somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজু সিদ্দিক
রাজু সিদ্দিকের মননভুবন

ফুটবল গন্ডগোল - ১ ( রম্য )

০৯ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রহমানা ভিলা ও খান মঞ্জিল পাশাপাশি দু্ই বাড়ি। দুই বাড়ির দুই পরিবারের সদস্যদের মাঝে মধুর সম্পর্ক। কেউ কাউকে ভালমন্দ না দিয়ে খেতে পারে না। তবে রহমান ভিলার যুবরাজ পাপ্পু আর খান মঞ্জিলের রাজকন্যা আমানির মাঝে সম্পর্কটা আরেকটু গভীর । যতটুকু গভীর হলে একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারে না, ততটুকু গভীর। যদিও পরিবারের লোকজল তা জানেন না।
এমন সময় মরার বিশ্বকাপ ফুটবল আসে। দুই পরিবারের মাঝে সর্ম্পকের রশিটা আসেত আস্তে আস্তে শুরু হতে থাকে। কেননা রহমান ভিলার সবাই আর্জেন্টিার সাপোর্টার, অন্যদিকে খান মঞ্জিল সবাই ব্রাজিলের। দুই পরিবারের সদস্যেদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ ( পাপ্পু ও আমানি ছাড়া। তারা লুকিয়ে বাইরে দেখা করে ) ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দুই পরিবারের মাঝে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠতে থাকে, উঠা শুরু হয় বাড়ির নামকরণ নিয়ে। রহমান ভিলার রহমান সাহেব প্রথম তাঁর বাড়ির নাম পাল্টিয়ে আর্জেনিটার সাথে মিল রেখে টিনা ভিলা রাখেন। অমনি খান সাহেবও ওনার বাড়ির নাম পাল্টে রাখেন জিল মঞ্জিল।
বিশ্বকাপ উদ্বোধনের দিন রাতে জিল মঞ্জিলে এক চোর ধরা পড়ে। চুরির কারণ জিজ্ঞেস করলে চোর জানায়,‘বাসায় টিভি নাই, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য একটা টিভি কিনবে, তাই চুরি করতে বেরিয়েছে।’ খান সাহেব চোরকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ছেড়ে দিতে হুকুম দিয়ে জানতে চান সে কোন দলের সাপোর্টার ? চোর সরল মনে বলে আর্জেন্টিনা। সাথে সাথে পূর্বের হুকুম রহিত করে চোরকে উত্তম মধ্যম দেয়ার চুড়ান্ত হুকুম দেন, কত বড় সাহস আর্জেটিনার সাপোর্টার হয়ে ব্রাজিলের বাসায় চুরি করতে এসেছে ?
ততক্ষণে টিনা ভিলায় চোরের খবর চলে যায়। ঘন্টাখানেক অপেক্ষা থাকার পর চোর যখন সারা গায়ে ব্যথা নিয়ে করম্নণ মুখে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে জিল মঞ্জিল থেকে বের হয়। অমনি রহমান সাহেব তাকে টিনা ভিলায় আমন্ত্রণ জানান। চোর যেতে রাজি হয় না, সে ভীত চোখে তাকিয়ে রহমান সাহেবের মতলব বুঝতে চেষ্টা করে । রহমান সাহেব পাপ্পু ও কাজের ছেলেকে হুকুম দেন চোরকে সসম্মানে বাসায় নিয়ে আসতে। সাথে সাথে ওরা চোরকে চ্যাংদোলা করে বাসায় নিয়ে আসে। বাসায় এনে রহমান সাহেব তার সেবা-শুশ্রূষা করেন, আদর-আপ্যায়ন করেন। তারপর আট হাজার টাকা দেন টিভি কিনতে। যাতে আর্জেটিনার খেলা দেখতে কোন অসুবিধা না হয়।
রহমান সাহেবের উদারতায় চোরের চোখে পানি আসে। সে যাবার সময় জানতে চায়,‘সে যদি জিল মঞ্জিলের ছাদ থেকে ব্রাজিলের পতাকাটা চুরি করে নিয়ে যায়, রহমান সাহেব কিছু মনে করবে কি না ? ’
সাথে সাথে রহমান সাহেব আরো পাঁচশ টাকা মিষ্টি খেতে দেন। কিন্তু পর দেখা যায় রহমান সাহেবের ছাদের আর্জেন্টিনার পতাকাটাই বাঁশসহ চোর নিয়ে গেছে !
ব্রাজিল তার প্রথম খেলা জেতার পরদিন খান সাহেব কোথা থেকে যেন ব্রাজিলের আমাজন নদীর পিরানহা মাছ নিয়ে আসেন। সে মাছ পাড়ার সবাইকে ডেকে ডেকে দেখান। মাছ দেখে দুই একজন করে অন্যদলের সরলমনা সাপোর্টার ব্রাজিলে মাইগ্রেন্ট হতে থাকে।
রহমান সাহেবের মাথা খারাপ। তিনি ভাবেন তাকেও আর্জেন্টিার কিছু একটা আনতে হবে। কিন্তু কী আনবেন ? তিনি পাপ্পুকে গুগুলে সার্চ করে দেখতে বলেন আর্জেটিনার কি জিনিষ আনা যায়। প্রয়োজনে তিনি অনলাইনে কিনবেন।
পাপ্পু গুগুলে সার্চ করার আগেই আমানি সাবধান করে,‘পাপ্পু যদি কোন কিছু খুঁজে বের করে তবে সাতদিন দেখা বন্ধ !’
পাপ্পু গুগুল রেখে গুলতি নিয়ে খুঁজতে বে রিয়ে যায়। সারাদিনেও পাপ্পু কিছু খোঁজে পেল না দেখে রেহমান সাহেব তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন । যে ছেলে বাপের সামান্য একটা ইচ্ছা পূরণ করতে পারে না, সে ছেলে তার দরকার নেই।
এমন সময় খবর আসে জিল মঞ্জিলে পুলিশ এসেছে। অবৈধ পিরানহা মাছ রাখার দায়ে খান সাহেবকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে। তখন খান সাহেব বলেন,‘এগুলাতো পিরানহা না, তেলাপিয়া মাছ, নদীর তেলাপিয়া !’
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×