
বৃটিশ আমলে আসানসোল মহকুমা প্রশাসক মাইকেল ক্যারিটকে এক পাঞ্জাবি ঠিকাদার বলেছিল ‘হুজুর এদেশে তিন ধরনের মানুষ আছে।
১.যারা ঘুষ খায় না।
২.যারা ঘুষ খায় এবং কাজ করে।
৩. এই দলে আছে কিছু শুয়োরের বাচ্চা, যারা ঘুষ খায় কিন্তু কাজ করে দেয় না।
ড. আকবর আলি খানের ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ বইয়ের একটা প্রবন্ধের নাম হচ্ছে 'শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি'। যেখানে তিনি মূলত সেই সব ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যারা ঘুষ খায় কিন্তু কাজ করেনা,তত্ত্বের উৎপত্তি মূলত উপরোক্ত গল্প থেকেই।
এটা তো ইতিহাস থেকে একটা গল্প শুনলেন, এবার আপনাদের শুনাবো বর্তমানের একেবারে উল্টো একটা গল্প।
কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোক তার উপর করা এক প্রভাবশালীর মিথ্যা মামলা থেকে বাচতে ব্যাংক থেকে লোন তুলে তদন্ত কর্মকর্তাকে উৎকোচ বাবদ কিছু টাকা দিলেন,এবং বাকি টাকা চার্জশীট দেওয়ার পর দিবেন বলে ওয়াদা করলেন।
কিন্তু চার্জশীটে দেখা গেলো ভদ্রলোককে রেহাই দেওয়াতো হয়নিই বরং অক্টোপাসের মতো আইনের ধারাগুলি উনার আপাদমস্তক জড়িয়ে আছে, ভদ্রলোক মনে মনে নয় বেশ জোরেশোরেই বললেন "এ্য তো দেখি শুয়রকা বাচ্চা নিকলা "।তদন্ত কর্মকর্তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে কপালে যা আছে তাই হবে ভেবে তিনি ভারাক্রান্ত মন আর ক্লান্ত দেহ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
(এখন আসল ক্লাইম্যাক্স, প্রস্তুত তো?)
ভদ্রলোক শুয়ে আছেন, হঠাৎ সেই তদন্ত কর্মকর্তার কল আসলো, তিনি ভদ্রলোকের কাছে মাফি চেয়ে যা বললেন তার সারমর্ম হলো,থানার বড়বাবু (শুয়রের বাচ্চা) বাদীর কাছ থেকে বিবাদীর উপর এজহারে বর্ণিত অভিযোগ আর ধারাগুলি চার্জশীটে বহাল রাখার শর্তে বড় অংকের উৎকোচ গ্রহণ করায় বিবাদীর দেওয়া অল্প কয়টা টাকা ধোপে ঠিকেনি, এবং.........তিনি এখন সেই টাকাগুলা বাদিকে ফেরত দিতে চান।
এটাও সম্ভব? আশ্চর্য!
ভদ্রলোক হাতে টাকা পেয়ে যারপরনাই খুশি, তিনিতো অবাক যে বাংলাদেশে এমনও "সৎ" পুলিশ অফিসার আছে,যে ঘুষ নিয়েও কাজ করতে না পারায় তা ফেরত দেয়।
নিজের ভবিষ্যত জেল কাটার দুশ্চিন্তা ভুলে ভদ্রলোক টাকা ফেরত পাওয়ার আনন্দে আনন্দিত আর পুলিশের "সততায়" বিস্মিত .
আসলেই আমাদের দেশে এখনো "সৎ" পুলিশ আছে।সব তো আর "শুয়রের বাচ্চা" না

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

