আমি নিজের কাজে দিনাজপুর যাই জানুয়ারির ২ তারিখে। দুই তিনদিনের মধ্যে ঢাকায় আশার প্ল্যান ছিল। ৪ আর ৫ তারিখ সরকারের সারাদেশ অবরোধ আমাকে আটকে দিলো ঢাকা ফেরা । তারপর বিরোধী দলের একটানা অবরোধ দিলো আমাকে আরও আটকে। ৯ তারিখে আমার জনতা ব্যাংকের পরীক্ষা। দূরপাল্লার বাস বন্ধ, বাসের কাঊণ্টার বন্ধ, লোকাল বাসও চলেনা। ট্রেন এর টিকিটের হাহাকার। অবশেষে ভালো প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষাটা দিতে পারলাম না। যাই হোক এখন চাকরী তো বাঁচাতে হবে। শুরু হল ঢাকায় ফেরার চেষ্টা। বহু কষ্টে ১১ তারিখ সকাল ৯ টার ট্রেনের দুইটা টিকেট পেলাম। গন্তব্য ফুলবাড়ি ( দিনাজপুর) টূ ঢাকা। সকালে ষ্টেশনে পৌছে শুনি ট্রেন এখনো ঢাকা থেকেই আসে নাই, দিনাজপুর যাবে তো দূরের কথা। শুনলাম সন্ধ্যায় নাকি আসবে। সন্ধ্যা ৫ টায় আবার আসলাম ষ্টেশনে। তখনও ঢাকা থেকেই ট্রেন আসে নাই। এই শীতের রাতে ষ্টেশনে শুরু হল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা। আমি আর আমার স্ত্রী প্লাটফর্মে বসে। রাত ২.৩০ এ ট্রেনটা ঢাকা থেকে আসে পরে দিনাজপুর হয়ে ভোর ৬ টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় পুরো শীতের রাতটা (দিনাজপুরের শীত) অর্থাৎ ৯ ঘণ্টা ষ্টেশনে বসা। আমাদের শরীর মৃত মানুষের চেয়েও ঠাণ্ডা। কী পরিমাণ কষ্ট হতে পারে দুইটা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য। মানুষ হয়েও কুকুরের মতো বেচে থাকার মতন। কাকে বলবো এই কষ্টের কথা, কেন বলবো? কে শুনবে ? কার ঠ্যাকা? দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদেরা, আপনারা একদিন সোনার প্রাসাদ ছেড়ে অন্তত একদিন সাধারণ মানুষের মতো জীবন ধারণ করুন, বুঝবেন এই হরতাল, অবরোধে মানুষের কী কষ্ট। By The Way ( নগ্ন ভাবে উপস্থাপন করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী ) ১৩ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে ট্রেনে চড়ার পর এক মহিলা এসে আমাদের বলছে আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আমাকে একটা সিট দেন!!!!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





