যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় একের পর এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড হজম করে যাচ্ছে। যার অনিবার্য পরিণতি গত ৬ বছরে ৫ লাখ সিরিয়ান প্রাণ নিথর, ৭ লাখ পঙ্গু, ৬০ লাখ উদ্বাস্তু, ১০ লাখ পাড়িয়ে জমিয়ে ইউরোপে, বিভিন্ন দেশে ভিক্ষুক হয়েছে আরও ৪ থেকে ৫ লাখ। সিরিয়ার ৪০০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ সম্পদও চুরি যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনই এসব সংবাদমাধ্যমের খোড়াক হয়ে উঠছে। যেখানকার চিত্র প্রায়শই মানুষকে কাঁদিয়ে যাচ্ছে।

গত শনিবার একটি যাত্রীবাহী বাসে আত্মঘাতী বোমা হামলার সময় তোলা একটা ছবি পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যে ছবিও খোদ হু হু করে কেঁদে উঠছে, যে ছবি হাজার-লক্ষ শব্দের সমান। কয়েক হাজার শব্দ ব্যবহার করে যা বোঝানো সম্ভব নয় তা খুব সহজেই একটি ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব। ২০১৫ সালে তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা সিরীয় শরণার্থী শিশু আয়লান কুর্দির মৃতদেহের ছবি যেমন গোটা বিশ্বের টনক নাড়িয়ে তুলেছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল আবার সেই সিরিয়াতেই। সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে বোমার আঘাতে রক্তাক্ত হয় শিশু ওমরান দাকনিশের দেহ। আহত অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে বসে থাকা অবস্থায় তার ছবি তোলেন একজন আলোকচিত্রী। ওই ছবি তুলে ধরেছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা।

সাংবাদিক যেখানে জানত, ঘটমান হামলার কিছু ছবি তুলতে পারলে সে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো বেশ জনপ্রিয় হতেন, কিন্তু তখন ছবি তোলার চেয়ে আহত শিশুদের উদ্ধার করাটাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। সে সময়ে হাবাকের দেখাদেখি তার সহকর্মীরাও ক্যামেরা রেখে উদ্ধার কাজে নেমে পড়েছিলেন।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ ভোর ৫:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



