
ফরায়েজি আন্দোলন ও রাজনৈতিক আদর্শ হিসাবে কালীপূজার বিস্তৃতির পূর্বে বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের রূপ এমন ছিলো না। তখন ধর্ম প্রচার চলতো ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠানের মাধ্যমে। সে সমস্ত ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বন্দনা গীতিতে মুসলমান শাস্ত্রকারগণ হিন্দু দেবদবীদের সম্মান দেখাতেন। জেবল-ই-মুলক শামরোখ পুঁথিতে এমন একটি উদাহরণ দৃষ্ট হয়, যা এখানে তুলে ধরা হলো। ‘জেবল মুলুক শামারোখ’ কাব্যে দৃষ্ট হয় যে, হিন্দু দেবতাদিগকে সম্মান দেখিয়েছেন মুসলমান কবি মোহাম্মদ আকবর (জন্ম ১৬৫৭ খৃঃ অঃ) তাঁর রচিত এই গ্রন্থ ‘জেবল মুলুক শামারোখ’-এ। তিনি লিখিয়াছেন –
“বিনয় করিয়া বন্দি ফিরিস্তার পদ ।
ছুন্নীকুলে ফিরিস্তা যে হিন্দুর নারদ ।
ভক্ত সিংহাসনে বন্দি আল্লার দরবারে।
হিন্দুকুলে ঈশ্বর যেন জগতে প্রচারে ।
পয়গম্বর সকল বন্দি করিয়া ভকতি ।
হিন্দুকুলে দেবতা যেন হৈল প্রকৃতি |
হজরত আদম বন্দি জগতের বাপ ॥
হিন্দুকুলে অনাদি নর প্রচার-প্রতাপ ॥
মা হাওয়া বন্দুম জগত-জননী।
হিন্দুকুলে কালী নাম প্রচারে মোহিণী ॥
হজরত রসুল বন্দি প্রভুর নিজ সখা ।
হিন্দুকুলে অবতারি চৈতন্যরূপে দেখা ৷
খোয়াজ খিজির বন্দুম জলেত বসতি।
হিন্দুকুলে বাসুদেব, শূন্যে যে প্রকৃতি।
আছকবা সকল বন্দি নবীর সভায় ।
হিন্দুকুলে দোয়াদশ গোপাল ধেয়ায় ॥
আওলিয়া, আম্বিয়া বন্দি রববানি কোরান ।
হিন্দুকুলে মুনিভাব আছয়ে পুরাণ।
পীর, মুর্শিদ বন্দুম ওস্তাদ-চরণ।
হিন্দুকুলে গুরু যেন করয়ে পূজন।”

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২১ সকাল ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


