যে দেশে অনলাইন, অফলাইন, প্রতিষ্ঠান, নেমপ্লেট, ইষ্টিশনের নাম, বাজারের ঠিকানা, ট্রাফিকের সাংকেতিক চিন্হ, সিগনাল লাইট, রাস্তার আইল্যান্ড, রাস্তার মোড়ের ফোয়ারা, ভাস্কর্য, ফুটওভার ব্রিজ, অলিগলি কিছুই চোখে পরবে না। কারন সবকিছুই ঢাকা থাকবে কোন এক রাজনৈতিক দলের পোষ্টারে ও ব্যানারে। ঐ দেশের যে প্রান্তেই যান চোখে পরবে শুধুই তাদের পোষ্টরে ও ব্যানারে ছেয়ে থাকা প্রতিটি জনপদ।
আপনার কাছে মনে হবে এ যেন এক অন্য জগত যেখানে মানুষও বোধহয় কাগজে মোড়ানো হয়। সত্যি তাদের মনুষ্যত্ব, তাদের মন, তাদের চরিত্র, তাদের বিবেক সবই এখানে কাগজে মোড়ানো থাকে। তারা বুঝতেই পারে না যে তাদের জীবনের প্রকৃত মানেটা কি?
তাদের কাছে জীবন মানে হল ঐ পোষ্টার/ব্যানারে নিজের ছবি টানানো। নিজের কোন ইনকাম না থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার টাকা খরচ করে নিজেকে ঐ পোষ্টরে উপস্থাপন করার মাঝেই তাদের জিবনের সার্থকতা। নিজেকে ব্যক্তিত্ব অসহায়ের মত কোন গোষ্ঠীর কাছে বিলিয়ে দেয়া এবং তথাকথিত বড় ভাইয়ের পিছনে কাটানোই সময়ই হল তাদের জিবন।
কোন অবৈধ সুবিধা নেয়ার জন্য উম্মুখ হয়ে নিজেকে পোষ্টারে উপস্থাপন করা। পোষ্টারময় সে দেশে যাকে উদ্দেশ্য করে তারা এই পোষ্টারযজ্ঞ চালায়, ঐ ব্যক্তিরই ঠাই হয় পোস্টারের ছোট এক কোনে, ভাগ্যিস একটুর জন্য বের করে দেয় না। তারা পোষ্টারের জন্য যত শতকোটি টাকা ব্যায় করে সেটা যদি ঐদেশের অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিত তবে গরিব অসহায়ত্ব জনগোষ্ঠী এতদিনে সেদেশ থেকে বিলিন হয়ে যেত।
দল একটা, সংগঠন কয়েকশত, বড় নেতা কয়েক হাজার, পাতি নেতা কয়েক লক্ষ, আর কর্মীবাহিনী কয়েক কোটি (যদি তারা সবাই নিজেদেরকে নেতা বলেই বিশ্বাস করে)।তারা প্রত্যকেই চায় তাদের নাম ছড়িয়ে পরুক পাড়া-মহল্লা থেকে সারা দেশে। কিন্তু কিভাবে? সমাধান একটাই, নিজের ছবি নিজের টাকায় পোষ্টারে ছাপানোর মাধ্যমে অলিগলি সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া। হায়রে দেশ, কবি বেচে থাকলে গানের রিমেক ভার্সন বের করত এভাবে-
এমন পোষ্টারের দেশ কোথাও খুজে পাবে না কো তুমি
সকল দলের সেরা (!!) সে যে আমার জন্মভূমি। টুন টুনা টুন……………
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



