গম্বুজ আমাদের হেলমেট
মিনার আমাদের বেয়োনেট
এবং বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক’’

তিনি অতীতে নায়ক-মহানায়ক কিছুই ছিলেন না, জীবন-জীবিকার তাগিদে ইস্তাম্বুলের রাস্তায় রাস্তায় লেবু বিক্রি করতেন। বাবাও আহামরি কিছু ছিলেন না। তুর্কি কোস্টগার্ডের সদস্য ছিলেন মাত্র। এমন এক অবস্থা থেকে মহাকব্যিক উত্থান, যা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি এখন তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশম্যাটিক নেতা। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। ৬১ বছর বয়সী এই মানুষটি এবার তুরস্কের রাষ্ট্রক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন। আগামী দিনগুলো আরও কুসুমাস্তীর্ণই হবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বোদ্ধামহল।
এরদোয়ানের প্রতি এক বৃদ্ধ মহিলা ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়া ছবিটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে অন্তর্জাল দুনিয়ায়। ছবিটি দেখার পর আমার কাছে বৃদ্ধাকে মনে হয়েছে প্রতীকী বৃদ্ধা। কারণ, বৃদ্ধার এ ভালোবাসা কেবল তার একার নয়, অনেকে এমন উজাড় করে ছুঁতে চায় তাকে। এ স্পর্শ কামাতুর নয়, একান্ত ভালোবাসার। অথচ জার্মানি তার বিনাশ দেখতে উদগ্রীব। ফ্রান্স তার কবর তৈরি করছে বহু বছর ধরে। নেদারল্যান্ড তার পতনের জন্য যা করা যায় সবই করল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার অস্তিত্বকে সহ্য করতে পারছে না। আমেরিকার চোখের বিষাক্ত বালি হয়ে আছেন তিনি।রাশিয়া নতজানু তুরস্ক দেখতে চায় বলে তার ধ্বংস চায়। চীন- ভারতও চায় না এই মেরুদণ্ডঅলা মুসলিম নেতাকে। ইসরাইল তো তার অবসানে দিন গুণছে। তার পতন চায় ইরান, ইরাক। তার সর্বনাশ চায় সৌদি-অারব আমিরাত। তার উচ্ছেদ চায় মিসরের সিসি, সিরিয়ার আসাদসহ অনেক স্বৈরশাসকেরা।
আইএসের চোখে তিনি হত্যাযোগ্য মুরতাদ। গুলেনপন্থীদের কাছে কর্তৃত্বপরায়ণ একনায়ক। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে নিন্দিত ‘সুলতান’। ফেসবুক বিপ্লবীদের চোখে ফাসেক-মুনাফিক। বিদ্রোহী কুর্দিরা তক্কেতক্কে অাছে তাকে শেষ করার জন্য। স্বদেশী স্যেকুলাররা ওৎপেতে আছে তার সর্বনাশ ঘটানোর জন্য। বিশ্বের বাঘা বাঘা গোয়েন্দা ও চিন্তাবিদরা ভাবছেন, কিভাবে তার সমাপ্তি রচনা করা যায়! রবার্ট ফিস্ক থেকে নিয়ে রোপার্ড মারডক—সকলের চোখের কাঁটা তিনি। কিন্তু মজলুম কুদসের পাশে, ইয়ামান-সুমালিয়া-আরাকানের পাশে, রোহিঙ্গা-সিরিয়া শরণার্থী কিংবা কাতারের পাশে, হামাস-ইখওয়ান কিংবা ইউরোপীয় মুসলিমদের পাশে যখন তার শক্তিমান উপস্থিতি দেখি, যখন দেখি তুরস্কের ভেতরে তার লড়াই, পুরো জাতিকে ধর্মহীনতার কঠিন কারাগার থেকে মুক্ত করার ধারাবাহিক প্রয়াস, অতীত গৌরবকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ও ব্যকুলতা, তখন তার নানা সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখেও অলক্ষ্যেই উচ্চারিত হয়—এরদোয়ান! আপনাকে ভালোবাসি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৭ ভোর ৪:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



