somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুলো বেড়াল

১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম। সড়কের দু’পাশে বড়ো বড়ো গাছ। গাছের ছায়া পড়ে সড়ক আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

তাড়াতাড়ি হেঁটে চলেছি। হঠাৎ একটা হুলো বেড়াল আমার সামনে এসে পথ আগলে দাঁড়াল। “হোশ” করতেই লাফিয়ে পাশ কেটে চলে গেল বেড়ালটা। আমি আবার হাঁটা ধরলাম।

হঠাৎ খটকা লাগল, বেড়ালটা লাফিয়ে চলছিল কেন? কোনো বেড়ালকে তো লাফিয়ে চলতে দেখিনি! তাছাড়া বেড়াল তো গৃহপালিত প্রাণী। এত রাতে জনশূন্য রাস্তায় কী করে?

পেছনে তাকাতেই শিরদাঁড়া বেয়ে হিমেল স্রোত বয়ে গেলো। দেখি, বেড়ালটা জ্বলজ্বল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সাহস সঞ্চার করে আবারও “হোশ” করতেই বেড়ালটা পাশের ঝোপঝাড়ে ঢুকে গেল। হঠাৎ মনে হলো, ঝোপঝাড়টা কেমন যেন কেঁপে উঠল। প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করল। ঝড় আসবে মনে হয়।

গতকাল একজন বলেছিল, এখানকার এক ঘন জঙ্গলে এক বাচ্চা ছেলেকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। মাসখানেক পর বিশ্রি গন্ধ পেয়ে লোকজন নরকঙ্কাল খোঁজে পায়। হঠাৎ সে কথা মনে পড়ে ভয় করতে লাগল।

বাড়ির দিকে দৌড় লাগালাম যত জোরে সম্ভব। কিন্তু পথ যেন ফুরোতে চায় না। আমার পা যেন অবশ হয়ে যাচ্ছিল।

কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর প্রচন্ড তেষ্টা পেল। তেষ্টায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। জল না খেলেই নয়। কিন্তু এই অন্ধকারে জল কোথায় পাব? কোথাও তো কোনো ঘরবাড়িও নেই, জলাশয়ও নেই।

আর দৌড়াতে পারছি না। টলতে টলতে রাস্তার মাঝখানেই বসে পড়লাম। একটু না জিরোতে পারলে হাঁটা আর সম্ভব নয়।

ভয়ে হাত-পা কাঁপছে। তবুও একটু জিরিয়ে নিলাম। তারপর যখন হাঁটতে শুরু করলাম, পাশের বাঁশঝাড়ে একটা কান্নার শব্দ শোনা গেল।
“কার কান্না?” কান পেতে শুনতে লাগলাম। খুব পরিচিত মনে হলো।

সাদিয়া নামে এক কিশোরী কয়েকদিন আগে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার বাড়ি বাঁশঝাড় থেকে ৫-১০ মিনিটের পথ। কান্নাটা কি তাহলে সাদিয়ার?

আবার দৌড় লাগালাম। প্রাণপণে দৌড়। চিন্তা করলাম বাড়ি না পৌঁছা পর্যন্ত আর থামব না। কিন্তু পেছন থেকে কারও ডাকে থামতেই হলো।

“কে?” ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করলাম
“ভাতিজা, চিনতে পারছিস না? আমি মোশাররফ। তোর কাকা হই।”
“ও। কেমন আছেন?”
“ভালো। তুই ভালো তো?”
“হুঁ।”
“মরচী গিয়েছিলি?”
“হুঁ।”
“শিল্পীর জামাইয়ের খবর কী (শিল্পী আমার বড়ো বোনের নাম)? ফুটবল খেলতে গিয়ে নাকি পা ভেঙে ফেলেছে?”
“এখন ভালো।”

ওনার সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ির কাছাকাছি চলে এলাম। অবাক লাগল সেই তখন থেকে ওনি আমার অনেক পেছনে। অন্ধকারে মুখটাও ঠিকমতো দেখা যায় না। কেউ একজন যে আমার পেছনে হেঁটে আসছেন, এটা শুধু বোঝা যাচ্ছে।

বললাম, “কাকা, চলুন বাড়িতে যাই।”
ওনি কোনো কথা বলছেন না।
বললাম, “কথা বলছেন না কেন?”

পেছনে তাকিয়ে দেখি উনি নেই। না বলেই চলে গেলেন?

হঠাৎ মনে পড়ল মোশাররফ কাকা তো কয়েকদিন আগে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাহলে এতক্ষণ কার সাথে কথা বলতে বলতে বাড়ি পর্যন্ত এলাম?

ছবি: এআই
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×