somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদায়ী মানপত্র

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমাজবিজ্ঞান বিভাগে জীবনের শেষ ক্লাসটি করে ফেলেছি। ক্লাসে হুট করে দাড়িয়ে আর কখনো মজা নিবো না। আমাকে প্রথম বেঞ্চে না বসানোর ষড়যন্ত্র থেমে যাবে। ক্লাসে কাঊকে দেখে হাত বাড়ানোটা মিস করবো অনন্তকাল। বোরিং ক্লাসে লেকচার খাতা আর কোনদিনই কবিতার খাতা হবেনা। শীতকালের ক্লাশ শেষে যাবনা চা খেতে কিংবা গরমের দিনে সেমিনারে এসির বাতাসে দেহে প্রশান্তি আনতে । এরকম অজস্র স্মৃতির বেড়াজালে আমি বন্দী। এইসব ঘটনাগুলো আমি ভুলবো না। ট্যুরের স্মৃতি বলতে গেলে ভয়ংকর ইমোশনাল হয়ে যাবো। আমাদের স্মৃতি আমাদের একই বৃত্তে বেঁধে রাখবে আমৃত্যু। কারণ “Between hello and goodbye is I LOVE YOU” ― Jarod Kintz। আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে ভাবি সারাদিন কী কী কাজ করলাম। এতে আমার কিংবা কার কার কতটুকু উপকার হবে। কারো ক্ষতি করলাম না তো? কারণ আমি এই দিনটা এই জীবনে আর ফিরে পাবো না।অন্তত কিছুটা ভালো কাজ তো করে রাখতে পারলাম যাতে স্বস্তি নিয়ে সন্ধ্যা সহ রাতটা ভালোভাবে কাটাতে পারি । পুরো জীবনের চিত্রটাই এক। জীবনের কতটুকু পার করে এসেছি তা মহান আল্লাহ্‌ই ভালো জানে। তবে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো যে জীবন থেকে চলে গেছে তা চিরসত্য। মায়ের মধুর চুম্বন মিশ্রিত স্নিগ্ধ ভোরে চোখ মেলে তাকানো, বাবার হাত ধরে সকালের খাবার খেতে বসা, বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া, স্কুল থেকে এসে পুকুরে সাঁতার কাটা, বিকালে মাঠে খেলা করা, সন্ধ্যায় পরতে বসা। এগুলো ফিরবেনা কোনদিনও, ফিরবেনা সেই পরিচিত মুখগুলোও। নটর ডেমের ছাত্র ছিলাম বিধায় কলেজে ছিল গণ্ডি বাঁধা জীবন, ভার্সিটিতে এসে আবার প্রান ফিরে পেয়েছিলাম সেই শৈশবের। ২০০৮ সালের ৮ ই এপ্রিল যে যাত্রার শুভ সূচনা হয়েছিল তার সমাপ্তি হয়েই গেল।এক একটা দিন ছিল এক একটা মাস্তিময় অনুভূতিগুলোর সংমিশ্রণ। কুমিল্লার ট্যুর, ক্লাস পার্টি, নৌভ্রমণ ২ টা, কাঙ্খিত কক্সবাজার ট্যুর, এবং সবশেষে হবিগঞ্জ ট্যুর, আমার জন্মদিনে ক্লাসে কেক কাটা, ইফতার পার্টি, কোনটা ভুলবো আমি! এই দিনগুলোও কোনদিনও ফিরে আসবেনা।যা ছিল সবার বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ সবচেয়ে বড় একটা বিভাগ। এখানে ৬৪ জেলার প্রতিনিধি আছে। সবার সাথে বন্ধুত্ত হয় না এইটা আমি কোনদিনও বিশ্বাস করি নাই। আমি সবার সাথে মিশেছি সবার সাথে থেকে শিখেছি। আমি নতুন করে শিখেছি হৃদয়টা কিভাবে বিশাল রাখতে হয়? কিভাবে না ডাকলেও অন্যকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হয়, কষ্টে সান্ত্বনা দিতে হয়, বন্ধুর অভিমান ভাঙ্গাতে হয়, ভেদাভেদ ভুলে উৎসবে একত্রিত হতে হয়। সত্যি ই আমি আমার বন্ধুদের কাছে অনেক ঋণী হয়ে গেলাম। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হলেও জীবনে হয়ত একটু সুন্দর সমৃদ্ধি আনতে পারবো। হ্যাঁ আমি বন্ধু পেয়েছি, আমি কাঁদলে আমার অশ্রু আমার বন্ধুদের হাত ফাঁকি দিয়ে কখনই মাটিতে পরতে পারেনি। শত অভিমান বাদ সাধেনি আমাদের সম্পর্কের। আমরা গ্যাংনাম স্টাইলে সবাই একসাথে নাচতে পারি নাই সত্যি কিন্তু জেণ্টালম্যান গানের মত মজা করেছি অনেক। আমাদের একটাই অপূর্ণতা রয়ে গেলো যে আমরা একটা ড়েগ ডে করতে পারি নাই। কেন করতে পারলাম না তার ব্যাখ্যা দিয়ে আমি শেষ সময়ে আর নতুন বিতর্ক করতে চাই না। আশা হতাশা নিয়েই জীবন। প্রাপ্তির হিশেবে আমরা অনেকটাই সফল বলে মনে করি। এগুলোই আমাদের ভবিষ্যতের উদ্দীপক যে “আমরাও পারি” । উত্তর আধুনিক যুগে “যেতে নাহি দিবো হায়... তবু চলে যায়” কথাটা বড় বেমানান লাগে। কারণ “for every goodbye, God also provides a hello” ― Donna Gable Hatch। আমার কাছে জীবনটা হল দিন আর রাতের মিশ্রণ। জন্ম হয়েছে তো দিন শুরু আর রাতে ঘুমিয়ে পরব মানে চিরঘুমে যাব। সারাদিন কি করলাম তার উপর নির্ভর করছে রাত কাটানো। দিনে উপার্জন করলে রাতে সবার সাথে সেটা উপভোগ করা যায়। দিনটা যদি ভালভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে বিকালে তার কর্মফল নিয়ে ভালো একটা রাত কাটানো যাবে।কারন ঘুমিয়ে পড়ার ডাক এসে পরতে পারে যেকোনো সময়। ছাত্রজীবন শেষ হয়ে যাওয়া মানে জীবনের দিনের বিদায়লগ্ন। আমি এই লগ্নে দাড়িয়ে দুই হাত শূণ্ণে প্রসারিত করে চীৎকার করে বলতে পারছি যে “Thanks God I found the GOOD in goodbye” ― Beyoncé Knowles। সারাটা দিন তো কাটল, এইবার অপেক্ষায় আছি প্রিয় মানুষগুলো নিয়ে ভরা জ্যোৎস্না কাটানোর। রাত বাড়ছে......... কখন জানি ঘুমিয়ে পরি ...... চিরঘুমে।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×