"শূ আখবার হাবিবী" (কী খবর বন্ধু) বলে প্রতিদিন দু'চারবার হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় তুর্কী তরুণ এখদিম। প্রতিবেশি পাঁচদোকান পরেই একটি দোকানে কাজ করে সে। তরুণতুর্কী বলে বাংলায় যে শব্দটি পড়ে অজান্তেই উপলব্ধি করেছিলাম তুর্কীদের প্রাণোচ্ছাসের অবারিত হৈ হৈ'য়ের খবর; এখদিমের সারাদিনের চাঞ্ছল্যে তাই মূর্ত হয়ে ওঠে আমার চোখে। আমার সারা বছরের আনন্দ সে সাপ্তাহেই বিলিয়ে দেয় তার চারপাশে।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বিশ্বের সকল বিল্ডিং ব্যবস্থাপনায়ই বাথরুমে ব্যবহার করা হয় 'হাইকমোড'।
বিশেষকরে আমরা বাঙ্গালিরা ঐসব কমোডে কমফোর্ট ফিল করি না। তবুও "পড়েছি মুঘলের হাতে/ খানা খেতে হবে সাথে'র মতো হাই কমোড'ই ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া সব'চে জঘন্যতম যেটা আমার মাথা
খারাপ করে দেয় সেটা হচ্ছে- পেশাবের জন্যে খোলা মিনিকমোডে দাঁড়িয়ে পেশাব করার বাধ্যতামূলক পদ্ধতি। এটা পরিহার করার জন্য আমি কষ্ট করে হলেও একটু অপেক্ষা করে বাথরুমের হাইকমোড'ই ব্যবহার পছন্দ করি।
আমাকে অতি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে দেখে এখদিম বলেই ফেলল,
"হাবিবি, কেফ ছূরা ছূরা ?" (বন্ধু, এতো তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেললে?)
দাঁড়িয়ে যে আমি পছন্দ করি না এটা আমার নাক সিটকানো আর "বাররা সাফাই ওয়াইদ মুশকিলা" (বাইরে পরিষ্কার হওয়া খুবই মুশকিল) বলা থেকে আরও স্পষ্ট বুঝতে পারল এখদিম।
সদাহাস্য টার্কিশ জওয়াব দিল, "ওঁয়্যা---- ইনতা মুসলিম! "
আমিতো পুরাই টাশ! বলে কী! সে মুসলিম নয়? আমার এতোদিনের একীন হাম্মামখানায় লুটিয়ে পড়ল?
ইনতা মাফি মুসলিম? (তুমি মসলিম নও?)
"লা লা, আআনা আলমানী (আমি আলমানী)
ওওও! বা'দিন আনা ইজি (পরে আমি আসব)- বলে হতে সেদিনের মতো চলে আসি।
আসলে আলমানী শব্দের মানে আমার জানা ছিল না। মনে করেছি হয়তো অন্য কোন বাতিল মাজহাব হতে পারে! কতো কিছুই তো দেখলাম এ প্রবাস জীবনে। রাফেজি খারেজি মুতাজিলা শিয়া এদের ইতিহাস তো দেশেই
জানা ছিল কিন্তু বৌরীদের সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। শিয়াদের প্রসবকরা অনেক ফেরকার মধ্যে এ বৌরী'রা জঘন্য-আকীদা পোষণ করে ইসলামের সীমা হতে বেরিয়ে গেছে।
এখদিম কী ওদের কেউ? এমন প্রশ্নে মাথায় উত্তরহীন চক্কর দিচ্ছে। চিন্তার জটে পুরাই ভুলে গেছি ফারুকের কথা! মিশরি বন্ধু ফারুক কাজ করে পাশের Wall Street money exchange- এ। ইখওয়ানুল মুসলিমিনের
দুর্ধর্ষ সাপোর্টার। ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একদিন ফারুকের সাথে প্রসঙ্গক্রমে বলেছিলাম, "ইনশাআল্লাহ, তক্বরিবান খামছিন ছানা বা'দ ইসলামী হুকুমাহ ইজি কুল্লু আলম। ( ইনশাআল্লাহ, অনুমানিক পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ফের ইসলামী হুকুমাত পুরা দুনিয়ায় ফিরে আসবে।)"- এতেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে! সে পঞ্চাশ বছর মানতেই রাজি নয়। তার সুস্পষ্ট বক্তব্য দশ/পনেরো বছরের মধ্যে ইসলাম প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে পশ্চাত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাবে। আর নিশ্চতভাবেই এ যুদ্ধের ফলাফল ইসলামের পক্ষে। মধ্যপ্রাচ্যের পাঠান খ্যাত মজনুন ফারুকের স্বপ্ন আমার মুর্দা বুকে মরু সাইমুম-ঢেউ দিয়ে যায়। কোন একদিন জমিনের তামাম জঞ্জাল ইসলামের পায়ে পিষ্ট নীচে হবে- এ স্বপ্নেই ঘুম ভাঙ্গে আবার ঘুমিয়ে পড়ি আয়েশী'র বিছানায়। ইসলামের জন্য কিছুই করতে পারি না, শুধু নিজের উদরপুর্তি নিয়েই ব্যস্ত; আল্লাহ ক্ষমা কর।
ফারুক আমায় আলমানী'র যে অর্থ জানালো তাতে আমার মাথায় লাটিমের চক্কর!
এখদিম? হু মুলহীদ ; মানে সে স্যকুলার। সোজা বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষ!
এজন্য এখদিম দাঁড়িয়ে পেশাব করে? এজন্য সে পেশাবের পরে পানি খরচ করে না! তবে নাপাকী'ই তার জন্য উত্তম!
আমি ঘৃণায় ককিয়ে উঠি। আমাদের নাপাকিরা তবে কেন এখদিমের মতো স্পষ্ট হতে পারে না। এখদিম তো কোন রাখডাখ না করেই তার পরিচয় প্রকাশ করতে কুণ্ঠিত হয়নি। আমার বাংলায় স্যকুলার নামক নাপাকিরা কেন পারে না একথা বলতে, যারা ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ নাপাকীই তার আদর্শ!
পৃতিবীর তামাম দেশেই secular- এর মানে বুঝায় ধর্মের ব্যাপারে সম্পর্কহীন। তবে আমাদের দেশে এর উল্টো তর্জমা কেন? তবে কী মূর্খ জাতিকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই নাপাকিরা এমন অপকৌশলের আশ্রয় নেয়!
এখদিম আমার চোখ খোলে দেয়! আমার চারপাশের অনেক ছোটবড় secular- দের অসহায় মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠে, যারা না জেনে না বুঝে ঐ নাপাক আদর্শের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে।
প্রভুর দরবারে মিনতি এই, "আল্লাহ, ওদের জ্ঞান দাও! ওদের পর্দা উঠাও।"
আমারও কপাল ভাল, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রেক্টিক্যাল সংজ্ঞা শিখলাম, তাও বাথরুমে!
#কোন ব্যাকরণবিদ আমাদের আরবি আলাপের ভুল ধরবেন না। আমরা এখানে প্রচলিত জবানি আরবি ব্যবহার করি। তাছাড়া আমি আসলে কোনরকম কাজ চালিয়ে নেয়ার মতো টুকটাক শব্দ দিয়েই আমার কাজ চালাই, আরবিতে অদক্ষ ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



