somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রাবণ জলে ভিজিয়ে দিলো পদ্ম পাতার জল …

২০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বাস বলে যেখানে কিছু নেই সেখানে সুযোগ দেবার কি মানে?এমন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে যবনিকা টানলেন পরিচালক তন্ময় তানসেন।
বলছিলাম মনমুগ্ধকর পদ্ম পাতার জল ছবির সমাপ্তির কথা।সব ছবির বেলায় আমি শুরু থেকে বর্ননা করি,এবার করছি শেষ থেকে।কারন এক ফোটা জল পদ্ম পাতায় কতোটা নড়বড়ে তা বাস্তব জীবনে বহুবার আমরা দেখেছি,কিন্তু সেলুলয়েডের পর্দায় এমন চমৎকার উপস্থাপন সচরাচর দেখা যায় না।
ফুলেশ্বরী(বিদ্যা সিনহা মীম) ,যার জন্মই হয়েছে এক ভয়ঙ্কর দানবের ঘরে তার ভাগ্যে বিধাতা রাজপুত্র ঠিকি দিয়েছিলেন কিন্তু সেই তলা বিহীন রাজপুত্রের ছিল না কোন সাহস ,নিজের উপর ছিলনা আত্মবিশ্বাস।ফুলেশ্বরীর ভালোবাসার সন্মান সে দিতে পারেনি।কাহিনীর শেষ পর্যায়ে ফুলেশ্বরী নিজেই ব্যক্ত করেছে-আমার মুক্তি আমি নিজেকেই করেছি।কিন্তু সেই সত্য জানতে অনেক দে্রী হয়ে গেছে জমিদার পুত্রর।প্রেমের কাহিনী নিয়ে করা পূর্নদৈর্ঘ্য ছবিতে নায়ককে দেখা যায় প্রেমে অন্ধ হয়ে মাতাল বনে গিয়ে পথে পথে হাঁটতে ,কিন্তু এই ছবির টার্নিক ছিল খুব আচমকা এবং অপ্রত্যাশিত।অবিরত চুরুট টানতে থাকা সরফরাজ আচমকা উপস্থিত হয়ে পুরো গল্পের মোড় বোদলে দিলেন।যে ফুলেশ্বরীর জন্য জমিদার পুত্র রিজোয়ান(ইমন) দিন রাত এক করে দিয়েছে সেই কিনা বিনা বাক্য ব্যয়ে বিক্রী করে দিল তার প্রিয়তমাকে।স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও সরফরাজ চরিত্র বিশাল একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে রয়ে গেছে পুরো ছবিতে।আর কবি চরিত্র অসাধারন ফুটিয়ে তুলেছে ইমন।
মীরাক্কেল চ্যাম্পিয়ন রনির প্রতিভা আমাদের কারো অজানা নয়,তারপরো যতোবার তাকে স্ক্রীনে দেখলাম মনে হয়েছে ওর ভেতর যা আছে তা পুরোটা পরিচালকরা ঠিকঠাক বের করে আনতে পারছেন না,যদিও এই ছবিতে ভাঁড়ামী করতে তাকে দেখা যায় নি।একি রুমে তিন বন্ধু কেমন মজার সময় কাটাতে পারে তার কিছু চিত্র উঠে এসেছে।বন্ধু চরিত্রে দুইজনই ছিল খুবই সাবলীল ।
এই ছবির সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় গানের লোকেশন এবং সংলাপ।সংলাপগুলো খুব মার্জিত এবং সময় বুঝেই প্রয়োগ করা হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের কাহিনী নিয়ে হলেও গানের চিত্রায়নে চমৎকার আধুনিকতার ছাপ।আর কবির মুখে দু’চার লাইনের ছন্দের খেলা দর্শককে বেশ আনন্দ দিয়েছে তা পিন পতন নীরবতাই বলে দিচ্ছিল।ইউরোপ আমেরিকা না ঘুরে নিজের দেশেই যে এমন চোখ জুড়ানো দৃশ্যায়ন করা যায় তা প্রমাণ করলেন পরিচালক।গানের সব দৃশ্য মনে রাখার মতোন হলেও গানের কথা খুব একটা মন ছুঁয়ে যায় নি যেটা আমি প্রমো দেখে আশা করেছিলাম।বলাকা হলের সাউন্ড সিস্টেমের জন্যে কিনা জানিনা ,বেশির ভাগ শব্দই কানে এসে দমকা হাওয়ার মতোন ধাক্কা দিচ্ছিল।বিশেষ করে তুষার যখন গজলের সুর ধরলো তখন হঠাৎ নিপূনের আগমন উদ্ভট লেগেছে।এই চরিত্রের আদৌ কি কোন প্রয়োজন ছিল?পুরো গানের দৃশ্য মাঠে মারা গেছে।
ব্যান্ডের ভোকালিস্ট কিভাবে এমন দার্শনিক ছবি বানালেন তাই নিয়ে আমি ভাবছি।আসলে চলচ্চিত্র বানানোর জন্যে কেবল পড়াশোনা প্রয়োজন হয় না,প্রয়োজন হয় মেধার।পরিচালক তন্ময় তার পুরোটাই কাজে লাগিয়েছেন।গতানুগতিক রোমান্টিক ছবির বাইরেও যে রোমান্স তুলে ধরা যায় তা তিনি সফল ভাবেই দেখাতে পেরেছেন দর্শককে।পরিশেষে ড্রেস ডিজাইনার এবং মেকাপ আর্টিস্টকে আমার তরফ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ ,কারন মীম এমনিতেই ফর্সা ।ওকে রংমহলের বাইজীর চরিত্রায়ন করতে হয়েছে বলে বাংলা ছবির তথাকথিত মেকাপ দিয়ে মুখ খানা ভরে দেননি বলে।“আমার আছে জল “ থেকে যাত্রা শুরু মীমের চলচ্চিত্র জগতে ,”পদ্ম পাতার জল”-এ এসে যেন তার অভিনয়ে পূর্নতা পেল।এই ছবির ক্যামেরা ম্যান থেকে আরম্ভ করে টি বয় পর্যন্ত সবাইকে সাধুবাদ জানাই এমন গোছানো একটা পারিবারিক পরিচ্ছন্ন ছবি ঈদে উপহার দেবার জন্যে।



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:০৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×