তাদের ওভাবে দেখা হয়নি কোন দিন ;
মুখ ফুটে কোন দিন বলিনি-আপনার লেখা কিন্তু ভীষন ভালো লেগেছে ,
বইমেলায় ভীড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে বলিনি-একটা অটোগ্রাফ প্লিজ।
নক্ষত্র নক্ষত্র সময় কেটে গেছে কনকর্ডের নীচের শারিতে ,
বেশি ঘুরঘুর করতাম মধ্যমায় ;
কখনো ক্লান্ত হয়ে গেলে চৈতি আপার সাথে রাজ্যের গল্প জুরে দিতাম।
মহাদেব সাহার কবিতা পড়তেই বেশি পছন্দ করতাম তখন -
“তোমার চোখে চাঁদের সরোবর
আকাশ এসে বেঁধেছে তার ঘর ,
মেঘের সাথে মিলেছে বুঝি নদী
বিদায় জানায় শস্য নিরবধি ।
আমার চোখে তপ্ত মরুভূমি
তবুও এসে দাঁড়াও যদি তুমি
হঠাত যেন কেমন করে হয় ,
মরুর বুকে শান্ত জলাশয়।“
নাহ, শান্ত জলাশয় রচনা করতে জীবনে কেউ আসেনি,
তবে ঝড় হয়ে ওলোট পা্লোট করে দেবার লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম ছিল না।
সৈয়দ শামসুল হকের “পরণের গহীন ভিতর” আবৃত্তি করতে করতে চোখ জলে ভেসে যেত-
“আমি কার কাছে গিয়া জিগামু,
হেয় দুঃখ দেয় কেন ?
কেন এতো তপ্ত কথা কয় ,
কেন পাশ ফিরা সয় ?”
হক ভাইয়ের মতোন আমারো এখনো সেই একই অনুভূতি রয়ে গেছে-
“মানুষ এমন , তয় একবার পাইবার পর
নিতান্ত মাটির মনে হয়, তার সোনার মোহর।“
প্রিয় কবির কবিতা বুকের মধ্যে লালন করে বড় হয়েছি আমি।
কনকর্ড এম্পোরিয়াম থেকে আজিজ -এমন কোন জায়গা নেই যেখানে কবিতার হাত ধরে হাঁটিনি।
কবি কাজি সালাহউদ্দীনের কাছ থেকে শিখেছিলাম প্রেমের কবিতা কতোটা আকুল হয়-
“আজ নয় ,কাল পরশুও নয়, তারপর দিন এসো ;
অপরাহ্নের সোনালী রোদের শেষ ছায়া গায়ে মেখে ,
হরিয়াল আর বন ঘুঘুদের সুনিপুণ গান শুনে;
আমরা দু’জন বন থেকে বনে হাত ধরাধরি করে ;
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির গুনবো ;
তারপর রাত ক্রমশ গভীর হলে-
তারাদের সনে আমাদের প্রাণ মিশিয়ে সহসা স্বপ্নের কথা বলবো ।”
আমার সাথে এতো বড় মাপের কবিদের খুব একটা আড্ডা হয়নি,
খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা লেবু চা পান করা হয়নি।
কিন্তু তারা আছেন আমার শোবার ঘরের বিছানার ওপর ;
পুরনো বইয়ের সেলফে ,কখনোবা এলোমেলো টেবিলে।
তাদের জন্যে ঠিক জায়গা আসলে যে কোনটা তা জানা হয়নি আজ অব্দি ।
কবি আল-মাহমুদ কিংবা নির্মলেন্দ গুণ -তারা নিজেদের রঙেই সাজিয়েছেন নিজেদের ,
সবার কাছ থেকে একটু একটু করে নিয়েই আজকের এই আমি।
কবির মৃত্যূ হয় নিশ্চিত ,কিন্তু বেঁচে থাকে তার কবিতা।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




