বছর পনেরো হবে হয়তো, একদিন রাস্তার পাশে কোন এক বাড়ির গেটে একটা ফুটফুটে ছোট্ট মেয়ে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম । তার বয়স ছয়/সাত হবে । হয়তো কোথায়ও বেড়াতে যাবার অপেক্ষায় ছিল । মেয়েটার পরনে বড়দের মত সেলোয়ার-কামিজ, সাথে ওড়না । সে আনন্দ উচ্ছ্বল মুখে তার ছোট ওড়নাটা ক্ষণে এ কাঁধে ফেলে, ক্ষণে অন্য কাঁধে, পরক্ষণে দুকাঁধে ফেলে সামনের দিকটা ঠিক করে, আবার একটু পরেই ওড়নাটা সে কোমরে বাঁধে, যেন ব্যস্ত গৃহিনী । ওড়নাটা নিয়ে শিশুটির সেই নির্মল আনন্দ খেলা, তার সেই হাসিখুশি মুখ আজও মনে পড়ে।
কাল ক্লাস ফোরে পড়া ছোট্ট রুহি তার আব্বুর সাথে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে । তার চোখে চশমা । জিজ্ঞেস করি, পাওয়ার কত ? রুহি হেসে বলে,‘পাওয়ার নেই । গত ঈদে আম্মু জিরো পাওয়ারের চশমাটা কিনে দিয়েছে । ( বলার অপেক্ষা রাখে না, সে আবদার করেছে বলেই তার আম্মু কিনে দিয়েছে । )
সাইফের বয়স সাত বছর । বাবা ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা । বাবার কোট পরে গলায় টাই ঝুলিয়ে সে ঘরময় ঘুরে বেড়ায়, তারও কোট-টাই চাই ! বাবা কিনে দেয় । কদিন পর গ্রীষ্মের ছুটিতে পরিবারের সবার সাথে কোট-টাই পরে চিরিয়াখানায় বেড়াতে যায় । চিরিয়াখানার এ খাঁচা ঐ খাঁচায় ঘুরছে অর দরদর করে ঘামছে, তবু তার কোট-টাই কেও খুলতে পারেনি । চব্বিশ ঘন্টা সাইফের পরনে কোট-টাই । কোট-টাই পরেই ঘুমায়, কোট-টাই পরে বাথরুমেও যায় ।
এবার সবার চেনা একটা দৃশ্যর - পহেলা বৈশাখে রাস্তাঘাটে অনেক বাচ্চা মেয়েকে শাড়ি পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় । কাউকে হয়তো তার বাবা-মা শখ করে কিনে দিয়েছে । কেউ বা আবদার করেছে বলে তার বাবা-মা কিনে দেয় । শাড়ি পরে ছোট্ট শিশু গুটি গুটি পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে - কার না ভাল লাগে ?
কিন্তু ‘ও-তে ওড়ন’ নিয়ে কেউ কেউ কেন যে এতো টানাটানি করল ?
ওয়ানে পড়া একটা ছোট মেয়ের তার আপুর মত বা মার মত ওড়না পরার শখ হতেই পারে, বলতেই পারে,‘ওড়না চাই ।’
আচ্ছা ওড়না যদি বড় হয়ে যাওয়ার বা যৌবনের প্রতীক হয়, তাহলে শাড়ি কিসের প্রতীক ? বিয়ের ! আর কোট-টাই ? বৌভাত অনুষ্ঠানের বরের প্রতীক !!
গ্লাসে পানি আছে অর্ধেক । এবার আপনার রুচি, কি বলবেন - অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভরা ?
( তবে হ্যাঁ কবির কবিতা বিকৃতি করা অনেক বড় অপরাধ। এই অপরাধটা বোর্ড কর্তৃপক্ষ করেছেন। )
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



