আমার বারান্দাটা খুব অপরূপ করে সাজানো।
ছোট ছোট টবগুলোতে বাহারী ফুলের গাছ,
দখিণপাশে খাঁচায় আমার পোষা টিয়া,
আর তার পাশেই আমার ভালবাসার মল্লিকা।
গাছগুলোতে সময় করে পানি দেওয়া,
মল্লিকার গায়ে হাত বুলানো,
বর্ণকে তিনবেলা খাওয়ানো, কথা শেখানো-
এটাই যেন আমার অবসর।
মল্লিকা আমার প্রিয়,
ভালোবাসা পেয়ে ও লকলক করে বেড়ে উঠছে।
প্রতিবেশিরাও ভালোবাসায় আপ্লুত।
এখন অধীর প্রতিক্ষা-
কবে আমার বারান্দা শোভিত হবে ফুলে ফুলে!
লাল, নীল, গোলাপি আর সাদা আভায় ভরে যাবে
আমার হৃদয়বাগিচার এপাশ ওপাশ!
কবে বর্ণ বলে উঠবে, “আমার নাম বর্ণমালা”!
অপেক্ষার সুদীর্ঘ প্রহর গুণে গুণে আমি ক্লান্তই বটে।
বন্ধা রমণীর মত ওরা আমাকে শুধু ছলনাই করেছে।
আমার ঘরের ফুলদানিটা এখনো খালি।
আমার মনের বিবর্ণ দিগন্তে শুধুই হাহাকার।
-আজকের সকালটা একটু আলাদা!
বারান্দা থেকে সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে-
আমার ঘরের প্রতিটি কোণে।
লাল, নীল, গোলাপি আভা ছড়াচ্ছে সোনালি রোদ।
প্রভাত বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে-
“আমার নাম বর্ণমালা, আমার নাম বর্ণমালা”।
আজ একুশ, একুশে ফেব্রুয়ারি।
ফুলেরা রঙ মাখলো সবুজ পাতার ফাঁকে,
পাখিরা গাইলো আনন্দে, উল্লাসে,
প্রভাত আলো বর্ণমালার রং ছড়ালো-
দিগন্ত থেকে দিগন্তে।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



