা না করে নির্দ্বিধায় আমি বলে উঠলাম সরি ভাই। সাথে সাথে ছেলের হাত ধরে দোকান ত্যাগ করলাম।

আমি কি ভুল করলাম ?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৪৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×