somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অব্যাক্ত উচ্ছ্বাস আর আমাদের নববর্ষ

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফোনটা রিসিভ করে বললাম,

- হুম, বলো,
- ফ্রি আছো?
- পুরাই ফ্রি। টাকা লাগবে না। কি করবা?
- ধুর! মজা করা বাদ দাও। মার্কেটে যাবো। দ্রুত আসো।
- কোন মার্কেট? চাঁদনিচক বা গাউছিয়া হলে যাবো না। বসুন্ধরা বা বেইলি রোড হলে যেতে পারি?
- গাউছিয়ায় গেলে সমস্যা কি?
- ওখানে এতোই মেয়েদের ভীড় যে, মার্কেট থেকে বের হলে ছেলেদের শরীর থেকেও মেয়েদের স্নো, পাউডারের গন্ধ বের হয়। একবার তো এক মেয়ের ঠোঁট থেকে আমার টি-শার্টে লিপস্টিক লেগে গেলো। ভাগ্য ভালো যে, টি-শার্টটাও লাল
রঙের ছিলো।
- কি? আমাকে বলোনি তো!
- কি বলবো? বললে কি তুমি ওই মেয়েকে মাইর দিতা?
- প্রয়োজন হলে দিতাম।
- এজন্যই তো বলিনি।
- ইশ! একদিনের ঠোটের ছোয়ায় অপরিচিত একটা মেয়ের জন্য দরদ উতলে পড়তেছে!
- একটু দরদ তো হবেই। অন্য কেউ তো আর এই স্পর্শ দেয় না।
- ওসব ধান্ধা বাদ দাও।
- আমি বাদ দিলে কি হবে? বখাটে মেয়েরা তো বাদ দেয় না। সুযোগ বুঝে আমাকে একা মার্কেটের চিপায় পেয়ে...! ছি!
- এখন ছি? তখন তো খুব মজা পাইছো।
- মজা পাইনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তো সব শেষ।
- ওহ! আরোও কিছু প্রত্যাশা করছিলা?
- হলে তো খারাপ হতো না।
- মেজাজ খারাপ হচ্ছে কিন্তু।
- আচ্ছা বাদ দাও। এখন থেকে খেয়াল রেখো অন্য কোন মেয়ে যাতে আমার ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
- সমস্যা নেই। আজকে আমি থাকবো। অন্য কেউ আর তোমাকে কিস করতে পারবে না। বসুন্ধরা যাবো। দ্রুত রেডি হয়ে বের হও।
- কি কিনবা?
- শাড়ি আর পাঞ্জাবি। আপু আর ভাইয়ার (দুলাভাই) জন্য।
- আচ্ছা। তুমি রেডি হও। আমার দশমিনিট লাগবে।

কিছুক্ষণ পর আমরা একসাথে বের হলাম। বসুন্ধরা সিটির উদ্দে্যশ্য রিকসা নিলাম। সে আমার পাশে বসে আছে। সাধারণ পোষাক, সাজগোজের মধ্যে শুধু একটা কালো টিপ। আমি জানি এটা আমার জন্য। সাজের কথা জিজ্ঞেস করলে আমার একটাই রিকোয়ারমেন্ট থাকে। আমি বললাম,

- এই তোমার টিপ তো বাঁকা হয়েছে।
- সেতো প্রতিদিনই হয়। তুমি ঠিক করে দিবা বলে বাঁকা করেই পরি।

বলে মাথাটা আমার দিকে ঘোরালো। স্ফিত হেসে বললো, "দাও, ঠিক করে দাও।"

আমিও টিপটা ঠিক করে দিলাম। দুজনই জানি যে, টিপের অবস্থান সম্পূর্ণ ঠিক আছে। এরপরও এই ঢংটা আমাদের দুজনেরই খুব প্রিয়। তার টিপ ঠিক থাকলেও আমাকে বলবে, "দেখো তো, টিপটা মনে হয় বাঁকা হয়েছে।" না বলা কথাটা বুঝতে পেরে আমিও কপালে একটু হাত দেই।

- শাড়ি পাঞ্জাবি যে কিনবা, টাকা পেয়েছো কোথায়?
- জমিয়েছি। শোন, ভাইয়া লম্বায় তোমার মতোই, আর গায়ের রংও তোমার মতো কালা। আর আপুকে তো দেখেছোই আমার ডুপ্লিকেট। তোমার সাইজের পাঞ্জাবি কিনলেই হবে।
- এই সুযোগে কালা বললা?
- কালা কে কালা না বলে মিথ্যা করে ধলা বললে পাপ হবে।
- হুম, বুঝলাম।

অতঃপর আমরা সারা মার্কেট তন্নতন্ন করে তার ধলা আপু আর কালা দুলাভাইয়ের জন্য ম্যাচিং ম্যাচিং শাড়ি, পাঞ্জাবি কিনলাম। পাঞ্জাবিটা আমি ট্রায়ালও দিলাম। শপিং শেষে বেশি টাকা ছিলো না তাই রাস্তার পাশে খাওয়া-দাওয়া করলাম। অবশেষে লোকাল বাসে করে ঝুলতে ঝুলতে ফিরেও এলাম।

- পাঞ্জাবিটা তোমার পছন্দ হয়েছে তো?
- হুম হয়েছে।
- শাড়িটা আমাকে মানাবে না?
- আপুর শাড়ির দিকে নজর দাও কেন?
- নিজের বোনের শাড়িতে নজর দিলে কিচ্ছু হয় না। তুমি একটু দাড়াও, আমি হল থেকে আসছি।

বলেই শাড়ির প্যাকেট নিয়ে সে চলে গেলো। বললাম,

- পাঞ্জাবির প্যাকেট নিয়ে যাও।
- আরে আসবো তো আবার।
- আচ্ছা, তাড়াতাড়ি আসো।

তাড়াতাড়ি আসার কথার উত্তর না দিয়েই সে হলের ভেতর ঢুকে গেলো। আমিও হল গেটে একা একা দাড়িয়ে কালা দুলাভাইয়ের পাঞ্জাবি হাতে অপেক্ষা করতে লাগলাম।

কিছুক্ষণ পর মোবাইলে একটা ম্যাসেজ এলো। সে পাঠিয়েছে। ম্যাসেজে লিখা,

"ওই বুদ্ধু, হলগেটে মেয়ে দেখা শেষ হলে, চলে যেয়ো। আমি আসবো না। আর পাঞ্জাবিটা আমার দুলাভাইয়ের না, আমার ছোট বোনের দুলাভাইয়ের।"

আমি ম্যাসেজের রিপ্লাই দিলাম না। কিছু কিছু উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে নেই।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×