ইতিহাস , সমাজ , সভ্যতা , বিকাশ এইগুলা কারো পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া তিন ফসলী জমি না যেটার ক্ষুদে মালিকানা আপনার থাকবো । ধর্ম হইতে চার্চরে আলাদা করতে হইবো কারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা নিরুপনের আধুনিকতম ( তৎকালীন সময়ানুযায়ী ) পদ্ধতির সাথে পোপ , চার্চ এদের আধিপত্য দিনে দিনে সাংঘর্ষিক হইতেছিলো । সেই অবস্থার তাগিদেই জ্যাক রুঁশোর হাত দিয়ে বের হইলো ‘ সোশাল কন্ট্রাক্ট ‘ । রেঁনেসা নামক অবলম্বনের জন্ম হইলে তাতে কেবল ইউরোপ আলোর দিশা পাইলোনা , সমগ্র মানবজাতিই তাতে ব্যক্তির পছন্দ – অপছন্দ নির্বিশেষে উপকৃত হইলো । ইউরোপীয় রেঁনেসা বিশ্বের একটা মানুষের ভালোলাগা – মন্দলাগাকেও তোয়াক্কা করেনাই । তার আবির্ভাব অনিবার্য হয়ে গেছিলো আসছে । এসে মানুষের বসবাসে উদ্ভাসিত পৃথিবীরে একটানে বহুদূর আগাইয়া নিছে । সেই সময়কার সাহিত্যিক , কবি , দার্শনিক , চিত্রশিল্পী এই ২০১৪ সালে এসেও প্রাতঃস্মরণীয় । তাদের সময়কার সমাজকে , পৃথিবীকে তারা নিজেদের একই চোখ দিয়ে ভিন্নভাবে দেখছিলো । সেই চোখগুলার আলোতে এখনো আমরা পথ খুঁজে পাই । তারপর শিল্পবিপ্লবের হুঙ্কারে পৃথিবী বুঝে গেলো অতীতের হিরো বর্তমানে এন্টি – হিরোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হইছে । ধর্ম হইতে রাষ্ট্র আলাদা থাকবে এই তত্ত্বটাই অতীতের হিরোরা নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই মানলোনা । সাথে গণমানুষকে এটাও হাতেকলমে শিখাইয়া দিলো তোমার মর্যাদা তোমার পরনের কাপড়ের ঔজ্জ্বল্যের সমানুপাতিক । মানুষ নিজের সত্তা সম্পর্কে সন্দেহ করতে শুরু করলো । ক্যামুর ‘ আউটসাইডার ‘ উপন্যাসের নায়ক মারসোল মানুষ থেইকা মানুষের বিযুক্ততার ছবি ব্যক্তিমানুষের পছন্দ – অপছন্দের থোড়াই কেয়ার কইরা ন্যাংটাভাবে দেখাইয়া দিলো । তারও বেশ আগে দুই বুড়া মার্ক্স আর এঙ্গেলস কোটি কোটি মানুষরে জানাইলো তাদের দুজনের মতো সেই কোটি কোটি মানুষদেরও আসলে দেশ বলতে কিছু নাই । যেই জন্মভূমিরে দেশ বইলা তাদের গদগদ করে রাখবার ষড়যন্ত্র কইরা রাখা হয় সেই দেশ বহু আগেই বেগানা হইছে । যেই রাজতন্ত্র গণতন্ত্রের আগমনী সঙ্গীতের পূর্বে এবং সেই মধ্যবর্তী সময়ে বহু রক্তপাতের জন্ম দিছিলো শিল্পবিপ্লব সেই রক্তপাত সদর্পে ফিরাইয়া আনলো । সবই নিজের প্রয়োজনে , টিকে থাকবার লাইগা । সেটা পৃথিবীর কারে আক্রমণ করেনাই ? ১৯১৭ সালের আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেইকা শুরু কইরা আফগানিস্তান পর্যন্ত সর্বত্র অতীতের নায়ক বর্তমানের ভিলেইন পুঁজি রক্তের হুমকি নিয়া কোটি মানুষের জীবনের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়াইছে । তারপরেও মানুষের জীবন থামেনাই , শত – সহস্র চোখ রাঙ্গানীতেও মানুষ হাসি , আনন্দ , প্রমোদ , ফূর্তি , স্বপ্ন , ভালোবাসার মাঝে বিদ্রোহের আগুন নিয়া ঘুমাইছে , বাঁচছে । সেই আগুন কনামাত্র নিভেনাই । তোমার উঠান শীতল কইরা রাখন হইলে তুমি লাকড়িতে আগুন জ্বালাইয়া রাখবাই । রুশো ‘ সোশাল কন্ট্রাক্ট ‘ লিখা গণতন্ত্রের আগমনী সংকেতরে অভ্যর্থনা জানাইছিলো , মার্ক্স ‘ দাস ক্যাপিটাল ‘ লিখা সেই সঙ্গীত যে বশীকরনের মন্ত্রে পরিণত হইছে সেটা তোমারে জানাইলো । সে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা আছিলোনা । তাই বহু ধিক্কারের শিকার হইছে । কিন্তু আমাদের জানা হয়না বাইরে বের হওনের বাসনা না তৈরী হইলে লাখো হ্যামিলনের বাঁশিতে মানুষ ঘুমে ডিস্টার্ব হইতেছে মনে কইরা বিরক্ত হয় । ঘাত – প্রতিঘাতের নানাবিধ ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্ক্সের স্বপ্নরে বাস্তব করলো । আমরা দেখলাম কোন দার্শনিকের দর্শনানুযায়ী পৃথিবীরে বদলাইয়া ফালানোর স্বপ্নটা ইউটোপিয়া গোছের কিছু না । অজস্র রক্তচক্ষুরে নর্দমায় ফালাইয়া দিয়া তার সমস্ত পুঁজ বাইর করার দায়িত্ব পালন করা যায় । তারপরে আরো একশো বছর গড়াইছে । শরীরের সমস্ত পুঁজ বাইর করা সম্ভব হয়নাই । বরং শরীরের নতুন নতুন জায়গায় পুঁজের দেখা মিলতেছে । কিন্তু তারপরেও পুঁজের স্রষ্টাদের আতঙ্ক এখনো কমেনাই । আবার যদি কেউ শরীরের সমস্ত পুঁজ সারানোর তাগিদ অনুভব করে তাইলে ? তারপরে সে অযুত – নিযুত কৌশল নিছে । তোমার কেবলা পশ্চীমে আর তোমার পাশের মানুষের কোন কেবলাই নাই এই বইলা তোমরা আলাদা এই ধারণা তোমার মনে ঢুকাইছে । আবার নিজের প্রয়োজনে তোমাদের একত্রিতও করছে । কিন্তু তাতে ভাতৃত্বের কোন জায়গা নাই , আছে তোমারে দিয়া তার বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করার । তুমি তোমার পাশের বাড়ীর মানুষ যেই রঙের গাড়ি ব্যবহার করে সেটার স্বপ্নে লালায়িত হইতেছো , অন্যদিকে তোমার কেবলা পশ্চীমে আর তার কেবলাই নাই এই ধারণাতেও বিশ্বাস রাখো । তোমার মনে হয় পৃথিবীটা তোমার নিজস্ব বাগানবাড়ি । তোমার পাশের বাড়ীর সেই মানুষ ভাবে সিভিলাইজেশনটা তার মামার গাছের নারিকেল । যখনই তৃষ্ণার বোধ হইবো তখনই সে গাছ থেইকা সেই নারিকেলটা পাড়বো । কখনো তুমি নিজেরে জিগাইছো তুমি কে ? তোমার পাশের বাড়ীর মানুষের কেবলা নাই তাতে তোমার নিজের জীবনের কোন সংকটটা বাড়ছে ? তুমি অ আ শিখো সুদূরের কোন এক প্যাট্রিক বা উইলিয়াম শেখে A B C D তাতে তোমাগো দুইজনের পার্থক্য কেমনে থাকে ? গ্লোবালাইজেশন নিয়া লিখতে বইলেই তোমার মনে আনন্দ হয় । মনে হয় জীবনের অর্জিত সকল জ্ঞান এই রচনাতেই ঢাইলা দেই । কিন্তু তোমার বোধে আসেনা তুমি আর প্যাট্রিক আসলে মিলামিশা একাকার হইয়া গেছো । তার বাড়ী থেইকা চার ক্রোশ দূরে কঙ্কালসার কোন শরীর এখন মুহূর্তের মধ্যে তুমিও দেখতে পারবা । সেই প্যাট্রিকও দেখবার পারে যেই ভূখন্ডে বাস কইরা তুমি ‘ সকল দেশের সেরা আমার জন্মভূমি ‘ ভাইবা মনের আনন্দে নিজের মাথাটারে মূর্খতার নিলামে তুলতেছো সেই ভূখন্ডে এখনো ফ্রাঙ্কেস্টাইনের অঙ্গুলী হেলনে বিনা বিচারে তোমার মতো রক্তমাংসের কাউরে যার ভান্ডারে টাকা , ক্ষমতা কোনটাই নাই তারে ভ্যানিশ করা যায় । সেই ফ্রাঙ্কেস্টাইন তোমার মতো কোটি কোটি মানুষের অপদার্থতার ফসল । তুমি গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ কইতে অজ্ঞান অথচ এখনো নাস্তিক ইহুদী , গরিব মুসলমানের এই আজাইরা বিভাজন কইরা আলাদা ঝান্ডা তৈরী করার খোয়াব দেখো । সুদূরের প্যাট্রিক আনন্দে গদগদ হয় বিশ্বসভ্যতার সমস্ত সুখ তার কপালে আর তোমার মতো মানুষে সব গেঁয়ো ভূত , পৃথিবীর ওয়েস্টেজ । তুমি কেবলা দিয়া মানুষ বিচার করো , সে লাক্সারী দিয়া মানুষ বিচার করে । তুমি ফিলিস্তিনীর লাশে নিরাকার আল্লাহরে খুঁইজা বেড়াও , সে তোমার গায়ের রঙে গেঁয়ো ভূতের উপস্থিতি দেখে । তার স্নবারীতে সে আপাদমস্তক মুর্খই থাকে , তোমার হীনমন্যতায় তুমি থাকো আবাল । গ্লোবালাইজেশনের রঙে তুমি শরীর মাখাও , প্যাট্রিকও মাখায় । তবুও তোমাগো মনে আসেনা তোমাদের একজনরে ছাড়া আরেকজন অচল । তুমি মানো কি নাই মানো , প্যাট্রিক মানে কি নাই মানে তাতে কিচ্ছু যায় আসেনা । তুমি , প্যাট্রিক তোমাদের পছন্দে – অপছন্দে তো সূর্য পর্যন্ত উঠেওনা , অস্তও যায়না তাইলে গ্লোবালাইজেশনের কি যাইবো আসবো ? তুমি , প্যাট্রিক নিজেগোরে চেনো । নিজেগোরে চেনার লাইগা সাথে সাথে অপররে চেনো । অপরের অবস্থা জানলে বুঝে আসবো তোমাগো কারো পছন্দে – অপছন্দে জগতের মৌলিক কোন নিয়ম কনামাত্র বদলাইবোনা । তোমরা সর্বোচ্চো যা করবার পারো সেটা হইলো সেই নিয়মগুলারে আত্মস্থ করবার পারো । সেটা কইরা নিজের চারপাশরে বদলানোর কাজে হাত দিবার পারো । তোমরা বাঁইচা থাকতেই সেটা হইতে হইবো এমন কোন কথা নাই । যেই জঞ্জাল তোমাদের সবার উপরে চাইপা আছে তারে কমাইতে তো পারো ? কমাইতে পারার মানেই হইলো যখন একসময় সেই জঞ্জাল পুরাপুরি নাই হইয়া যাইবো তোমরা সেই ঘটনার প্রতিটা বিন্দুতে বিন্দুতে মিশে যাবা । না বুইঝা গায়ের জোরে নিজেরে মহিমান্বিত করতে গিয়া তুচ্ছতর কোন দুপেয়ে প্রাণী হবার থেইকা সেই মিশে যাওনের মধ্যেই কি সন্তুষ্টি বেশী পাওন যাইবোনা ? তোমার প্রিয় কোন দার্শনিক থাকলে কিংবা সাহিত্যিক থাকলে তারাও কি সেই কাজটাই তাদের জীবনে করেনাই ?
আলোচিত ব্লগ
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥


শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।