somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিখা রহমান
কবিতা প্রেমী; একটু এলোমেলো; উড়নচণ্ডী; আর বই ভালবাসি। শব্দ নিয়ে খেলা আমার বড্ড প্রিয়। গল্প-কবিতা-মুক্ত গদ্য সব লিখতেই ভালো লাগে। "কেননা লেখার চেয়ে ভালো ফক্কিকারি কিছু জানা নেই আর।"

একছড়া তেঁতুল বা একটি হরিণের কাহিনী

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১.
- ভাই যাই বলেন পিঠটা কিন্তু সুন্দর!! না তাকায়ে থাকা কঠিন...হাহা হা হা!!!
- আজ অনেকদিন পরে আবার সেই সৌন্দর্য দেখলেন...হাহা হা!!!
- আরে তেঁতুল নাতো একেবারে তেঁতুলের আচার!!
- এভাবে বইলেন না তো। এমনিতেই আমি ইদানিং চটপটি ঠিকমতো খাইতে পারতেছি না, তেতুলের পানি বাদ দিছি। মেয়েদের ভাই আমি খুবই সম্মান করি!!!

অপালা দুই কিউবিকল পরে উঠে দাড়াতেই ওর দুই কলিগ হাসি গিলে ফেললো; চেহারায় একটু অপ্রস্তুত ভাব। অপালারই আসলে খুব বাজে লাগছে; মনে হচ্ছে ওই চুরি করে এইসব কথোপকথন শুনে ফেলেছে। এমডির অফিসে ছিলো; একটা ফাইল নিতে যে ও আবার ডেস্কে এসেছে ওনারা দুজন দেখেননি। কিন্তু অপালার না উঠেও উপায় ছিলো না; এমডি সাহেব ফাইলটা জরুরী ভাবে চেয়েছেন; একটু ফিগারগুলো চেক করতেই ডেস্কে বসা।

ও শাড়ির আচলটা টেনে পিঠের ওপরে দিলো। ওদের পাশ ঘেঁষে যেতে যেতে অপালার মনে হচ্ছিলো সবার জোড়া জোড়া চোখ ওর পিঠে বিধছে। রুমে ঢোকার পরে এমডি মাহমুদ সাহেব বললেন “কি ব্যাপার অপালা? আপনি ঠিক আছেন তো?” মনে হয় ওর পাংশু মুখ বলে দিচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই।

মাহমুদ সাহেব মানুষটা ভালো। ওর ঝামেলার সময় বেশ সাপোর্ট দিয়েছেন, অন্যদের মতো আজেবাজে মন্তব্য ছোড়েননি বা দৃষ্টি দিয়ে বুঝিয়ে দেননি যে ও একটা মাংসের টুকরো ছাড়া আর কিছুই নয়। তারপরেও অপালার মাহমুদ সাহেবের মতো মানুষদের ভালো লাগে না। পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এই ধরনের মানুষদের চিন্তা ভাবনা খুবই গা ছাড়া, প্রশ্রয় দেয়া। ঠিক যেন মাঠে খেলতে গিয়ে বাচ্চারা পড়ে গেলে মা বাবা যেমন সান্ত্বনা দেয় তেমনটা; কিন্তু অপালার সাথে যা ঘটেছে সেটা তো দৈব দুর্বিপাক নয়, সেটা অন্যায়, আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২.
সারি সারি পা; বেশীর ভাগ পায়েই জোড়া জোড়া স্যান্ডেল; পাজামা পাঞ্জাবীর সাথেতো চটি স্যান্ডেলই মানায়। শুধু একটা কেডস, হালকা নীল জিন্সের নীচে কেডসে কালোর পাশে লাল বর্ডার, লাল ফিতা বাঁধা; আর এক জোড়া জুতা কালো বা গাঢ় খয়েরী, চকচকে ভাবের ওপরে হালকা ধুলোর প্রলেপ। অপালা মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে; চারপাশে মানুষগুলো হল্লা করছে; দুরে গান বাজছে “এসো হে বৈশাখ…এসো এসো…”

বাতাসে উৎসবের আমেজ, আনন্দের গন্ধ। শুধু অপালার নগ্ন পিঠে হাজার হাজার অচেনা অজানা আঙ্গুলের স্পর্শ; কর্কশ হাত ছিড়ে ফেলেছে ওর ব্লাউস; লাল ব্লাউস; লাল শাদা শাড়ির আঁচল স্তুপ করে অপালা নুয়ে আছে; বুক ঢেকে আছে। কোথাও আসলামের কন্ঠ আর্তনাদ করছে “একি কি করছেন আপনারা? ছাড়ুন আমাকে, প্লিজ সরে যান…আমার স্ত্রীর কাছে যেতে দেন প্লিজ!! প্লিজ!!! অপালা…অপালা…”

অপালা মুখ তোলে; চারপাশে রঙ বেরঙের মুখোশ পরা মানুষ; কারো মুখ দেখা যাচ্ছে না কেন? ও নগ্ন দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি মুখোশের মাঝে। মুখ ঢাকা, চোখ নেই। তবে এতো ভয় লাগছে কেন? মুখোশের আড়ালে কি ভাবে ও দেখছে মানুষগুলোর লোলুপ চোখ; জিহ্বা বের করে পুরু ঠোঁট চাটা। চারপাশ থেকে হাতগুলো ওকে ছুঁয়ে দিচ্ছে; আঙ্গুলে লালা ঝরছে কি? প্লিজ ছুঁয়ো না…প্লিজ!!

গান বাজছে “তাপস নিঃশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে…বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক…যাক…যাক…” অপালা প্রানপনে চেষ্টা করছে হাত গুলো এড়াতে; চারপাশে শত শত হাত, হাজার হাজার আঙ্গুল ওকে ছোবার জন্য কিলবিল করছে। পারছে কই? ও হেরে যাচ্ছে। নিজেকে বড্ড অপবিত্র লাগছে, গা ঘিনঘিন করছে। অপালা ঠিক এই মুহূর্তে ঘুম থেকে জেগে ওঠে; ঘামে শরীর, বিছানা বালিশ ভিজে শেষ।

অফিসে লাঞ্চের পরে অফিসে ঝিমুনি আসতেই ও চমকে ওঠে। গতকাল রাতেও অপালা দুঃস্বপ্নটা দেখেছে; জেগে উঠে বাকী রাতটা চুপচাপ দিনের অপেক্ষা। ভোরের আলো জানালায় হলদে আভা ফেলতেই আরেকটা দুঃস্বপ্নের শুরু; সুড়ঙ্গের শেষে আলো সবার কাম্য নয়। সুড়ঙ্গ থেকে বের হলেই মস্ত বড় পৃথিবী; অপালা সেই পৃথিবীর মুখোমুখি হতে চায় না।

৩.
ফেব্রুয়ারী মাস; বইমেলা শুরু হয়ে গেছে। কয়েকদিন ধরেই আসলাম যেতে চাইছে; আজ বিকেলে অফিস থেকেই ওর সাথে চলে যাবে ভেবে শাড়ি পরা। আসলাম দেখলে খুশী হবে; অপালাকে শাড়ীতে খুবই মানায়। দোতলার সিড়ি ভেঙ্গে বাইরে পা রাখতেই রোদ পড়লো ওর পিঠে; বেলা নয়টার একটু তেতে ওঠা বাতাস ছুঁয়ে গেলো ওর মসৃণ পিঠ। অনেক দিন, প্রায় দশ মাস পরে অপালা শাড়ী পড়লো।

এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের সামনে রেহানা ভাবী আর সোমা আপা রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে; বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। আগে হলে অপালা টুকটাক কথা বলতো বা নিদেন পক্ষে একটা সৌজন্যমূলক হাসি। এখন চোখ এড়িয়ে চোরের মতো রাস্তায় রিক্সা খোঁজার ভান করা যেন ওরা পরষ্পরকে তেমন একটা চেনে না। সোমা আপার জন্য অপালার মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ হয়; পুরো বিল্ডিংয়ে এই একটা মানুষের সাথেই ও একটু মন খুলে কথা বলতো। আর সেই সোমা আপাই কি বদলে গেলেন!!

একা একা লাগছিলো, আসলাম কি একটা কাজে বাইরে। আপার বাসা কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে উনি এমন চমকে উঠলেন যে অপালার খারাপই লাগলো।
- আপা ভালো আছেন?
- হ্যা…তুমি হঠাৎ কি মনে করে? আপার গলা একটু রুক্ষ শোনায়; তাও অপালা বোঝেনি।
- নাহ অনেকদিন জম্পেশ গল্প করা হয় না…তাই একটু এলাম। আপনি কি ব্যস্ত?
- ব্যস্ত নই কিন্তু...

অপালা আগের মতো দুষ্টামি করে “আপা কি ব্যাপার? লোকমান ভাই বাসায় নাকি? রোমান্টিক সময় কাটাচ্ছেন?” আপার মুখ খুব কঠিন হয়ে যায়।
- শোনো অপালা তোমাকে কিছু কথা সরাসরি বলি। আমি চাই না যে তুমি আর আমার বাসায় আসো বা আমার সাথে কথা বলো। বিশেষ করে তুমি লোকমানের সাথে একদমই কথা বলার চেষ্টা করবে না। তোমার মতো মেয়েদের আমার চেনা হয়ে গেছে…
- আমার মতো মেয়ে?
- মেলায় এতো মানুষ যায় তোমার সাথেই এমন হবে কেন? পুরুষদের গা দেখিয়ে কাছে ডাকা মেয়েদের দলে তুমি…ছি ছি!! ছিহ!!

সোমা আপা মুখের ওপরে দরজা বন্ধ করে দিলেন। অপালার আগেই বোঝা উচিত ছিলো; পুরোটা সময় উনি দরজা আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন, একবারো ঘরে ঢুকতে বলেননি, যেন ও কোন ব্যাধিগ্রস্থ মানুষ, ভয়ংকর ছোঁয়াচে রুগী। বাসায় ফিরে ও কি যে কেদেছিলো!!! চারপাশের চেনা পৃথিবী কয়েক ঘণ্টায় এমন বদলে যেতে পারে??

এমন কথা এরপরেও অনেকেই সামনাসামনি বা আড়ালে আবডালে বলেছে “অতো সাজগোজ করে মেলায় যাবার কি দরকার?” “এভাবে গা দেখালে তো ছেলেরা গায়ে হাত দিতে চাইবেই!!! ছেলেদের আর কি দোষ?” “যাই বলেন ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে একটা বেসিক ডিফারেন্সতো আছেই… সেটা অস্বীকার করেতো আর চলা যায় না। একটা ছেলে খালি গায়ে ঘুরতে পারে তাই বলে একটা মেয়ে কি তাই করতে পারবে?”

অপালা এমন কি পরেছিলো সেই দিন অনেক ভেবেও বুঝতে পারেনি। লাল শাদা শাড়ী; লাল ব্লাউজ। তবে হ্যা…ব্লাউজ হয়তো কোমর ঢাকা লম্বা ছিলো না, তবে বলিউডি ফিতা ষ্টাইল অনেক ছোটও না; ফুল হাতা না, কনুই পর্যন্ত। ওর কোমর ছোয়া রেশমী চুল পিঠ ঢেকে ছিলো; পিঠ খোলা ছিলো নাতো। অপালা খুব সুন্দরী নয়; সাধারন বাঙ্গালী মেয়েদের চেয়ে উচ্চতা বেশী, পাঁচ পাঁচ হবে। চওড়া কাধ; সরল চোখ; একটু খাঁড়া নাক; আত্মপ্রত্যয়ী একজোড়া ঠোঁট। সরাসরি দৃষ্টির মতো কথাও সরাসরি বলে। একটু রাজকীয়; অনেক মেয়ের মধ্যে ওকে চোখে পড়বেই। মানুষ অপালার মধ্যে তেমন অস্পষ্টতা নেই। তবে বিধাতা ওর সৌন্দর্যের মাঝে অস্পষ্টতা দিয়ে দিয়েছেন; কোথাও একটু অধরা লাবন্য আছে, ধরা যাবে না জেনেও কাছে যেতে ইচ্ছা করে।

সেদিন না পরলেও অপালা অফিসে বা বাইরে জিন্স ফতুয়া পরে; কখনো কখনো হাতকাটা টপস বা ব্লাউজ। শরীর নিয়ে ওর তেমন শুচিবাই নেই; যা ভালো লাগে চিন্তা না করেই পড়ে। হাতকাটা জামা পড়লে চুলগুলো যখন মাঝে মাঝে ওর মোমবাতির আলোর মতো কোমল বাহু ছুঁয়ে যায় ওর নিজেকে বড্ড সুন্দর লাগে। ঠিক যখন শার্টের বোতাম খুলে একজন পুরুষ তার বুকের লোম দেখায় তখন যেমন তার নিজেকে পুরুষালী মনে হয় তেমনটা।

অপালা আর কেউ কথা না বললে আগ বাড়িয়ে কথা বলে না। ওই লোভী আঙ্গুলগুলো অপালাকে অচ্ছুৎ করে দিয়েছে। কিভাবে সেটা ও আজও ভেবে পায় না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শত শত ছবি, ভিডিও; ফেসবুকে, ফোনে, টেলিভিশনের পর্দায়, খবরের কাগজে অপালা; সোশাল মিডিয়াতে ঝড়, হাজার হাজার শেয়ার, লক্ষ লক্ষ লাইক; প্রেস ক্লাবের সামনে উদ্ধারকারীদের ভাষণ, প্রশংসার বন্যা।

অসংখ্য ভিডিওতে, ছবিতে ওই পশুগুলোর মুখ; মেয়েদের কাপড় ছিঁড়ে ফেলছে, অশালীন হাতগুলো বেপরোয়া ভাবে শরীরের খাজে খাজে। অথচ ওই জানোয়ার গুলোর শাস্তি হলো কই? পুলিশ লোক দেখানোর জন্য চার পাঁচ জনকে গ্রেফতার করলো, আবার ছেড়েও দিলো। তবে কি অপালা একাই ওই পশুগুলোর মুখ দেখতে পায়? অন্যেরা কি ওদের দেখতে পায় না নাকি সবাই শুধু দেখছে অপালার খোলা পিঠ, সুন্দর কফি রঙের পিঠ, ওর ছটফটিয়ে ওঠা মরাল গ্রীবা, লজ্জায় ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া অর্ধনগ্ন শরীর। আশ্চর্য!!! ওর কষ্ট, ওর লজ্জা, ওর সমস্ত পৃথিবী ভেঙ্গে পড়া, বা বছরের প্রথম দিনটিতে মনুষ্যত্বের ওপরে বিশ্বাস হারানো কি কেউ দেখতে পায় না?

৪.
অফিস থেকে মাহমুদ সাহেবকে বলে অপালা একটু আগেই বেরিয়ে গেলো। অপালার আসলেই শাড়ী পরে আর ভালো লাগছে না; মনে হচ্ছে সবাই ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে হাসছে। বাসায় গিয়ে শাড়ী খুলে ফেলবে; আজ মনে হয় বই মেলায় যাবে না। গলির মোড়ে রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিতেই জোর শীষের শব্দ। হালকা গানের কলি ভাঁজা শীষ না, মুখে আঙ্গুল পুরে কুকুর ডাকা শীষ। এই শীষে হালকা আনন্দের ছোঁয়া নেই, আছে অশ্লীল ভাবে কাছে ডাকা হুকুম।

অপালা ঘুরে দেখতেই মোড়ে জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা বখাটেদের মুখে হালকা হাসির আভা; চোখের লোলুপ দৃষ্টি বলছে “শীষে কাজ হয়েছে…শিকার চোখে চোখ রেখেছে…আব আয়েগা মজা…” ও তাকিয়ে থাকতে থাকতেই মন্তব্য কানে এলো “এই সব চরিত্র খারাপ মেয়ে মানুষদের জন্য পাড়ার ছেলেপুলে নষ্ট হইয়া যাইতেছে…” “হরিন নাচতে নাচতে বাঘের সামনে যাইবো আর বাঘ চাইয়া চাইয়া দেখবে এমন কথা কেউ কোনদিন শুনছে?” পাড়ার কয়েকজন মুরব্বী আসরের নামাজ সেরে মসজিদ থেকে হেঁটে ফিরছেন।

অপালার হঠাৎ হাসি পেলো। অবশেষে পদোন্নতি, তেঁতুল থেকে হরিণ। ওনারা বিজ্ঞ প্রবীন বলেই না এমন সুন্দর কথা বলতে পেরেছেন; পরনের শ্বেত বসনের মতো ওনাদের মনটাও শুভ্র…হা হা হা!! ও নিজের অজান্তেই জোরে হেসে ফেলে চমকে গেলো। বখাটে ছেলেগুলো কেমন ভড়কে গেছে; মুরুব্বীদের চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়। আশেপাশের সবার চেহারা দেখে অপালার আরো হাসি পেলো।

অপালা হাসি থামাতে পারছে না; হাসতে হাসতে ও বাসার দিকে পা বাড়ালো। ও বুঝতে পেরে গেছে কেন সবাই এমন? কেন এই অদ্ভুত সমাজ ডাকাতি হবার পরে গৃহস্থকে বলে তোমার বাসায় এতো সুদৃশ্য দরজা কেন? চুরিতো হবেই, তুমি ডাকাতকে দরজার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করেছো। দরজা পালটে ফেলা যত সহজ চোর ডাকাত ধরা এতো সহজ নয়; চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী।

একজনের দিকে আঙ্গুল তুলে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়; না হলে যে সবাইকে দায়ভার নিতে হয়, স্বীকার করতেই হয় এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুন ধরেছে। এই ভালো!!! ভেবে নেয়া সব ঠিক আছে; দোষ সেই মেয়েটির যে সুন্দর করে সেজেছে, শরীরের বাঁকে যে যৌবন হাতছানি দেয় সেতো অনাহূত ছোয়া পাবার জন্যই। ওই পঙ্কিল আঙ্গুল গুলোর আর দোষ কি?

৫.
আসলাম বাসায় ফিরে অবাক হয়ে অপালাকে দেখছে। টকটকে লাল শাড়ী; শাদা কালো হাতকাটা ব্লাউজ। রক্তলাল ঠোঁট; কপালে মস্ত লাল টিপে যেন পলাতক বিকেলের সূর্য। বামপাশে লম্বা বিনুনী; কাজল টানা গভীর কালো চোখে মোহময়ী আহ্বান। বড্ড লাস্যময়ী, বড় ভয়ঙ্করী সুন্দর লাগছে ওকে; ঠিক যেন আগুন ঝরানো ফুলভারে নত শিমুল গাছ।

ও অবাক হয়ে বললো “অপা…তোমার কি হয়েছে? এতো সেজেছো কেন?” অপালা হাসছে; হেসেই যাচ্ছে। সেই হাসির দিকে তাকিয়ে আসলামের কেন যেন গা ছমছম করতে লাগলো।

(ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ৯:২১
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



এক বিদেশি জাহাজ মধুমতি নদীতে একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে।
সেই ডুবে যাওয়া জাহাজ দেখার জন্য শাহেদ জামাল ছুটে চলেছেন- মধুমতি নদীতে। জাহাজ এর নাম স্টিব অস্টিন। শাহেদ জাহাজটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×