somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিবর্ন সভ্যতা
নিজেকে একা রাখতেই বেশি পছন্দ করি, তারপরও মাঝে মাঝে এক অদৃশ্য অস্তিতকে উপলদ্ধি করি।

খেলায় কষ্ট করে জিতে ক্রেষ্ট পাওয়া আর দোকান থেকে কিনে ক্রেষ্ট ঘরের ভিতর সাজিয়ে রাখা এক বিষয় না

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় যখন হাটে গরু কিনতে যেতাম তখন হাটের সব থেকে বড় গরুগুলোর দিকে চোখ থাকত। মনে মনে ভাবতাম ইস্ এই গরুটাকে যদি নিতে পারতাম কত ভালই না হত। কিন্তু মধ্যবিত্ত ফ্যমিলির সদস্য হিসেবে চোখে দেখা এবং কল্পনা করা পর্যন্তই সন্তষ্ট থাকতে হত। অর্থনৈতিক সামর্থ অনুযায়ী বাবা সব্বোর্চ চেষ্টা করতেন যতটুকু পারা যায় বড় গরু / দামী গরু কিনতে। আমরাও নতুন গরু পেয়ে দারুন খুশি, ইচ্ছা মত লতা-পাতা সংগ্রহ করে খাওয়ানো, বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া আরো কত কি। দুই তিন দিনেই তার সাথে এমন ভাব হয়ে যেত যেন বাংলা ছবির মত জনম জনমের প্রেম!! অন্যদিকে সমাজের কিছু সংখ্যক উচ্চবিত্তরা কে কত সংখ্যক কতটা দামি গরু কিনতে পারে তার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হত । একটা সময় সমাজের লোকেরাও বলাবলি করতে থাকে অমুক লোক অত টাকা দিয়ে গরু কিনেছে। লোক মুখে এসব বিশেষন শুনে মালিকপক্ষও তৃপ্তির ঢেকুর তুলত । তারা গরু লালন পালনের জন্য লোক নিয়োগ দিয়েই রিটায়ার্ড নিত।
একটা কথা পরিস্কার করা দরকার আমরা কোরবানী দেই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এখানে কে কত বড় কত দামী পশু কিনল সেটা কোন বিষয় না । বিষয়টা হল আপনার সামর্থ্য যদি থাকে ১০০০০/৫০০০০ টাকা আর আপনি যদি সে অনুযায়ী পশু কোরবানী দেন তবে আশা করা যায় মহান আল্লাহর কাছে আপনি পরিক্ষায় পাশ করবেন (ইনশাল্লাহ)। এখানে কম দামের কারনে আপনার সওয়াবের কোন হের ফের করা হবে না । কিন্তু যদি লোক দেখানোর জন্য টাকা ধার করেও বড় পশু কিনেন সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে। সর্বপ্রথম কথা হল নিয়ত পরিস্কার থাকতে হবে, আপনাকে বুঝতে হবে কোরবানী দিচ্ছেন আল্লাহর জন্য সমাজের লোকেদের দেখানোর জন্য নয়।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) যখন আল্লাহর আদেশে কোরবানী দিতে গিয়েছিলেন তখন দুনিয়ার কোন মানুষ জানত না। অথচ তার এই কোরবানী আল্লাহ সবথেকে বিশুদ্ধভাবে কবুল করেছেন । এখানে দাম, আকার, সংখ্যা এসব কোন কিছুরই মূল্য নেই আল্লাহ শুধু দেখবেন আপনার নিয়ত কতটা বিশুদ্ধ ছিল।
কমবেশি আমরা অনেকেই একটা বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেস্টা করি, আর সেটা হল কোরবানীর গোশস্ত বিতরনে ক্ষেত্রে অনেকেই নিজের ফ্রিজের ডিপটাকেই আগে প্রাধান্য দেই। আল্লাহ আপনার গোস্ত নেয়ার জন্য বসে নেই এটা আপনারই থাকবে । আপনাকে শুধু উনার নিয়মানুযায়ী এটা বন্টন করতে হবে। সমান তিন ভাগের এক ভাগ আপনি রাখবেন বাকি দুই ভাগ প্রতিবেশী আত্মীয় ও গরীব মিসকিনদের দিয়ে দিতে হবে। এখানে আপনার মনের মাধুরী মেশানের কোন সুযোগ নেই। গরিব লোকজন যখন আপনার দরজায় কড়া নাড়ে তখন সবথেকে নিম্নমানের গোস্ত টুকরাগুলো তাদের জন্য বরাদ্ধ করে রাখবেন, আর নিজের পরিবারের জন্য ভাল অংশের ভাগটা সংরক্ষিত থাকবে এমন মানসিকতা থেকে মুক্ত না হলে এটা আপনার জন্য শুধু একটা পশু জবাই করাই হয়ে থাকবে কোরবানী বলে গন্য হবে না। পশু কোরবানীটা একটা প্রতিকি মাত্র এখানে আপনার মনের খারাপ ইচ্ছা, লোভ-লালসাকে কতটা কোরবানী করতে পেরেছেন সেটাই মূখ্য বিষয়।
আপনাকে বুঝতে হবে কোন খেলায় কষ্ট করে জিতে ক্রেষ্ট পাওয়া আর দোকান থেকে কিনে ক্রেষ্ট ঘরের ভিতর সাজিয়ে রাখা এক বিষয় না। আপনি কোরবানি আসল টোন টা বুঝতে না পারলে পশু কিনে জবাই করতে পারবেন কিন্তু সেটা দোকান থেকে ক্রেষ্ট কেনার মতই একটা বিষয় হবে। খেলায় জিততে হলে আপনার মনের খারাপ ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাড়ানোর মত সৎ সাহস থাকা চাই।
সবশেষে বলতে চাই, এগুলো নতুন কোন কথা নয় এসব আমরা ছোটকাল থেকেই শুনে আসছি কিন্তু কোরবানি করা পশুর টাটকা গোস্ত দেখা মাত্রই সব নীতিকথা আমাদের মন থেকে কর্পূরের মত উড়ে যায়। সেখানেই আমাদের নৈতিকতার, বিবেকের ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরাজয় ঘটে বার বার।। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরবানীর মহাত্ম বুঝার তৌফিক দান করুক।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×