somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বারটা ত্রিশের ভূত ( মূল নাম - ফাঁস টাইম ) ১

২৪ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচারিত হবে চ্যানেল আইতে ঈদের সপ্তমদিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ তে
রচনা- রাজু সিদ্দিক
পরিচালনা - রবিন খান

দৃশ্য - ১
( পুকুর পাড়ে ফাবিয়া ও তাদের বাড়ির রাখাল খোকন লুডু খেলছে। পুবুরের অন্য পাড় দিয়ে স্বপন হেঁটে যাচ্ছে। ফাবিয়াকে দেখে সে থমকে দাঁড়ায়। স্বপনের বাড়ি সিলেট । সে এই গ্রামের এক এনজিওতে ছয় মাস হয় চাকরি নিয়ে এসেছে। সে ফাবিয়ার প্রেমে পাগল। সে কিছুকগণণ ইতস্তত করে পুকুরের ঘাটে বাঁধা নৌকা নিয়ে পুকুরের মাঝে চলে আসে। এসে গান ধরে,“সব সখীরে পাড় করিতে নিব আনায় আনা / তোমার বেলায় নিব সখী তোমার কানের সোনা।” ফাবিয়া স্বপনকে পাত্তা দিচ্ছে না। খোকন একবার স্বপনকে আরেকবার ফাবিয়াকে দেখছে। ফাবিয়া লুডুর ছক্কা চালে। চার ওঠে। )
খোকন ঃ ছোড আপা কত ওঠছে ?
ফাবিয়া ঃ চার। ( খোকন ফাবিয়ার গুটি চার ঘর চালে দিয়ে ছক্কা নেবার জন্য হাত বাড়ায়। ফাবিয়া ছক্কা নেয়
তোলে নেয় )
খোকন ঃ আপনে আমারটাও মারবেন ?
ফাবিয়া ঃ হু।
খোকন ঃ তয় আমি কী করুম ?
ফাবিয়া ঃ তুই শুধু গুটি চালবি। ( ফাবিয়া ছক্কা মারে )
খোকন ঃ আচ্ছা সই, আমার কত ওঠছে ?
ফাবিয়া ঃ তিন।
খোকন ঃ ছয় যে দেখলাম !
ফাবিয়া ঃ আমি তিন বলছি না ?
খোকন ঃ আচ্ছা সই। ( এমন সময় স্বপনের হাত থেকে বৈঠা ফসকে পানিতে পড়ে যায়। সে ঝুঁকে বৈঠা ধরার
জন্য হাত বাড়ায়, অমনি পুকুরে পড়ে যায়। ফাবিয়া হেসে ওঠে। খোকন রাগী চোখে স্বপনকে দেখে। স্বপন
হাবুডুবু খেতে খেতে পাড়ে ওঠে আসে। )

২
( জব্বর মিয়া ঘরে ঢোকতে ঢোকতে তার দু বোন ফাবিয়া ও লামিসাকে ডাকে। )
জব্বর ঃ ফাবিয়া, লামিসা, ফাবু লামু, ও ফাবু লামু, আমার বুবুরা, ধুৎ কই গেল সব ? ( কেউ জবাব দেয় না।
জব্বর মিয়া ঘরে ঢোকলে তার স্ত্রী তাকে পান দেয় । )
ভাবি ঃ আপনের ফাবু লামু কী ঘরে থাকে যে ডাকেন ?
জব্বর ঃ কই থাকে ? ( পান মুখে দিয়ে জব্বর মিয়া বিছানায় বসে। )
ভাবি ঃ একজন দোলনায় থাকলে আরেকজন গাছে, একজন লুডু খেললে আরেকজন খেলে কুতকুত।
জব্বর ঃ বুঝছি, কিন্তু আজকে তোমারে যে সেই রকম লাগতাছে।
ভাবি ঃ আমারে সব সময় সেই রকম লাগে।
জব্বর ঃ হ, সব সময় সেই রকম লাগে, কিন্তু আজকে অই রকম লাগতাছে।
ভাবি ঃ সেই রকম না অই রকম ঠিক কইরা বলেন।
জব্বর ঃ সেই রকম আর অই রকমের মাঝে একটা কী রকম আছে না ? তা লাগতাছে।
ভাবি ঃ সেই রকম, অই রকম, কী রকম - আর কোন রকম বাকি আছে ?
জব্বর ঃ আছে মানে অবশ্যই আছে, আসলে, আসলে তোমারে বেবাক রকম লাগতাছে, বেবাক রকম। আমি
ঠিক বুঝাইতে পারতাছি না, ইয়া, ইয়া, আচ্ছা কাছে আও আমি তোমারে হাতেকলমে বুঝাই।
ভাবি ঃ জি আসলাম, বুঝান। বিয়ার পরতো কোন দিন বুঝাইতে পারেন নাই আমি কেমন। আজ আবার চেষ্টা
করেন। ( ভাবি এসে জব্বর মিয়ার সামনে বিছানায় বসে। জব্বর মিয়া বিছানায় আঙুল দিয়ে দেখায় )
জব্বর ঃ এই যে এইটা হইল সেই রকম, এইটা হইল অই রকম, আর এইটা, এইটা হইল কী রকম, এখন এই
সবগুলানরে যদি দেই ঘুটা, ( জব্বর মিয়া ঘুটা দেয়ার ভঙ্গি করে দেখায় ) তাইলে হইব বেবাক রকম।
ভাবি ঃ তিন পদে ঘুটা দিলে খাবার সেলাইন হয়, আমি না।
জব্বর ঃ খাবার সেলাইন ? ( জব্বর মিয়া মাথা চুলকায়। ) বুঝছ, লাস্টে আইয়াই আমার প্যাঁচটা লাগে, আসলে
আমি ঠিক, আমি ঠিক ( জব্বর মিয়া ভাবির হাত ধরে। এমন সময় বাইরে থেকে লিটন ডাক দেয়। )
লিটন ঃ ভাবি, ভাবি।
ভাবি ঃ ঐ যে আপনের জাগির মিয়া ডাকে।
জব্বর ঃ উ-হু, এই জাগিরের মিয়ার জন্য বৌয়ের সাথে একটু সুখ দুঃখের কথাও বলা যাবে না। ( ভাবি বেরিয়ে
যাবার আগে ফিরে তাকায়। )
ভাবি ঃ আপনে কিন্তু আজও কইতে পারলেন না। ( জব্বর মিয়া বিরক্তি মুখে লিটনকে বকতে থাকে। )

৩
( লিটন উঠানে দাঁড়িয়ে ভাবিকে ডাকছে, জব্বর মিয়ার স্ত্রী আসে । )
লিটন ঃ ভাবি, ভাবি ঘরে বইয়া কী করেন ?
ভাবি ঃ তোমার কী দরকার তাই বলো ?
লিটন ঃ আমারে তাড়াতাড়ি ভাত দেন। অফিসে যাইতে হইব, আমি না গেলেতো স্যারের সব বেকার।
ভাবি ঃ কেন ?
লিটন ঃ ফাইল কোনটা কই থাকে এইটা আমি জানি, স্যারের জানে নি ? তারাতো ওডার দিয়াই খালাস।
ভাবি ঃ তাইলেতো তুম অনেক বড় অফিসার।
লিটন ঃ ও আল্লাহ আপনে জানেন না, আমি না গেলেতো স্যারগো খানাদানা সব বন্ধ।
ভাবি ঃ ক্যান ?
লিটন ঃ ক্যান আবার থালাবাসন সব তালা দেওয়া থাকে না, আর চাবি থাকে কার কাছে ? এই আমার কাছে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×