রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইদানিং বেশ আলোড়ন চলতেছে, বিষয়টা একদিক থেকে অমানবিক অন্যদিক থেকে তারা যেহেতু মুসলিম সম্প্রদায় সেই হিসেবে একটা স্পর্শকাতর বিষয়। সোশ্যাল মিডিয়ার সহজলভ্যতার কারনে এই বিষয়টা এখন একটা হট টপিকে পরিনত হয়েছে। এখানে একটা বিষয় ক্লিয়ার হওয়া প্রয়োজন, বিষয়টা একদিক থেকে যেমন রাষ্ট্রিয় সমস্যা, অন্যদিক থেকে মানবিক ও ধর্মীয় সমস্যা।
প্রথমত যদি রাষ্ট্রিয়ভাবে চিন্তা করা যায়, তখন ব্যাপারটা হবে অন্য একটা দেশের এমন বিশাল সংখ্যক জনগনকে কিভাবে আমরা আশ্রয় দিতে পারি? যদি সেটা সাময়িক সময়ের জন্য হয়ে থাকে তবে এত চিন্তা করার কিছু নেই আমরা অন্তত মানবিকতার খাতিরেই সেটা করতে পারি এবং সেটা করা উচিত। কিন্তু তারা যদি আর ফেরত না যায় অথবা তাদেরকে যদি আর ফেরত নেয়া না হয় তবে এখানে একটা ভাববার বিষয় আছে। তবে মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র হিসেবে (যদি রাস্ট্রের নীতি নির্ধারকরা নিজেদের খাটি মুসলিম মনে করে) তাহলে রোহিঙ্গাদের মুসলিম সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের অব্যশ্যই শত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাদের সাহায্য করা উচিত। অপরদিকে যদি আমরা আমাদের বানানো রাস্ট্রিয় সংবিধান, আইন কানুন এসবের দোহাই দেই তাহলে সেটা নিতান্ত্যই ভিন্ন বিষয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মোহাম্মদ (সাঃ) ও সাহাবিরা যখন মক্কার কাফেরদের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন তখন মদিনার আনসাররা তাদের শত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মুজাহিরদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র থাকার জন্য আশ্রয় না তাদের সম্পত্তি, সন্তান, খাবার এমনকি নিজেদের জিবন দিয়েও মক্কার কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। এটাই হল মুসলিম ভ্রাতৃত্যবোধ। আর আমরা এখন পাশের দেশের মুসলিমদের উপদ্রব হিসেবে চিন্তা করি! আমাদের আর তাদের মধ্যে এটাই হল ইসলাম পালন তথা ঈমানের দৃঢ়তার পাথর্ক্য।
আব্বাসিয় খিলাফতের সময় হাজার হাজার কিলোমিটার দুরে যখন এক মহিলাকে বির্ধমীরা নির্যাতন করছিল তখন ঐ মহিলা খলিফার সাহায্য চেয়েছিল। তার আত্মবিশ্বাস ছিল যে, সে এমন এক সস্প্রদায়ের অংশ যেখানে তাকে সাহায্য করার অব্যশ্যই কোন না কোন ব্যবস্থা করা হবে। এটাই ছিল তখনকার মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ সস্প্রতি। কাফেররা তখন এই মহিলার প্রার্থনা দেখে উপহাস করে বলেছিল এত দুর থেকে খলিফা তোমাকে কিভাবে সাহয্য করে আমরা দেখতে চাই। অন্যদিকে খলিফা মুহতাসিমের কাছে এই খবর পৌছা মাত্রই সে বিশাল এক সৈন্য বাহিনী প্রেরন করেন মহিলাকে উদ্ধার করার জন্য। পরবর্তীতে সেই সেনাবাহিনী পুরো রাজ্যকেই দখল করে নেয়। এমনটাই ছিল তখনকার ইসলামের সংবিধান, এটাই হল মুসলিমদের ঐক্যতার ফলাফল।
আর আমরা নিজেরাই প্রতি বছর বছর কাটা ছেড়া করি যেই সংবিধান সেটাকে সবথেকে উদ্ধে তুলে ফতুয়া দেই আর সেখানে নিজেদের স্বার্থের বাইরে থাকে না কোন মানবিকতা, থাকে না অন্যের প্রতি উদার হয়ে আত্মত্যাগের স্পৃহা। আর ভাবি আল্লাহ আমাদের সাহায্য করে না কেন? বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা শুধু মার খাচ্ছে কেন, কেন আমরা নির্যাতিত হচ্ছি? আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবে? এই জাতিকে সাহায্য করবে যারা নিজেরাই নিজেদের গুম, হত্যা, লুট, ধর্ষন করে একটা অদ্ভুদ মুসলমান জাতিতে আমরা পরিনত হয়েছি।
এখানে রাস্ট্রিয় আইন-কানুন এসবের জটিল ও কুটিলতার ভিতর থেকে আপনি কিছুই করতে পারবেন না, কারন এখানে শাসকগোষ্ঠির মতামত ও তাদের সিদ্ধান্ত্যই চূড়ান্ত। আপনার নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধিনতা, আইনের স্বাভাবিক গতিতে চলা, বিচার ব্যবস্থা এসব শুধুই সংবিধানের পাতায় পাতায় চাপা পরে থাকা কয়েকটি শব্দগুচ্ছ ছাড়া কিছুই নয়।
আমরা সবাই দুনিয়ার সব ভাল ভাল কথা জানি, এখন শুধু কাজে পরিনত করাটাই বাকি। আল্লাহ সময় সুযোগ সবসময় দেন না এখন রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য করার মাধ্যম হিসেবে শুধুমাত্র সত্য-মিথ্যার ফটোশপের আশ্রয় নিয়ে ছবি পোস্ট না করে বাস্তব জগতে তাদের সাহায্য করার চেস্টা করি। আপনার এইসব পোস্ট, আমিন, সুবাহানল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ কমেন্টে তাদের পেট ভরবে না। আগে তাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসুন পাশাপাশি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন তিনি দ্রুতই এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



