কে কবে কখন এক মুঠো উষ্মতা নিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিল আজ আর চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না।সময় খুব ভালো উপসর্গ ।সব কিছুই এক সময় ভুলিয়ে দেয়, যেমন ভুলেই গিয়েছিলাম ৩০ শে অক্টোবর।মানুষের আগমনের দিন খুব আনন্দের ,ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে হয় না তার তারিখ মনে রাখতে।কিন্তু প্রিয় মানুষের পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া –সেটা আর পঞ্জিকা দেখে বের করতেও মন চায় না।আর তা যদি হয় বাবা ,তাহলেতো আর মনে করতে যাবার প্রশ্নই ওঠে না।আমি মনে করতে চাই না,সত্যি মনে করতে চাই না –বাবা আমাকে ছেড়ে অনেক দূর চলে গেছে,কোন ভিসার বদৌলতে ইচ্ছে করলেই সেই দেশে যাওয়া যায় না।
বাবা ছিল আমার ছোট্ট আকাশে বিশাল এক বটবৃক্ষ, যার ছায়ার আভরণে কি এক অজানা নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত অনুভব করতাম। আমার এই যে হুট করে ঘুরতে চলে যাওয়ার বাজে অভ্যেস সেটা আমি পেয়েছি বাবার কাছ থেকেই। সরকারী চাকুরিজীবি বাবা কিছু দিন পর পরই ট্যুরে যেতেন ,ঙ্কিন্তু তার ব্যাগ গোছানোর আগেই আমার নিজের ব্যাগ আগে গোছানো হতো।এখন বাবা ব্যাগ না গুছিয়েই এমন জায়গায় চলে গেছেন যেখানে যাবার সাধ্য আমার নেই।আমার সমস্ত অন্যায় ,আমার ভুল সব কিছুকে বাবা মুষ্ঠিতে নিয়েই বুঝি চলে গেলেন।যাবার সময় আমি তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারিনি,পায়ে ধরে বলতে পারিনি –বাবা ,আমাকে মাফ করে দিও।সেই না পারাটা আমাকে প্রতিনিয়ত কুড়ে কুড়ে খায়,কেবল মনে হয় -আর একটা বার,শেষ একটা বার যদি সুযোগ পেতাম তাহলে চিৎকার করে বলতাম-আমাকে ছেড়ে যেও না বাবা,খুব ভুল হয়ে গেছে।
প্রতি শুক্রবার আমি সাদা একটা কাপড় দিয়ে বাবার ছবি মুছি,এটা এখন অভ্যেস হয়ে গেছে।মনে হয়-এইতো বাবা অফিসে গেছেন।বিকালের আজান দিলেই হাতে দু’ডজন ফল নিয়েই ঘরে ঢুকে বলবেন-আমার মা কোথায়? আমার মনে পড়ে না,বাবা আমাকে ছোট মা ছাড়া আর কিছু ডাকতেন কিনা।আর প্রায়ই বলতেন-তুই আমার বড় মার চেয়ে কিন্তু সুন্দর না। তার বড় মা মানে আমার দাদী।অসম্ভব মেধাবী এবং রূপবতী মহিলা ছিলেন তিনি।দাদী চলে যাবার পর বাবাকে আমি যেভাবে কাঁদতে দেখেছি,এমন করে কাছ থেকে কোন ছেলে মানুষকে বাচ্চাদের মতোন কাঁদতে দেখিনি।আমার প্রতি বাবার অভিমান ছিল পাহাড় সমান,বাবা আমার জন্য কাঁদতেন।তবে চোখের পানি আড়াল করে কাঁদতেন।পিজি হাসপাতালের শেষ দিন গুলিতে বাবা খুব একা ছিলেন, আমি বুঝতে পারিনি –ক্যান্সার মানুষকে এভাবে তিলে তিলে শেষ করে।বুঝলে হয়তো ইউনিভার্সিটি না গিয়ে পুরো সময়টা বাবাকে দিতাম।এখন আমার ক্লান্ত সময় ,ব্যস্ত সময় –কাউকে দেবার নেই।আমি শুন্য হাতে প্রতীক্ষা করি –আর এক বার কেউ বলুক-মা ,তোর জন্যে কি আনবো?
আর একবার কেউ আমাকে গভীর আলিংগনে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদুক।আর একটিবার বলুক-আয় মা,বুকে আয়......
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



