somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আল - বিরুনী প্রমিথ
ভারসাম্য মাত্রই কৃতিত্ব নয় ।

নারায়নগঞ্জ হত্যা ও র‌্যাব কথন

০৪ ঠা জুন, ২০১৪ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানবসভ্যতার ইতিহাসে খুনোখুনি নতুন কোন সংযোজন নয় । প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকেই মানুষ মানুষকে হত্যা করে । টাকার জন্য করে , নারীর জন্য করে , নিজের জীবন বাঁচাতে করে , লালসা চরিতার্থ করতে করে ইত্যাদি ইত্যাদি । কিন্তু এই মানবহত্যার বিষয়টি বিশেষত নিরস্ত্র মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার বিষয়টি সময় যতোই এগিয়েছে তার সাথে সাথে বিষয়টিকে হালাল করার কাজটি অপেক্ষাকৃত কঠিন বলেই প্রতিভাত হবার কথা । তেমনটা যে হয়নি তা বলা যাবেনা । জর্জ বুশ সিনিয়র থেকে শুরু করে তার ছেলেকেও আফগানিস্তান , ইরাক আক্রমন করতে সারা বিশ্ব জঙ্গীবাদের হুমকিতে থরথর করে কাঁপছে এই ঘোষণা ( তা যতো বানোয়াটই হোক না কেন ) দিয়েই আক্রমণ করতে হয়েছে ।

২০০৪ সালে ‘ র‌্যাব ‘ গঠন করার সময়ে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ব্যতিক্রম কিছু করেননি । চরমপন্থীদের কতল করতে একবিংশ শতাব্দীতেও ‘ র‌্যাব ‘ নামক একটি খুনে বাহিনীকে আমাদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থনেই সৃষ্টি করা গিয়েছিলো । প্রয়োজন হলে সুড়ঙ্গ থেকে হলেও মোফাখখার চৌধুরীদের নামিয়ে আনা হয়েছে । তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মিথ্যা মামলাও দেখানো যায়নি তবু একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আমাদের চোখের সামনেই খুন করা গেছে , বিনা দ্বিধায় । আমাদের তাতে সমর্থন ছিলোনা সেই কথা বলি কি করে ? প্রগতিশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার তথাকথিত পথিকৃৎ এক বুদ্ধিজীবী সেই হত্যার বিরুদ্ধে কলাম লিখতে গিয়ে মোফাখখার চৌধুরীর সাথে তার রাজনৈতিক দর্শনের অমিল , তিনি সাচ্চা কমিউনিস্ট ছিলেন কি না সেটা নিজের বিশ্লেষণহীন , অপরিপক্ক মস্তিষ্ক দিয়ে বিচার করতে বসেছিলেন । মনে রাখবেন যে তিনি লিখবার সময়ে নিশ্চিত জানতেন তার লেখার অধিকাংশ পাঠকই র‌্যাব নামক সেই দানবের মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাস নির্মূল হচ্ছে এই মুর্খতায় নিজেদের দিন অতিবাহিত করে !!!!!!

সময়ে সময়ে অনেক বেলা গড়িয়েছে । কিন্তু মন্ত্রী , এমপি , গ্রাম্য মোড়ল , শহুরে স্কাউন্ড্রেল , আধা মেট্রোপলিটন সিটি আধা টাউন চরিত্রের খবিশ , বাংলা ভাই , জ়েএমবি , পা থেকে মাথা পর্যন্ত সামন্তীয় স্বভাবের খচ্চর গার্মেন্টস মালিক এরা কেউই র্যা বের ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি কখনো । হবার কথাও ছিলোনা । কেবল বাংলাদেশ কেন বিশ্বের যে কোন রাষ্ট্রেই আইন-কানুন , সংবিধান হোক সেটা ‘ শ্রেণীর ‘ ব্যারোমিটারের বাইরে কখনো যায়না । যাবার কথাও নয় । রাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু মেকানিজম সর্বদাই সক্রিয় এই সহজ , স্পষ্ট সত্যটিকে যতোভাবেই অস্বীকার করা হয়েছে ততো বেশী করেই সেই সত্য আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের জ্ঞানের অন্তঃসারশূন্যতা দেখিয়ে দিয়েছে । র্যা ব দক্ষিণাঞ্চলে অপারেশন করে প্রত্যন্ত জায়গা থেকে কমিউনিস্ট ধরে ধরে নিধন করে । আমরা খুশীতে বাহবা দেই । মারহাবা , সরকার জনগণের সেবা করছে , সরকার সাকার কোন সত্তা হলে তার গালে চুমু খেতাম , আপাতত তার রেজিমকেই গলা জড়িয়ে বসে থাকি । তার সৃষ্ট র‌্যাবকে আমাদের নন – বায়োলজিকাল বাপ বানিয়ে ফেলি । হ্যা , ঠিক এমনটাই । খালেদা জিয়ার সরকার হোক , দশ থেকে বারোজন জনবিচ্ছিন্ন , অকর্মা উপদেষ্টা সংবলিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মোড়কে সামরিক সরকারই হোক কিংবা আওয়ামী লীগ সরকারই হোক আমাদের মানসিকতা বিশেষ একটা বদলায়নি । একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নির্দ্বিধায় র‌্যাব যে কাউকে তুলে নিতে পারবে , তুলে নিয়ে হত্যা করতে পারবে এবং সেটা চলনেবলনে নিজেদের আপাদমস্তক স্মার্ট দাবী করা এই আমরা অনুমোদন করবো এই অকল্পনীয় বিষয়টিই এখন এই নষ্ট সমাজের মিরর ইমেজ । এন আনডিনাইয়েবল রিয়েলিটি ।

বেলায় বেলায় অনেক জল গড়িয়েছে । এককালে ‘ র‌্যাব ‘ দিয়ে জঙ্গীবাদ নির্মূল করবার পর্বতের মূষিক প্রসব করার খোয়াব দেখানো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এখন নিজেই র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার জন্য আন্দোলনের হম্বিতম্বি করে নিজের ডুবন্ত রাজনৈতিক দলকে ( বিএনপি জন্মগতভাবেই আসলে কোন রাজনৈতিক দল কিনা সেটা নিয়ে আলাদা তর্ক করাই যায় ) ডাঙ্গায় উঠাতে চাইছেন । ক্ষমতাসীন যেই আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে র‌্যাব নিষিদ্ধ করার কথা লিখেছিলো তারা সেই নির্বাচনে জয়লাভ করার পরবর্তী শাসনামলে তো বটেই এই শাসনামলেও কাজটি করেনি । বলা ভালো করবার কোন প্রয়াস তাদের মধ্যে দেখা যায়নি । বরং নির্লজ্জভাবে র‌্যাবের ব্যবহার আরো বাড়িয়েছে । চিন্তা করলে এখন আর ঘৃণা হয়না যে উপরিউক্ত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই নিজেদের প্রতিপক্ষ দলের সমর্থক সাধারণ জনগণকে তো কুকুর বেড়ালের চাইতে বেশী কিছু মনে করেইনা নিজেদের অগণিত সমর্থক সাধারণ জনগণকেও কুকুর বেড়ালই ভাবে । বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের এই বাস্তবতা আবহমান । কোন পন্ডিত অস্বীকার করতে পারে ?

সম্প্রতি নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডার কেস , গুম ইত্যাদির প্রকোপে আমরা র‌্যাব নিয়ে নড়েচড়ে বসেছি বলে দাবী করছি । ডাহা মিথ্যা কথা । নিখাদ সত্য হলো বিরোধী দল বিএনপি নিজেদের সৃষ্টি করা দানবে নিজেরা কুপোকাত হয়ে কান্নাকাটি করা শুরু করেছে বলেই আমাদের কারো কারো র্যা ব নিয়ে “ একটু টোকা দিয়ে দেখি “ গোছের কথাবার্তা বলার কিঞ্চিত হ্যাডম হয়েছে । নিজেদের বাড়ির ড্রয়িংরুমের পন্ডিতি তর্ক-বিতর্ক , টকশোর জ্ঞানগর্ভ জাবর কাটাতেও এই সত্যকে খন্ডন করা যাবেনা । প্রমাণ ? খুব সহজ । বিগত দশ বছর । গত তিন হাজার ছয়শো পঞ্চাশ দিনে অজস্র অবাঞ্ছিত মুখ আমাদের দিকে চেয়ে ছিলো । সামান্য একটু আশায় যে কবে তাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে নিজেদের টিকিয়ে রাখা পরগাছা অংশটা অন্তত র‌্যাবের বিরুদ্ধে একটু মুখ খুলবে । তিন হাজার ছয়শো পঞ্চাশ দিনই তারা বিফল মনোরথে নিজেদের ঘরে ফিরে গেছে । একটি দানবের বিরুদ্ধে মুখ খোলার বিষয়তেও তাদের পানে এতোটুকু চাওয়া হয়নি । আজ যখন সেই দানব আমাদেরই কাউকে কাউকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে তখন তার বিরুদ্ধে কোন নৈতিক অধিকারে আমরা হাউকাউ করি ?

ক্ষমতায় থাকা প্রতিটা সরকারই সাধারণ , নিরস্ত্র জনগণকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার টুল ব্যতীত ভিন্ন কিছু মনে করেনা । তা সেটা লুঙ্গি পরা পানের দোকানদারই হোক কিংবা অভিজাত ব্র্যান্ডের কমপ্লিট স্যুট পরা মাল্টিন্যাশনালের স্মার্ট কেরাণীই হোক । তারা রক্ষিবাহীনী তৈরী করবে , র‌্যাব তৈরী করবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই । কিন্তু জনপদের যেই অংশ দশ বছর নিশ্চুপ থেকে এখন বিরোধী দল র্যাতব নিয়ে লোকদেখানো কান্নাকাটি করছে বলে একটু মুখ খোলার হ্যাডম দেখাচ্ছেন , যেই তথাকথিত প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী দশ বছর আগে মোফাখখার চৌধুরীর হত্যা নিয়ে কলাম ফাঁদতে গিয়ে ভিকটিমের সাথে নিজের রাজনৈতিক আদর্শের অমিল নিয়ে গালগল্প ঝেড়ে প্রকারান্তরে সেই হত্যাকান্ডকে নীরবে অনুমোদনই করেছিলেন তারাই প্রকৃতপক্ষে র‌্যাবকে এখনো চুষিকাঠি হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়ার ক্রিমিনাল কাজটি হাসিমুখে করে যাচ্ছেন । শীতলক্ষা নদীতে সাতটি কেন সাতশোটি লাশও যদি ভেসে উঠে আপনাদের কোন অধিকার নেই তা নিয়ে টু-শব্দ করার । আপনারা স্রেফ ইতর , সমাজের নিকৃষ্টতম কৃমি । কোনকালে আপনাদের লাশ শীতলক্ষায় ভেসে উঠলে তা নিয়ে কনামাত্র হইচই না হোক এই প্রত্যাশায় বাকি সময়টা কাটিয়ে দিতে চাই ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×