somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমীকরন

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




পূর্বাভাস

‘ভাই, আমি আব্দুর রহমান’

আচমকা কথাটি শুনে আমি মাথা ঘুরিয়ে পাশ ফিরে তাকালাম। গায়ে আলখাল্লা জড়ানো। মাফলার দিয়ে মাথা ঢাকা। চেহারা ঠিকঠাক বোঝা যাচ্ছে না। চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে রাস্তার আলো যতোটা পৌছায় তাতেও ঠিকঠাক চেহারা বোঝার উপায় নেই। তবে কন্ঠ শুনে আঁচ করা যায় লোকটা মধ্য বয়সী হবে। আবার নাও হতে পারে। অনেকের কন্ঠ বয়সের তুলনায় ভারী বা অল্প বয়সি মনে হয়। সে যাই হোক। আমি লোকটির কথায় কোনরকম উত্তর না দিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।

খুলনা থেকে ঢাকা যাচ্ছি। সচরাচর আমি দিনে বাস ভ্রমণ করি। সকালে অফিসে হাজিরা দিতে হবে, সেজন্য রাতেই তড়িঘড়ি করে রওয়ানা দেয়া। মা মোটেই রাতে ছাড়তে রাজি হন নি। আমার জন্য চিংড়ি মাছের মালাইকারি রান্না করেছিলেন পরম মমতায়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় টিফিন ক্যারিয়ারে করে দিয়ে দিয়েছেন। মায়ের হাতে খেতে পারিনি বিধায় খুব আফসোস লাগছে।

প্রায় তন্দ্র ভাব চলে এসেছে। এমন সময় লোকটি আবার বললো,

‘শুনছেন? আমি আব্দুর রহমান’

আমার এবার একটু মেজাজ গরম হলো। কেউ ঘুম ভাঙিয়ে দিলে মেজাজ ঠিক রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে। আমি একটু কন্ঠস্বর বাড়িয়ে বললাম.

‘আপনি আব্দুর রহমান হোন বা ডোনাল্ড ট্রাম্প হোন,তাতে আমার কি ভাই? বিরক্ত করবেন না দয়া করে। এখন একটু না ঘুামলে সকালে অফিস করতে পারবো না।’

‘আমি যদি ভুল না করি করি আপনি বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার আশিক মাহমুদ। তাই না?’

আমি লোকটির কথায় এবার একটু অবাক হলাম। আমাকে চিনে কিভাবে লোকটা? কখনো কোন পত্রিকায় আমার ছবি ছাপানো হয়নি। ফেসবুকে লোকটা আছে বলে মনে হয়না। তাছাড়া আমি ফেসবুকে আমার পেশা মেনশন করি না। তাহলে!

‘আপনি ভুল করছেন। আমি ক্রাইম রিপোর্টার নই।’

‘আপনি শুধু ক্রাইম রিপোর্টার নন। একজন জাদরেল গোয়েন্দা বটে। গোপন করে কি লাভ বলুন?’

‘লাভ লোকসানের কিছু নেই এখানে। আপনি নিজের কাজ করুন।’

‘দেখুন আমি আর বেশীক্ষণ বাঁচবো না। একটু পর আমি আমার কোন শত্রুর আঘাতে মারা যাবো।’

‘কি সব যাতা বলছেন? আপনি সম্ভবত মানসিক অশান্তিতে আছেন। কিছু সময় ঘুম দিন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।’

লোকটির আর কথা বাড়ালো না। আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর সারারাত লোকটির আমাকে বিরক্ত করেনি।

বেশ কিছু সময় পর অনুভব করলাম বাসটি থেমে আছে। মোবাইল বের করে সময় দেখে নিলাম। তিনটা বাজে। পাশের লোকটি নেই। হয়তো পথে কোথাও নেমে গিয়েছে। জানালা দিয়ে মাথা বের করে তাকিয়ে দেখলাম। না বাস ফেরিতে নয়। বড় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আড়মোড়া ভেঙে চেয়ার ছেড়ে উঠে দেখি পুরো বাসে কেউ কেউ নাক ডেকে ঘুামাচ্ছে। আবার কোন কোন সিট খালি। আড়মোড় ভেঙে সামনে এগোতেই বাসের সুপারভাইজার সাবধান করে বললো,

‘স্যার এদিক ওদিক যাইয়েন না। একটা মার্ডার হইছে। রাস্তা আটকায় রাখছে পুলিশ। কাল সকালের আগে মনে হয় না রাস্তা ছাড়বো।’

‘কি বলো মার্ডার! কখন কিভাবে হলো?’

‘তা তো বলতে পারবো না স্যার। তয় শুনলাম যে মার্ডার হইছে সে নাকি কোন এক মন্ত্রীর সম্বোন্ধী।’

আমি বাস থেকে নেমে ধীর পায়ে ক্রাইম স্পটে দিকে এগিয়ে গেলাম। কয়েকজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। একটু দূর থেকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। চমকে উঠলাম। আমার পাশের সিটে বসা সেই আলখাল্লা পরা,মাফলার দিয়ে মুখ ঢাকা লোকটি। আমি ভুল দেখছি নাতো? নিজেকে প্রশ্ন করলাম। কয়েকবার চোখ ডলে নিশ্চিত হলাম। না,আমি ভুল দেখছি না। জোর কদমে বাসের দিকে এগিয়ে এলাম। সুপ্রাভাইজারকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম,

‘এই তো সেই লোক যে আমার পাশে বসেছিলো।’

‘আপনার পাশের সিট তো ফাঁকা ছিলো। গোপালগঞ্জ কাউন্টার থেকে এক যাত্রীর ওঠার কথা থাকলেও সে আসেনি।’

আমি যেনো আরো অবাক হলাম,

‘আপনি কি নিশ্চিত আমার পাশের সিটটি ফাঁকা ছিলো?’

‘আমি টিকিট চেক করি স্যার। নিশ্চিত হয়েই বলছি। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।’

আমি আর বাক্য বিনিময় করলাম না। কিছুই বুঝতে পারছি না। সুপারভাইজারের কথা সত্যি মেনে নিলে আমি তাহলে যে লোকটির সাথে কথা বলেছি সে কে? বিভ্রম? হতে পারে না।

অধ্যায় এক

আসরের নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম সাহেব রাস্তার পাশে শাহজাহানের চায়ের দোকানে এসে বসলেন। শাহজাহান তাকে দেখে লম্বা একটি সালাম দিয়ে বললো,

‘হুজুর চিনি ছাড়া এক কাপ স্পেশাল চা বানায় দেই?’

‘চিনি ছাড়া আবার স্পেশাল চা হয় নাকি মিয়া? সেই তিতাই তো লাগবো।’

‘তা ঠিক। তয় হুজুর আইজকা তিতা কম লাগব দেইখেন।’

‘আইচ্ছা বানাও দেখি।’

ইমাম সাহেব পাঞ্জাবীর পকেট থেকে তজবি বের করে ঝিকির করতে আরম্ভ করলেন। ওদিকে শহাজাহান চা বানিয়ে হুজুরকে দিলো। ইমাম সাহেব চা নিতে নিতে বললেন,

‘শাহজাহান মিয়া,মসজিদ তো পাশেই। নিয়মিত নামাজ পড়তে পারো তো।’

‘আমি পড়তে চাই হুজুর। দোকান রাইখা যাইতে পারি না।’

‘এইডা জীবন না মিয়া। পরকালের কথা ভাবো। হিসাব নিকাশ সব ওখানে হবে। কি জবাব দিবা আল্লাহরে?’

শাহজান বেশ লজ্জা পেলো। কোন প্রতিউত্তর করলো না। অন্য কাস্টমারের জন্য চা বানাতে আরম্ভ করলো। চা বানানোর এক ফাঁকে শাহজাহান আবার বললো,
‘হুজুর,খবর শুনছেন?’

‘কি খবর ?’

‘সাইদের বউ হালিমারে তো ভূতে ধরছে একটু আগে।’

‘কও কি?’

‘সত্যি কইতাছি। আপনাওে ডাকতে আইলে বইলা।’

ইমাম সাহেব চা শেষ করে কাপটি শাহজাহানের হাতে দিতেই পেছনে এসে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে সাইদ বললো,

‘হুজুর,জলদি চলেন। আমার বউরে ভুতে ধরছে। সেই ভুতটা আবার মনে হয় আইছে।’

ইমাম সাহেব আর দেরী করলেন না। সাইদের সাথে রওয়ানা দিলেন। বাড়ির ভিতর গিয়ে দেখেন হালিমাকে গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। আর হালিমা একা একা চিৎকার করে সেই বাধন ছোটানোর চেষ্টা করছে। ইমাম সাহেব গিয়ে পাশে বসে মনে মনে দরুদ পড়ে বাধন খুলে দিলেন। হালিমা একদম শান্ত।

কিছু সময় পর হালিমা আবার মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। ইমাম সাহবে বুঝতে পারলেন একটু কঠিন হতে হবে। সহজে যাবে না। তিনি তাবিজ পুড়িয়ে হালিমার নাকে ধরলেন। হালিমার ছটফটানি আরো বাড়লো। তবে সেটা বেশীক্ষন স্থায়ী হলো না। হালিমা নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে রইলো। জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। ইমাম সাহেব হালিমার হাতে কয়েকটি তাবিজ বেধে দিলেন।

মাগরিবের আজান পড়েছে। ইমাম সাহেব মসজিদের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালেন।


........................... চলবে
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৫৪
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী হত্যায় সম্ভবত আপনিও জড়িত

লিখেছেন অপলক , ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

আপনি আমি প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ ভাবে নদীকে হত্যা করি। হয় রাতারাতি বা তিলে তিলে। কিন্তু কিভাবে, সেটাই দেখাবো।



সবার আগে জানা দরকার কোন জলাশয় বা জলাধারকে নদী বলব?

দুনিয়ার বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×