somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বিস্তারে ওয়াজের ভূমিকা পর্ব ২

০৫ ই মার্চ, ২০২২ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশ নামক স্বাধীন একটি রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষতা, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে ধর্মের নামে ওয়াজের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং অসহিষ্ণুতা।
ওয়াজগুলোতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি, নারী, জাতীয় সংগীত এমনকি জাতির পিতাকে নিয়েও বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। যার ফলে তৃণমূলের সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে ভিন্ন ধর্মের এবং ভিন্ন চিন্তার মানুষ সম্পর্কে তৈরী হয় ঘৃণা।
এক ওয়াজে মামুনুল হক সরাসরি বলেন, ইসলাম মানে শান্তি নয়। তিনি বলেন, “আমি ৩৬ বছর ধরে আরবি ভাষা, কোরান হাদিস পড়াশোনা করতেছি। আজ পর্যন্ত কোথাও আমি পাই নাই ইসলাম মানে শান্তি। ইসলাম অর্থ শান্তি। আগা কাটলেই খালি মুসলমান হয় না। ইসলামের কোনো বিধানের প্রতি যদি তোমার অভিযোগ থাকে তবে তুমি মুসলমানই হইতে পারো নাই। ১৪০০ বছর আগে আল্লাহ কোরান হাদিসে সবকিছু বলে গেছেন। এর বিপক্ষে কথা বললেই গজারির লাঠি ছাড়া কোনো উপায় নাই। অনেকে বলে হুজুর ওরে একটু বুঝাইয়া কন। আরে কি বুঝামু রে? কোরানের আয়াত বলে রাখছে ১৪০০ বছর আগে। নবিজি ১৪০০ বছর আগে বলে গেছে। তুই বুঝোস নাই? তাইলে গজারির লাঠিগুলো দুনিয়াতে আছে কী জন্য? লাঠিগুলারে তো কাজে লাগাতে হবে। বিভিন্ন সময়ে আল্লাহকে নিয়ে যারা কটুক্তি করে, বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদেরকে নসিহত করতে বলবেন না। সবসময় সোজা আঙুল দিয়ে ঘি উঠে না। এইজন্য অনেক সময় গজারির লাঠি দিয়াও সোজা করতে হয়। কেয়ামতের দিন এরকম বহু মানুষ মিলবে যারা জান্নাতে যাইতে চায় না, অথচ মুজাহিদরা শিকল দিয়া বাইন্ধা জান্নাতে নিয়ে গেছে। তারা সহজ পথে তো সোজা হয় নাই। গজারির লাঠি দিয়া এইগুলারে সোজা করা হইছে।”
বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে যে পরস্পর সহমর্মিতাবোধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা কাজ করে সাম্প্রদায়িক, অসহিষ্ণু ওয়াজ এবং বক্তৃতার মাধ্যমে সেই সম্প্রীতিতে তৈরী করা হয় কৃত্রিম ফাটল। জঙ্গিবাদ এবং অসহিষ্ণুতা বিস্তার করার জন্য বর্তমান সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে কোমলমতি শিশুদেরকেও। তাদেরকে ভয়ঙ্কর ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক কিছু কথা মুখস্থ করিয়ে তুলে দেওয়া হয় স্টেজে। শিশু বক্তা স্টেজে উঠেই হুকুমের সুরে বলতে থাকে কী বর্জন করতে হবে আর কী গ্রহণ করতে হবে।
নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার বাইতুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসার ৬ বছর বয়সী ছাত্র সোহানুর রহমান সোহান। একটি ওয়াজ মাহফিলে তাকে বক্তা হিসেবে দাড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে মাইক্রোফোনের সামনে। সে কী বলবে আগে থেকেই তাকে তা মুখস্থ করানো হয়েছে। শিশুবক্তা সোহানুর রহমান সোহান গড়গড় করে বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার মানুষদের সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে থাকে স্টেজে।
শিশুবক্তা বলেন, “উপস্থিত সকল তরুণ-যুবক ভাইয়েরা। আমরা আজকে রাস্তাঘাটে, দোকান-পাটে, গাড়িতে-বাড়িতে, সমাজে, দেশের সর্বস্তরে একটা কথা শুনতে পাই, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষাই জাতির প্রাণ।’ তার মধ্যে কোন শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, কোন শিক্ষা জাতির প্রাণ? যেমন মনে করেন, কবি শামসুর রাহমান, তার শিক্ষা কি জাতির প্রাণ? হুমায়ুন আজাদের শিক্ষা কি জাতির মেরুদন্ড? তসলিমা নাসরিনের শিক্ষা কি জাতির প্রাণ?”
তৎক্ষনাৎ মজলিশ থেকে ভেসে আসে সমস্বরে উত্তরÑ ‘না না’।
যে শিক্ষা ইসলামের বিরুদ্ধে, যে শিক্ষা নবীর বিরুদ্ধে, কোরাআনের বিরুদ্ধে, হাদিসের বিরুদ্ধে, সাহাবি একরামদের বিরুদ্ধে, আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে, মসজিদ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে, মুসলমানগনের বিরুদ্ধে চলে সেটা কোনোদিন জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে না, পারে না, পারে না। কথা বলেন ঠিক কিনা? সাথে সাথে জমায়েতের ভিতর থেকে অসহিষ্ণুভাবে স্লোগান ওঠে, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর।
শিশুবক্তা তার বক্তৃতার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রগতিশীল বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ধারাকে প্রত্যাখান করার আহ্বান জানান এবং দেশের মানুষকে গ্রহণ করতে বলেন মধ্যযুগীয় শিক্ষা।
শিশুবক্তা আরো বলেন, “যেই শিক্ষা লাভ করেছেন চরমোনাইর পীর শাইখুল হাদিস আল্লামা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, যেই শিক্ষা লাভ করেছেন মুফতি আমেনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, সেই শিক্ষাই জাতির প্রাণ। কথা বলেন ঠিক কিনা?” শ্রোতারা গলা ফাটিয়ে নারায়ে তাকবির স্লোগানের মাধ্যমে উত্তর দেয়।
ওয়াজকারি এসব তথাকথিত আলেম ওলামাদের কথা মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে। এ ব্যাপারে সমাজবিজ্ঞানী ড. সামিনা লুৎফা বলেন, “আলেম ওলামাদের কথা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বিশ্বাস করে। তারা ভাবে আলেম ওলামারা জ্ঞানী মানুষ তারা কখনো ভুল বলেন না। সুতরাং তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় এবং এই প্রতিক্রিয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে।”
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০২২ সকাল ১১:০৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলে গেছো তাতে কি? নতুন একটা পেয়েছি, তোমার চেয়ে করে বেশী চাঁন্দাবাজিইইই....

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৭

আমি কবিতা লিখি না কখনও। চেষ্টাও করি না। আমি মূলত কবিতা অপছন্দ করি। কিন্তু....



আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, তখন স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতার সময় নিজের লেখা গল্প-কবিতা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×