somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউটার্ণ: বাংলা সিনেমায় নতুন মাত্রা

১৩ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

_ভালো সিনেমা বানালে দর্শক এমনিতেই হলে আসবে৷ বংলা সিনেমা ভালো মানুষ দেখে নাকি? এগুলা কি বানায়? ছি! ছি! ছি! না আছে গল্প না আছে গান i think যাত্রাপালাও এগুলোর চেয়ে ভালু ব্লা ব্লা ব্লা,,,
,
_ভাই থামেন অনেক বলছেন৷ আপনারা ভালো সিনেমা চান তো? রেডি আছে৷ যান হলে যান ইউটার্ন দেইখ্যা আসেন৷ দেখি কতবড় সিনেমাখোর আপনি৷ হলে গিয়ে যদি মনে হয় আমি আপানাদের মিথ্যা কথা বইল্লা হলে পাঠাইছি৷ তবে এই নেন আমার নাম্বার 01868-457299 ক্ষতিপূরন হিসেবে টিকেটের ডাবল টাকা ফেরত দিমু৷
,
উপরের কথা গুলোর মাধ্যমেই আশা করি অনেকেই আঁচ করতে পারছেন ইউটার্ন কেমন সিনেমা৷
,
ইউটার্ন একটি ক্রাইম সিনেমা৷ আপরাধ জগতের দুই গ্রুপের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবিটি৷ ঐ দুই গ্রুপের দ্বন্দ, ট্রাজেডী, প্রতিশোধ এবং ঐ দুই গ্রুপকে ঘিরে থাকা চরিত্র গুলোর প্রেম, পরিনীতি ইত্যাদি নিয়ে এগিয়েছে ছবির কাহিনী৷
,
এটি একটি ভিন্নধর্মী বানিজ্যিক সিনেমা৷ এককথায় ঢালিউডে এ ধরনের সিনেমা কখনও হয়নি৷ ছবিটিকে আপনি তামিল মসলা ছবির ক্যাটাগরিতে ফেলতে পারবেন না, হলিউড বলিউড সিনেমার ক্যাটাগরিতেও এটি পড়ে না আবার গতানুগতিক ধারার বাংলা সিনেমাও এটি নয়৷ বলতে গেলে বাংলা সিনেমায় একটি নতুন ধারার নাম ইউটার্ন৷ ইফতেখার চৌধুরী, আশিকুর রহমান, সৈকত নাসির সহ ঢালিউডের নতুন প্রজন্মের আলোচিত নির্মাতারা যেখানে তামিল, বলিউড, হলিউডে যেকোন একটি ধারার অনুকরনে সিনেমা তৈরি করছেন সেখানে আলভী আহমেদ নিজের মতো করে সাজিয়েছেন মুভিটিকে৷ অন্তত এই ব্যাপারটার কারনে অন্যান্য নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের থেকে এগিয়ে গেলেন আলভী আহমেদ৷ স্যালুট জানাই নির্মাতা আলভী আহমেদ ও ওনার সৃজনশীলতাকে৷
,
ছবির প্রথম ভাগ দ্বিতীয় ভাগের তুলনায় কিছুটা স্লো ছিল৷ কিন্তু
বোরিং ছিল না মোটেও৷ গতিহীন প্রথম ভাগে দর্শক যাতে বিরক্ত না হয় সেজন্য নির্মাতা দুটি আইটেম গান রেখেছেন ছবির প্রথম ভাগে, একটা সুফি গানও ছিল৷ তবে আমার মতে নির্মাতা যদি আইটেম গান না করিয়ে যদি তিনি তিন জুটির রসায়নটা আরো
পাঁকা করার দিকে নজর দিতেন তবে দর্শকদের আরো ভালো লাগত৷ অবশ্য তিন জুটির রসায়ন এমনিতে খারাপ ছিল না৷ বিশেষ করে বর্ষা সেলিমের (শিপন সোনিয়া) জুটিটা সবার ভালো
লেগেছে৷ বিশেষ করে বর্ষার বাচালতা ও চঞ্চলতা সবাইকে আনন্দ দিয়েছে৷ এবং বর্ষা সেলিম জুটিটাও সবার ভালো লেগেছে শুধুমাত্র বর্ষার কারনে৷
,
ছবির প্রথম ভাগ যতটা স্লো ছিল৷ দ্বিতীয় ভাগ ততটাই ফার্স্ট ছিল৷
একের পর এক ট্রাজেডি টুইস্টে আপনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন৷ এককথায় পরিচালক এ অংশে এক মুহুর্তের জন্যও পর্দা থেকে চোখ সরাবার সুযোগ রাখেননি৷ সিনেমা আসলে এরকম গতিময়ই হওয়া উচিত৷ ধন্যাবাদ আলভী আহমেদকে এরকম টান
টান উত্তেজনা সম্পন্ন রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় হাফ উপহার দেওয়ার জন্য৷
,
ছবির সংলাপ গুলো ছিল অসাধারন ও চমকপ্রদ৷ বিশেষ করে আরিফ হায়দার অর্থাৎ শহিদুজ্জামান সেলিমের সংলাপ গুলো বেশ ভাল্লাগছে৷ সংলাপ ছাড়াও ছবিতে ক্যামেরার কাজ, আবহ সংগীত, কালাকুশলীদের পোষাক পরিচ্ছেদ, লোকেশন সবই ছিল
অসাধারন৷ মোটকথা ছবির আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ছিল যত্নের ছাপ৷
,
ছবির আরেকটি প্রশংসনীয় দিক ছিল কলাকুশলীদের অভিনয়৷ সহিদুজ্জামান সেলিমের অভিনয় ছিল অনবদ্য৷ মিশা সওদাগরও ফাঁটিয়ে দিয়েছেন৷ তিনি আবারও প্রমান করলেন He is the BOSS…. যেকোন চরিত্রে এভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এরকম ক্ষমতা হয়ত বলিউড হলিউডের বাঘা বাঘা অভিনেতাদেরও নেই৷ এছাড়া বর্ষা চরিত্রে নতুন নায়িকা সোনিয়ার অভিনয় হৃদয় ছুয়ে গেছে৷ জানি না সোনিয়াকে কে
কাস্ট করছেন৷ তবে এটুকু বলতে পরি যিনি করছেন তিনি একজন পাঁকা জহুরী৷ খুজে খুজে একেবারে খাঁটি সোনা বের করে এনেছেন ৷ এ মেয়ে ডিরেক্টরদের সুনজরে পড়লে মাহি, পরীর মতো কাঁচা ও ন্যাকামি সর্বস্ব নায়িকারা তুরির সাথে উড়ে যাবে৷
শিপন ও অইরিন ছাড়া ছবির অন্যান্য কালাকুশলীরাও নিজ নিজ চরিত্রে ভালো অভিনয় করেছে৷ এমনকি আরশাদ আদনানও পাশ নম্বর পেয়েছে৷ শিপনের অভিনয় নির্জীব লেগেছে৷ অবশ্য শেষের দিকে কিছুটা গতি এসেছিল ৷ তাছাড়া ওর অভিনয় নির্জীব লাগলেও বিরক্তিকর লাগানি খুব একটা তবে শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত আইরিনের অভিনয় ছিল বিরক্তির৷ ওর ন্যাকা ন্যাকা ডায়লগ ডেলিভারি অনেকটাই অসহ্যকর লাগছিল৷
,
দুটি আইটেম গান আর একটি রোমান্টিক গান ছাড়া বাকি গান গুলোর সবই সিকোয়েন্সের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে৷ সিকোয়েন্সের দৈর্ঘ্যে অনুযায়ী ছবিতে গান গুলোর ব্যাপ্তি ছিল মাত্র দু থেকে তিন মিনিট৷ ব্যাপারটা বাংলাদেশী ছবির জন্য নতুন৷ এবং আমি এটাকে বেশ পজেটিভলি নিচ্ছি৷ ছবির আইটেম গান গুলোর কথা না বললেই নয়৷ পাহাড়ী গানটার কোরিওগ্রাফি
ভালো ছিল৷ এবং রুচিশীল দর্শকরা জেনে খুশি হবেন যে দুটো আইটেম গানেই অশালীনতা সীমা ছাড়িয়ে যায় নি৷ ব্যাপারটার জন্য সাধুবাদ জানাই নির্মাতাকে৷
,
সব মিলিয়ে আলভী আহমেদের স্মার্ট মেকিং ইউটার্ন ৷ একটি অসাধারন মুভি ইউটার্ন৷ সব শ্রেনীর দর্শকদের দেখার মতো মুভি ইউটার্ন৷
,
উল্লেখ্য আমি বৃহস্পতিবার 4|6|2015 তারিখে ছবিটি কুমিল্লার মধুমতি সিনেমা হলে 12 টার শোতে ছবিটি
দেখি৷ হলে 40 পার্সেন্টের মতো মানুষ ছিল৷ দুই একজন ছাড়া বাকি সবাই ছবিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছে৷ সবাই যখন হল থেকে বের হল তখন সবার মনেই একটা মিস্টি হাসি লেগেছিল৷ এ হাসি মূলত তৃপ্তির হাসি৷ আড়াই ঘন্টার সলিড বিনোদনের মাধ্যমে টিকেটের 60 টাকা উসুলের হাসি৷ আপনারাও দেখে আসুন না ইউটার্ন গ্যারান্টি দিলাম তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতেই বাড়ি ফিরবেন৷
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৫:৩০
৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×