“শুইনল্যাম দ্যাশ থাইকা নাকি কোঁটাপ্রথা উইঠা যাইব। তাইলে দ্যাশে থাইক্কা কি BCS এর লাইগা হাল্কার উপর ঝাপসা একটা ট্যারাই চালামু? এককালে আমার মায়ের কাছ থাইকা হুনছিলাম আমার বাপে নাকি খোয়াব দেখছে আমারে বিরাট ঘুষখোর পুলিশ অফিসার বানাইব। তাইলে কি এইবার বাপের খোয়াব পূরণ করমু?”
বছরখানেক আগের কথা। কোঠাপ্রথার বিপক্ষে আমার নিজের অতিস্বল্প বিবেচনা আর মূর্খের ন্যায় বিশ্লেষণপূর্বক ফেইসবুকে একটা পোস্ট করেছিলাম। হয়তবা অনেকেই পোস্টটি অতি ধৈর্যের সহিত পাঠ করে থাকবেন। পোস্টটি পাঠ করে অধিক সংখ্যক সুধীজন বাহবা জানাইলেও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাঁত আমার প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমারি সহপাঠী এক বন্ধু আমার উপর খুব ক্ষেপে গিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি তার মেধার অশেষ সম্মান করি। যাইহোক সেই পোস্টে তিনি তার কিছু ভাঁড়াটে বন্ধু দিয়ে (যারা আমার বন্ধু তালিকায় ছিলেন না) আমাকে কোঁটাপ্রথার স্বপক্ষে বহু জ্ঞান প্রদানের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি ভাই কোঁটা নামক আবর্জনার বিপক্ষে আর সবসময় এর বিরুদ্ধে বলে এসেছি। আমার সেই বন্ধুটির জন্য আমার দুঃখ আজো আমি উনাদের এই পরমজ্ঞান লব্ধ করতে পারিনি আর পারব না বা পারতেও চাই না।
দেশ থেকে কোঁটাপ্রথা উঠেযাক এই কামনা সুধু আমার না দেশের ১৬ কোটি মানুষের। সরকারি কর্ম কমিশনের মনে এতদিনে যে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে একথা শুনে অনেকেই খুশি। যদিও একটি মহল এর বিরোধিতা করে কারণ প্রদর্শন করেছে। তবে আমি মনেকরি, কোন একটি মহৎ কাজ সম্পন্ন করতে হলে পাশাপাশি ছোট-খাট ক্ষতি হয় তবে বৃহৎ স্বার্থ চিন্তা করে ক্ষতির কথা না ভেবে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। একটি পরিবারের অন্ন প্রদান করতে যদি ৫০ টি পরিবারের অন্ন বিনষ্ট করতে হয় তাহলে সেই কাজের কোন মানেই হয়না বরং তার থেকে অধিক ভালহয় ৫০ টি পরিবারের অন্নের চিন্তা আগে মাথায় নিয়ে আসা।
সরকারি চাকুরিতে সরকার যে নতুন নিতিমালা প্রনয়ন করতে যাচ্ছে তাতে কর্ম কমিশনের কোঁটাপ্রথা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত তা যেন বহাল থাকে এই কামনা করি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


