somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রঙ্গীন ঘুড়ি
উড়তে ভালো লাগে,মেঘের সাথে লুকোচুরি ভাল লাগে। ভাল লাগে এক আকাশ তারা কে সাক্ষী রেখে নাবিকের মত পথ খুঁজে নিতে। চোখ বন্ধ করে একটা নীল সমুদ্র আকঁতে ভাল লাগে। আর ভাল লাগে "তুমি" তে হারিয়ে যেতে ।

"কাকতাড়ুয়া"

২৩ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



---------------------

সেদিন ছিল অমাবস্যাতিথি। গভীর রাত....

চার খালাতো ভাই হেঁটে চলেছি গ্রামের একটা পথ দিয়ে। পাশের গ্রামে সার্কাস পার্টি এসেছে। সার্কাসের লোভ সামলানো ১৩/১৪ বছরের ছেলেদের কাছে সম্ভবত খুব কঠিন কাজ। রাতের বেলা কাউকে না বলে ঘরের পিছনের গেইট দিয়ে বের হয়ে আসি আমরা।

সুনসান নীরবতা। বাতাসে বাঁশ পাতার খসখসানি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি কেউ এসে ঘাড়ের উপর ঝাপটে ধরবে। আমরা চারজন হেঁটে চলেছি। বাঁশ বাগানটার অন্য পাশে ছোট একটা মেঠোপথ। সেটা পেরোলেই অন্য গ্রাম। আমাদের কানে সার্কাসের শব্দ ভেসে আসছিল। আমরা মানে আমি,রিবু,সবুজ আর ইফতেখার কথা বলছিলাম জোরে জোরেই ভয় কাটানোর জন্য।

-কিরে ইফু,আজ বিকেলের ডাংগুলি খেলায় হেরে কেমন লাগছে???
-আতিক,শোন। বেশি ভাব নিস না তো ! এহ...একদিন জিতে যেন ভাবে মরে যাচ্ছে !
-আচ্ছা রিবু,এখানে ভাবের কি হল? একে তো হেরে গেছে তার উপর বড় বড় কথা !!

চারজন সশব্দে হেসে উঠলাম। হাসি থামতে না থামতেই মাথার উপর দিয়ে একদল বাদুড় উড়ে গেল আমাদের। ব্যাপারটা অনেক ভয়ানক লাগলো। আমাদের হাসি তখনও প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল বাঁশ বাগান জুড়ে কেউ আমাদের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে।

সবুজটা একটু ভীতু প্রকৃতির আমাদের চার জনের মধ্যে। আমরা তিনজন একসাথে হাঁটলেও ও ছিল আমাদের পিছনে। পিছনের দিকে না তাকিয়েই ইফতেখার বলল,
-কিরে সবুজ,ভয় লাগছে তোর?
-না। আর কত দূর রে??
-এই তো। বাঁশ বন প্রায় শেষ। এর পর শুধু একটা চিকন রাস্তা। বেশি নাই রে। ভয় পাস না তো।
-আচ্ছা।

হাঁটতে হাঁটতে আমরা বাঁশ বনের একদম শেষ প্রান্তে চলে আসলাম। ওই যে দূরে একটা লাল আলো দেখা যাচ্ছে এটা কি? সবুজ ভয় পেয়ে রিবু'র হাত শক্ত করে ধরে ফেললো। আমি বললাম, "চল গিয়ে দেখে আসি। "

চল চল যাই... সবাই সায় দিলো একমাত্র সবুজ ছাড়া। ও বললো আমার ভয় লাগছে। তোরা যা। আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। তোরা যেয়ে দেখে আবার ফিরে আয়। আমরাও ভাবলাম আচ্ছা ঠিক আছে। ব্যাটা শহরের মানুষ। গ্রামে বেড়াতে এসেছে। থাকুক ওইখানে।

আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলাম ওই লাল আলোটার খুঁজে। যত কাছে যাচ্ছি তত আলোটা বড় হচ্ছে। ওমা...একি... আলোর চোখ,মুখ বুঝা যাচ্ছে স্পষ্ট। নাহ..এবার সত্যিই ভয় পেয়ে গেলাম। শত গ্রামের ছেলেই হই না কেন এই জিনিসের জন্য তৈরি ছিলাম না মোটেই। ভীষণ অদ্ভুত তার মুখ। কেমন জানি পাতিলের মত চ্যাপ্টা আর অনেক বিচ্ছিরি হাসি। আমাদের মধে রিবু আবার বেশি সাহসি। ওর কোনকিছুতেই ভয় নেই। ও এগিয়ে গেল। আমরা মানে আমি আর ইফতেখার পিছন থেকে না করছিলাম।

-আতিক,ইফু এদিকে আয়।
-না। ভয় লাগছে।
-আরে আয় না। বলছি তো ভয়ের কিছু নাই।
-সত্যি?
-তিন সত্যি। আয় তো।

আমি আর ইফতেখার এগিয়ে গেলাম। রিবু হাসতে হাসতে হাত থেকে টর্চটা বের করে মুখে আলো ফেললো জিনিসটার। সাথে সাথে তিনজনই হো হো করে হেসে উঠলাম।
-আরে এইটা তো দেখি কাকতাড়ুয়া। হা হা হা। ব্যাটা মুখের ভিতর মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছিল। যেন কেউ ভয় পাবে !! হা হা হা

"চল,সবুজ বোকাটা একা দাঁড়িয়ে আছে " রিবু বললো। আমরা সবাই সায় দিয়ে সবুজের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। কি ব্যাপার !! বাঁশ ঝার টা কই গেল? আমরা তো দক্ষিণে খোলা মাঠ আর উত্তরে মন্দিরটাকে রেখেই এগিয়ে ছিলাম। মন্দিরটা তো ঠিকই আছে। বাঁশ ঝারটা গেল কই?? আজব...

আমরা চিৎকার শুরু করলাম। সবুজ....স...বু...জ..

নাহ..কোন সাড়া শব্দ নেই কোথাও।

হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেল আমার। ভর দুপুরে ঘেমে পুরো শেষ আমি। ভয় পেয়ে মা কে ডাকলাম খুব জোরে জোরে। পরক্ষণেই মনে হল সবুজ,রিবু আর ইফতেখার এর কথা। মা কে জিজ্ঞেস করলাম ওরা কোথায়। মা জানালো ওরা তো গত পরশুই চলে গেছে ওদের বাড়ি। ঈদের ছূটিতে সবাই এসেছিল বেড়াতে। আমি বেমালুল ভুলে গেলাম সব! অথচ আমি না কাল বিকেলে ডাংগুলি খেললাম ওদের সাথে? ইফতেখার কে হারালাম ডাংগুলিতে। সার্কাস পার্টি এসেছিল গত রাতে। বাঁশ ঝারটার ঠিক শেষে উত্তরে মন্দির আর দক্ষিণে খোলা মাঠটার একটু সামনে। আমি এক দৌড়ে চলে গেলাম সেখানে।

বাতাসে ঘন্টার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কাকতাড়ুয়াটা সেই ভয়ঙ্কর বিচ্ছিরি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে । এই ভর দুপুরেও খুব ভয় লাগছে আমার, খুব ভয় লাগছে.......
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৪০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×