somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সতীত্বহারা দেহের প্রতিটি ভাঁজে এখন শত শত পুরুষের গন্ধ...‎

১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরণো পত্রিকা ঘাটতে গিয়ে তসলিমা নাসরিনের একটা লেখা পড়লাম। শিরোনাম- 'এ লড়াই ‎প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের নয়'। লিথেছে : পশ্চিমের কিংবা প্রাচ্যের কোনো নারীবাদ সম্পর্কেই তার ‎কোনো ধারণা ছিল না। সে ওসব না জেনেও শিশু বয়স থেকেই পরিবারের এবং সমাজের অনেক আদেশ ‎উপদেশ, অনেক বাধা নিষেধকে প্রশ্ন করে এসেছে সাহসিকতার মাথেই। নেপথ্যে কিছু কারণ উল্লেখ ‎করেছে। হুবহু তার ভাষা-ই নিম্নে প্রদত্ত হলো :‎
১। আমাকে যখন বাইরের মাঠে খেলতে দেওয়া হত না, কিন্তু আমার ভাইদের দেওয়া হত।
২। ঋতুস্রাবের সময় আমাকে যখন 'অপবিত্র' বলা হত।
৩। আমাকে যখন বলা হত আমি এখন বড় হয়েছি, যেন কালো বোরখায় আপাদমস্তক ঢেকে বাইরে ‎বেরোই।
৪। রাস্তায় হাঁটলে আমাকে যখন গালি ছুঁড়ে দিত অচেনা ছেলেরা, যখন ওড়না কেড়ে নিত, স্তন ‎টিপে ধরতো।
৫। ঘরে ঘরে যখন দেখেছি স্বামীরা বউ পেটাচ্ছে, কন্যা-শিশু জন্ম দিয়ে মেয়েরা আশঙ্কায় কাঁদছে।
৬। ধর্ষিতা মেয়েদের লজ্জিত মুখ দেখে বেদনায় নীল হয়েছি।
৭। পতিতা বানানোর জন্য এক শহর থেকে আরেক শহরে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে মেয়েদের ‎পাচার করার খবর শুনে কেঁদেছি।
৮। শুধু দুটো ভাত জোটাতে পতিতাপল্লীতে মেয়েরা চরম যৌন-নির্যাতন সইতে বাধ্য হচ্ছে, পুরুষেরা ‎চার চারটে মেয়েকে বিয়ে করে ঘরের দাসী বানাচ্ছে, উত্তরাধিকার থেকে শুধু মেয়ে হয়ে জন্মেছে বলে ‎বঞ্চিত হচ্ছে।
৯। যখন দেখতাম ঘর থেকে দু পা বেরোলে মেয়েদের একঘরে করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ‎‎'পরপুরুষ'কে ভালোবাসার অপরাধে তাদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে।
১০। উঠোনে গর্ত করে সেই গর্তে ঢুকিয়ে মেয়েদের পাথর ছুঁড়ে মারা হচ্ছে। ‎


উপরোক্ত কারণগুলো তার ভেতরে নাড়া দিয়েছে। এ কারণেই সে অনেক বাধা-নিষেধকে প্রশ্ন ‎করেছে, প্রতিবাদ করেছে, অনেকের সমবেদনায় চিৎকার দিয়ে উঠেছে ক্ষণে ক্ষণে। সেই বেদনা, সেই ‎কান্না, সেই প্রশ্ন করা, সেই অস্বীকার, সেই মেনে-না-নেওয়া, সেই বাকরুদ্ধ হওয়া, সেই না-সওয়া, সেই ‎যুক্তি-তর্ক, সেই চিৎকার কোনা সাপও গ্রহণ করেনি। সাপও জানে- কার নিঃশ্বাসে কত বিষ?‎

কিন্তু যখন থেকে সে লিখতে শুরু করল। তার লেখার মধ্যে বরাবরই সে ধর্মের বিপক্ষে স্লোগান ‎ফুটে উঠতে লাগল। তখন থেকেই তার বিপক্ষে ফুসে উঠল বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম সমাজ। ‎এক প্রবন্ধে সে লিখেছে "নারীর অধিকারে বিশ্বাস করলে ধর্মপরিচয় থেকে প্রথমেই নিজেকে মুক্ত করতে ‎হয়। কৈশোরের শুরুতেই ও থেকে আমি মুক্ত।যখন শিশু ছিলাম, শিশুদের গায়ে যেমন অন্যায়ভাবে ধর্ম-‎পরিচয় এঁটে দেওয়া হয়, তেমনই আমার গায়েও এঁটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, একটি শিশুকে তার বাবা-‎মার ধর্মবিশ্বাস দিয়ে চিহ্নিত করা নিশ্চিতই শিশু-নিগ্রহ। একটি শিশুকে তো আমরা তার বাবা-মার ‎রাজনৈতিক বিশ্বাস দিয়ে চিহ্নিত করি না। আমরা কোনও কমিউনিস্টের বাচ্চাকে কমিউনিস্ট বলি না। ‎কিন্তু দু বছরের একটি বাচ্চাকে দিব্যি মুসলিম রায় দিয়ে দিতে আমরা দ্বিতীয়বার চিন্তা করি না। শিশু ‎বড় হওয়ার পর বাবা-মার ধর্ম, বা অন্য কোনও ধর্ম, বা কোনও ধর্ম-নয়, পছন্দমতো কিছু একটা ‎গ্রহণ করবে।তাই তো হওয়া উচিত।আমার জীবনে আমি তা ঘটিয়েছি।আমি মানববাদ বা মানবতন্ত্র ‎বেছে নিয়েছি বিশ্বাসের জন্য।আমাকে 'মুসলিম রিফর্মার' ভেবে ভুল করা উচিত নয়।আমি রিফর্মার ‎নই, কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীরও কেউ নই।আমার গোষ্ঠী ধর্মমুক্ত মানববাদীর।" ‎

একজন মানুষ তার ভাব লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ করতেই পারে। এটা তার গণতান্ত্রিক ‎অধিকার। কিন্তু লিখতে গিয়ে ধর্মের বিপক্ষে অবস্থান নিবে, এটা তো সমর্থন করা যায় না। তথাপি ‎তার ধর্মের বিপক্ষে গাওয়াটাও মেনে নিলাম। তবে তার 'এন্টি-ইসলাম' চিন্তাধারা তো একজন মুসলমান ‎হয়ে বরদাশত করা যায় না।
অথচ দেখুন, এই তনাকে পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখার অধিকার তো ইসলামই দিয়েছে। যদি ইসলাম ‎জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে মাটিতে পুতে ফেলার মতো জঘন্য কাজকে গর্হিত ঘোঘণা করে ধিকৃত না ‎করত, তাইলে তুমি তনা- কার নিষেধকে প্রশ্ন করতে শুনি?

তারচেয়েও মজার কথা হলো : তার এ নোংরা লেখালেখিতে প্রত্যেকবারই কোনো না কোনো লেখক, ‎কবি কিংবা তথাকথিত প্রগতিশীলদেরকে উলঙ্গ হতে দেখি। কারণ বেচারি তসলিমা নাসরিন যে সকল ‎প্রগতিশীল কবি, লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজের নরম দেহকে যাদের ঠোঁটে তুলে ‎দিয়েছিলেন, তারা আজ অনেকেই তসলিমা নাসরিনের গায়ের গন্ধ নাকে নিয়ে কবরে শুয়ে আছেন আর ‎যারা বেঁচে আছেন, তাদের অনেকে বয়সের ভারে নারীদেহের স্বাদ নেয়ার ক্ষমতাও পরুষলিঙ্গ থেকে ঝড়ে ‎পড়েছে।

বসন্তের পাতার মতো মাঝে থেকে তসলিমা নাসরিন তার মাঝবয়সী যৌনপিপাসক্ত যৌবন নিয়ে ‎পড়েছেন বিপাকে। সতীত্বহারা দেহের প্রতিটি ভাঁজে এখন শত শত পুরুষের গন্ধ। তার গায়ের মৃদুরেখা ‎আজ যে কত পুরুষের চেনা। আদিমযুদ্ধে ক্লান্ত দেহের কোমল অঙ্গ তার দেহে ঝুলে পরেছে। পেটের দায়ে ‎রাতের মেয়েরা নিজের দেহকে পরপুরুষের হাতে তুলে দেয় অপবিত্র করতে। খদ্দের তার পয়সা উসুল ‎করে কড়ায় গণ্ডায়। একদল নারীপশুদের যৌনক্ষুধা মিঠে তার দেহে। আর্তনাদগুলো রাতের আঁধারে গলে ‎যায়। কিন্তু তসলিমা কেন তার দিলো দেহ? ‎

এ বয়সের মেয়েরা সুঁই-সুতা, রান্নাবাড়ি, কান্নাকাটি নিয়ে থাকতে পছন্দ করে। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ‎স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করে। স্বামীর গলা ধরে সন্তান প্রসব করতে আর সংসারের ঝুট-ঝামেলা ভাবতে ‎পছন্দ করে। যা তসলিমার মাঝে একটিও নেই; হবেও না কোনোদিন। যারা এতোদিন তার পায়ের ‎গোড়ালি থেকে ঠোঁট পর্যন- ‘যৌবনটক’ চেটে চেটে খেয়েছে। যারা সমাজের আড়ালে তাকে একান- ‎বিছানায় পেতে চেয়েছে। সে প্রগতিশীলরা তাকে কি একটা সমাজশিক্ষিত বৈধন্তান দিবে? দিবে কি তারা ‎তার দেহে প্রবাহিত তাদের হাজারো অন্যায়ের বীর্যপাত হতে শুধু একফোটা বীর্যের পরিচয়? না, দিবে ‎না। তসলিমা যা হারিয়েছে তা কখনো ফিরে পাবে না। তাই তো কুমারী আর সতি নারীদের সে ‎আহ্বান করে তার মতো নগ্ন জীবনযাপনের। লেজকাটা শেয়াল চায় না কারোর লেজ থাকুক। ‎

তসলিমার জীবনেতিহাস পড়লে জানা যায়, সে তার রক্তের আত্মীয় দ্বারা অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে ‎ধর্ষিত হয়েছে। তাকে ধর্ষণ করছে তার আপন চাচা। যাকে দেখতে অবিকল তার বাবার মতো ‎দেখাতো...। সেখান থেকে তার পুরুষমানুষকে ঘৃণা করতে শেখা। আর এর সুযোগ নিয়েছে বামপন'ী ‎কিছু বুদ্ধিজীবী। লুটেপুটে খেয়েছে তার যৌবন। খাবলে খাবলে স্বাদ নিয়েছে এক দুঃখী ছোট মেয়ের ‎দেহটি... আর তাকে বুঝিয়েছে- ‘এটাই তো জীবন’। ‎

তসলিমার আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই। যে নগ্ন হয়ে নাঁচতে নেমেছে। তার গায়ের মৃদুরেখা ‎সকলের চেনা, তাই কী হবে আর ঘোমটা দিয়ে? তবে তার যে ইচ্ছে ঘোমটা দিতে, স্বামীর কাছে ‎একটা সন্তানের বায়না ধরতে, কিন্তু কোনো পুরুষ কি আছে, তাকে বৈধ সন্তান দিবে? কোনো পুরুষ কি ‎আছে, একটি রাতের মেয়েকে তার ঘরণী করতে? যে মেয়েটি তার সতীত্ব হারিয়েছে শত শত পুরষের ‎কাছে... যে প্রগতিশীলরা তার দেহকে নিয়ে দিনের পর দিন রাতের পর রাত বিনিময়ে তাকে একটা ‎উপাধি দিয়েছে ‘মুক্তমনাজীবন’। কই, তাদের কোনো মেয়েকে তো ‘মুক্তমনাজীবন’ হতে দেয় নি। তাদের ‎সংসার আছে। বৈধ স্ত্রী আছে। এমনকি সন্তানও আছে। আছে সংসারের সবকিছু। ‎
এ পথ কি তাহলে সর্বনাশের। তসলিমা দেহ দিয়েছে, শত শত পুরুষকে আনন্দ দিয়েছে। দেশ ‎ছেড়েছে। কিন' বিনিময়ে সে কী পেয়েছে? এতদিন পর সে বুঝেছে, প্রগতিশীলদের কাছে সে ছিল একমাত্র ‎মাংশপেণ্ডি একটি মিনি চকলেটের মতো। যা তার জীবনের সবকিছু চুকে খেয়েছে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×