somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিলম্বে ঘটা অনুভূতিগুলো....

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাইস্কুলে পড়ার সময়ে একবার ক্লাসে ৫ মিনিট দেরি করে যাওয়াতে বেরসিক মাস্টার আমাকে দুই হাত পাততে বললেন। সম্ভাব্য শাস্তির কথা ভেবে হাত পাততে ইতস্তত বোধ করছিলাম। একাধিকবার বলার পর আমি হাত দুটো বাড়িয়ে দিলাম, তিনিও মনের খায়েস মিটিয়ে বেত দিয়ে আমার সাদা হাত দুটি লাল করে দিলেন। পুরো ক্লাসের পিনপতন নিরবতার মধ্যেও একটা মেয়ের ক্ষিন হাসির শব্দ আমার মনে কাটার মত বিধেছিল। আমি নিবার্ক হয়ে মাথা নিচু করে বসে রইলাম আর মনে মনে মাস্টারের চৌদ্দ গৌষ্ঠি উদ্দারে ব্যস্ত ছিলাম। আজকের মত ক্লাস এখানেই সমাপ্ত ।

অনেকগুলো বছর পর...
কমলাপুর রেল স্টেশনে দাড়িয়ে আছি ট্রেনের অপেক্ষায়, আমাদের দেশের ট্রেন ঠিক টাইমে চলে আসলে নিজের কাছেই কেমন জানি অস্বাভাবিক মনে হয়। প্লাটফর্মএ ট্রেনের জন্য কতক্ষন অপেক্ষা না করলে পুরো ভ্রমনটাই কেমন জানি পানসা পানসা লাগে। কিন্তু ট্রেনের অপেক্ষার সময়টা কেন জানি আজকে একটু বেশিই দীর্ঘ মনে হচ্ছে । আমার সামনে অনেকেই অপেক্ষার অবসানের জন্য পায়চারি করছে, অনেকে আবার নিজেদের বাচ্চাদের এলোমেলো গতিবিধি নিয়ন্ত্রনে ব্যস্ত। একটা মেয়েকে দেখলাম দুর থেকে দৌড়ে আসছে হয়তবা ভাবতেছিল ট্রেন মিস করল কিনা? তাই উনার সময়ের সাথে এত দৌড় প্রতিযোগিতা। যেকোন স্টেশনে এমন ঘটনা প্রায়ই চোখে পড়ে তবে, এবার কিন্তু তেমন কোন কমন ঘটনা ছিল না।

উনি যতক্ষনে দৌড় শেষে আমার কাছাকাছি এসে পৌছাল ততক্ষনে অনিয়ন্ত্রিত বিক্ষিত চুলগুলো উনার মুখের উপরে এলোমেলো ভাবে দখল নিয়েছে। মেয়েদের এমন অবস্থায় দেখতে বোধহয় একটু বেশিই মায়াবী মনে হয়। আমিও আর আট/দশ জনের মত কিছুটা কৌতুহল নিয়ে উনার গতিবিধি লক্ষ্য করছিলাম। কিন্তু সে কি !! এই রমনীকে তো কেমন জানি পরিচিত মনে হচ্ছে। দুইজনের মাঝে কিছুক্ষন কৌতুহলপূর্ন নিরব চাহনির পর বুঝতে পারলাম আমরাই সেই চির প্রতিদ্বন্ধি যারা নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করতেও পিছপা হতাম না।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বয়স, অভ্যাস ও শারিরিক গঠন এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। নিরবতার অবসানের পর, জিজ্ঞেস করলাম তোমার এত তাড়া কিসের ? জ্যামে আটকে ছিলাম অনেকক্ষন তাই ভাবলাম ট্রেনটা মিস করব বুঝি ।
বললাম, ভাগ্যিস আজকে দেড়ি করার জন্য কোন শাস্তি দেয়া হবে না, নয়তো তোমাকে এত লোকের সামনে হাত পাততে হতো। সে অনেকটা লজ্জিত হয়ে “দুখিঃত” বলেছিল বটে তবে দুঃখবোধ থেকে তার লজ্জারাঙ্গা মুখটাই বেশি উজ্জল হয়ে ধরা পরেছিল। একসময়ের এত চঞ্চল একটা মেয়ে সময়ের পরিবর্তনে এমন করে এতটা কাতরভাবে লজ্জিত হতে পারে সেটা ভাবতেই আমার অবাক লাগছিল। বেশকিছুক্ষন আলাপচারিতার পর তার বিধবা জিবনের একাকিত্ব, বৃদ্ধ মা-বাবাকে সাহায্য করা, প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরির ব্যস্ততা সবকিছু শুনে একটা মেয়ের জিবনযুদ্ধ আমাকে অনেকটাই আবেগপ্রবন করে তুলেছিল।
বলেছিলাম, তুমি কি পুনরায় তোমার জিবনে অন্য কাউকে সুযোগ দিতে চাও? সে কিছুক্ষন নিরব থাকার পর বলল, কেউ আমাকে করুনা করুক সেটা আমি চাই না এবং আমি কারো আবেগের কারন হই সেটাও আমার পছন্দ না। আমি অনেকটা গভিরতা নিয়েই বললাম, আমি কিন্তু তোমার প্রতি আবেগ অথবা করুনা কিছুটাই প্রদর্শন করছি না আমি শুধু আমার নিজেকে ভাল রাখার জন্য তোমার সাহায্য চাইছি। সে ঈষৎ হাসি হেসে বলল, তুমি বরাবরই বিলম্ব কর এবারও অনেকটা তাই।

ততক্ষনে ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলো.....

আমি তার চোখে চোখ রেখে বললাম, আমরা দুইজনেই হয়তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিলম্ব করেছি বটে তবে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য ট্রেনটা কিন্তু একসাথে সঠিক সময়েই পেয়েছি। সে আর কোন যুক্তিই দিতে পারল না.....

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×