somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আর আমার 'লাশ' (১ম খন্ড)

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এত কাছ থেকে কখনও রাস্তার পিচগুলোকে দেখা হয় নি! রাস্তায় চলার সময় দেখতাম, রোদের আলোতে রাস্তার পিচ হীরার মত ঝলমল করছে। কিন্তু এখন দেখছি অন্য কিছু।আর কেমন যেন বোটকা বোটকা একটা গন্ধ। অন্য সময় হলে আমি এতখুনে বমি করে ফেলতাম। কিন্তু এখন আমার সেরকম কোন অনুভূতিই হচ্ছে না!
এই মাত্র একটা মালবাহী ট্রাক আমার উপর দিয়ে চলে গেছে। মনে হচ্ছে ট্রাক টা আমার একেবারে মাথার উপরে দিয়ে চলে গেছে। প্রথমে খুব ব্যাথা অনুভব করেছিলাম, অথচ এখন কোন ব্যাথাই অনুভব করছি না। কিন্তু সেটা নিয়ে আমার কোন চিন্তা নেই। আমার নিজের মুখটা দেখতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব! এতক্ষণ ওঠার চেষ্টা করতে করতে আমি হাঁপিয়ে গিয়েছি। নাহ্‌, আর ওঠার চেষ্টা করবো না, দেখি এভাবে কতক্ষণ আমি শুয়ে থাকতে পারি। আমার আশেপাশে তো দেখি অনেক লোক জড়ো হয়েছে। ওদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এরা তো নিজেদের মধ্যেই শুধু হা হুতাশ করে যাচ্ছে। আচ্ছা ওই লোকটাকে ডাকা যেতে পারে। এই যে ভাই, শুনছেন! আমাকে একটু সাহায্য করবেন। আমি উঠতে পারছিনা, আমাকে যদি এখান থেকে উঠতে একটু সাহায্য করতেন, তাহলে ভীষণ কৃপা থাকবো। আরে এই যে নীল শার্ট ওয়ালা ভাই। আরে আজব তো কেউ আমার কথা কানেই নিচ্ছে না। আর সবাই আমার দিকে এভাবে চেয়ে আছে কেন। অকস্মাৎ এদের একজন বলে উঠল (মনে হল রিক্সা চালক), পুরা দোষ ওই ট্রাক ড্রাইভারের। ওই বেটারে সবাই আটকাইয়া রাখ। আমিও বলে উঠলাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি তো ঠিক করেই রাস্তাটা পার হচ্ছিলাম, ওই ট্রাকটাই তো ধেয়ে আসল ফুল স্পীডে। আমি কোন কিছু বুঝে উঠবার আগেই ট্রাকটা আমার উপর দিয়ে চলে গেল। কিন্তু মনে হল না ওই রিক্সা চালক আমার কোন কথা শুনেছে। সে তো আরেকটা লোকের সাথে কথা বলছে কানে কানে। ‘ওই ট্রাক ড্রাইভার মুন্সুইররা কাইলকা আমার লগে বেশি ফুডানি দেখাইছিল না, অহন দ্যাখ ক্যামনে অয় জেলের ভাত খায়’। এই কথাগুলি সে আরেকটা রিক্সা চালকের সাথে কানে কানে বলছিল, কিন্তু কিভাবে যেন প্রতিটি কথা আমি অনেক স্পষ্ট শুনছিলাম। ওদিকে কোন মত চেয়ে দেখলাম যে ওই ট্রাক ড্রাইভার টিকে কত গুলো লোক জড়সড় হয়ে আটকে রেখেছে। অথচ আমি যে এখানে কতক্ষণ ধরে আমাকে সাহায্য করার জন্য ডাকছি, সেদিকে তাদের কোন খেয়াল নাই। সব হুজুগে পাবলিক। দূর থেকে পুলিশের গাড়ীর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, মনে হচ্ছে এদিকেই আসছে। দর্শক জনতার একটা বিরাট অংশ ওইদিকেই ছুটল। তারা পুলিশের প্রধান অফিসার টিকে ঘিরে বলা শুরু করল, ‘ স্যার একদম স্পট ডেড স্যার, পোলাডারে একেবারে চিপসা ফেলছে ওই ট্র্যাকটা। স্যার, ওই যে আমরা ট্রাক ড্রাইভার টারে আটকাইয়া রাখছি ।’ ‘ আরে এরা কার মৃত্যুর কথা বলছে, আমার সঙ্গে আর কারোরই এখানে অ্যাকসিডেন্ট হয় নি। এর মানে কি? আমি শুয়ে শুয়ে ঐ অবস্থাতেই দেখার চেষ্টা করলাম আমার সাথে আর কারও অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে নাকি। না, এভাবে শুয়ে শুয়ে তো কোন কিছুই ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না। ঐ অফিসার তো আমার কাছেই আসছে, ওনাকে বলা যেতে পারে আমাকে একটু উঠতে সাহায্য করতে। এই যে অফিসার ভাই, আমাকে একটু উঠতে সাহায্য করেন। সেই কখন থেকে পড়ে আছি। রাস্তায় এভাবে শুয়ে থাকলে বাসায় বলবে কি আমাকে! আরে, বাসায় তো আম্মু আমার জন্য অপেক্ষা করছে, সেই কখন বের হয়েছি বাজার করব বলে! এর থেকে বরং নিজে আরেকবার চেষ্টা করি উঠবার জন্য।
যাক, উঠতে পারলাম তাহলে... । শরীরটা এখন ভালমতো ঝেড়ে নিতে পারলেই হয়। কিন্তু নিজেকে হঠাৎ এত হালকা মনে হচ্ছে কেন ! যদিও ব্যাথা অনুভব করছি না, তারপরও রিস্ক নিয়ে লাভ নেই। অফিসারকে বলে দেখি মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। কিন্তু অফিসার তো বকেই চলেছে, ‘লাশ টাকে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা কর আর দেখো লাশের পকেটে কোন আইডি কার্ড, মোবাইল পাও কিনা’। কি আজব! এখানে লাশ পেল কই সে? আমি নিচে তাকিয়ে যেটা লক্ষ করলাম সেটার জন্য আমি তৈরী ছিলাম না...। ঠিক যেখানটাতে আমি এতক্ষণ পরে ছিলাম, সেখানে একটা লাশ পরে আছে। লাশটার মুখ দেখে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে মানুষটাকে আমার খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। আর আমার পোশাকের মত একই পোশাক ওর গায়ে।....(চলবে)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×